২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
সুশাসন

গণতন্ত্র ও নির্বাচন

-

‘গণতন্ত্র’ বলতে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনকে বোঝায়। বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও শাসনব্যবস্থায় ভিন্নতা রয়েছে। আমাদের দেশে যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসৃত হয়, এটিকে বলা হয় ‘ওয়েস্টমিনস্টার টাইপ অব ডেমোক্র্যাসি।’ পদ্ধতিটি যুক্তরাজ্যে প্রবর্তিত হয় প্রথম। লন্ডনে অবস্থিত ওয়েস্টমিনস্টার রাজপ্রাসাদ হতে ওয়েস্টমিনস্টার শব্দটি উদ্ভূত, বর্তমানে যা ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাদের দেশের পার্লামেন্ট সংসদ নামে অভিহিত। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সদস্যরা দেশটির একক নির্বাচনী এলাকাগুলো থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী নির্বাচিত। আমাদের দেশের সংসদ সদস্যরাও একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাগুলো থেকে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত, যদিও আমাদের দেশে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসনের সদস্যরা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সদস্যদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে নির্বাচিত হন। মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত থাকলেও তা একজন মহিলাকে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের জন্য উন্মুক্ত ৩০০ আসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বারিত করে না।

বাংলাদেশে যে সংসদ সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন মর্মে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হন, রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দান করেন। যুক্তরাজ্যে এরূপ ব্যক্তিকে সে দেশের রাজা বা রানী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দান করেন। যুক্তরাজ্যের মতো আমাদের দেশেও মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ এবং রাষ্ট্রপতি ও জেলা পরিষদ ব্যতীত স্থানীয় শাসনব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এসব নির্বাচনে একজন ব্যক্তি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চাইলে তার যেসব যোগ্যতার প্রয়োজন তা হলোÑ (ক) তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে; (খ) বয়স ১৮ বছরের নি¤েœ হতে পারবে না; (গ) কোনো আদালত কর্তৃক তিনি অপ্রকৃতস্থ ঘোষিত নন এবং (ঘ) তিনি একটি নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত। তা ছাড়া নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ এবং নির্বাচনগুলো পরিচালনায় ভোটার তালিকা প্রস্তুত করার দায়িত্ব পালন করে থাকে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন ভোটার ব্যালট পেপারে সিল প্রয়োগ করে অথবা ইভিএমের মাধ্যমে বাটন চেপে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন হলো সংবিধান এবং সংবিধানের ভূমিকা বা প্রস্তাবনাকে বলা হয় সংবিধানের প্রাণ। সংবিধানে প্রস্তাবনা ও একাধিক স্থানে গণতন্ত্র ও নির্বাচনের ওপর সমধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা- যেখানে সব নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে। এ দুু’টি বিষয়ে সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে এবং প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

উভয় বিষয়ে সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে স্থানীয় শাসনব্যবস্থার অধীন পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হবে।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্র্বাচনের মাধ্যমে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলনে সংসদ ও স্থানীয় শাসনব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো গঠিত হয়।

আমাদের দেশে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১১টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে সাতটি নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীন এবং চারটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় সরকারের সময়ের সাতটি নির্বাচনের প্রতিটিতেই ক্ষমতাসীন দলীয় সরকার দুই-তৃতীয়াংশের অধিক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজয়ী হয়েছে, অপর দিকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের কোনোটিতেই নির্বাচনের অব্যবহিত পূর্বে যে দলীয় সরকার ক্ষমতাসীন ছিল, তারা বিজয়ী হতে পারেননি। দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচনে সুষ্ঠু হয় না- দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর এ দাবি বাস্তবায়নে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এ দেশে সংসদ ভেঙে গেলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান প্রবর্তিত হয়েছিল।

এরূপ নির্দলীয় সরকারের অধীনে সপ্তম ও অষ্টম সংসদ নির্বাচন হয়েছে। এ দু’টি নির্বাচনের প্রথমোক্তটিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট এবং শেষোক্তটিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বিজয়ী হয়। নবম সংসদ নির্বাচন সেনাসমর্থিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় যদিও এ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধান সম্মত পন্থায় গঠিত হয়নি। এ কথা অনস্বীকার্য যে, এ দেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অনেকটা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের একক সিদ্ধান্তে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের জনমতের উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা রহিত করে ক্ষমতাসীন দলীয় সরকারের অধীনে এবং সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান করা হয়। এ বিধান প্রবর্তনের পর দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দশম সংসদ নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ভোটের জন্য উন্মুক্ত ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৪ আসনের প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনটি দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট বর্জন করার কারণে এটি অনেকটা একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনটিতে যে ১৫৬টি আসনে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয় তাতে বেশির ভাগ আসনেই অত্যন্ত নগণ্য সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করা যায়, যদিও এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত ভোটের হারের বিষয়ে জনমনে অসন্তোষ ও অবিশ্বাস তীব্র।

আমাদের সংবিধানে সংসদের গঠন বিষয়ে ৬৫(২) অনুচ্ছেদে যে বিধানের উল্লেখ রয়েছে, দশম সংসদ নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ভোটের জন্য উন্মুক্ত আসনের অর্ধেকের চেয়েও অধিক আসনের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় সংসদটি সংবিধানসম্মত উপায়ে গঠিত হয়েছে কি না- এ প্রশ্নটির উদয় হয়। তা ছাড়া ভোটার উপস্থিতির অতি নি¤œহার নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি অংশ নিলেও এ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণ শুরুর প্রাক্কালেই আগের মধ্যরাতে বেশির ভাগ আসনের ভোটের একটি বড় অংশের ব্যালট কেটে সিল মেরে ভোটের বাক্স পূর্ণ করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ভোটপর্বকালে দেখা যায়, অত্যন্ত নগণ্য সংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ করা হয়। এ নির্বাচনটিতে যেসব আসনে আগের দিনের মধ্যরাতে ব্যালট কেটে সিল মেরে ভোটের বাক্স পূর্ণ করা হয়েছিল, সেসব আসনে ভোটার উপস্থিতির হার একেবারেই নগণ্য ছিল। দশম সংসদ নির্বাচনের মতো এ সংসদ নির্বাচনটিকেও সাংবিধানিকভাবে বৈধ আখ্যা দেয়া নিয়ে নানাবিধ প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।

দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানÑ পরবর্তীকালে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বদ্ধমূল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে, ভোটের ফলাফল নির্ধারণে জনমত ও জনসমর্থনের চেয়ে ক্ষমতাসীন দলীয় সরকারের আকাক্সক্ষাই মুখ্য।

বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংসদ নির্বাচনের মতো ঢাকা সিটি করপোরেশনসহ দেশের অপরাপর সিটি করপোরেশন এবং উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ করা যায়, ক্ষমতাসীন দলীয় সরকারের আকাক্সক্ষার বাইরে অপর কোনো দলের সমর্থিত প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণে ভোটার উপস্থিতির নগণ্য হার প্রচলিত নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর ভোটারদের আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ। জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন ব্যয়বহুল। নির্বাচনের এ ব্যয় জনগণের প্রদত্ত কর হতে নির্বাহ করা হয়। যেকোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জনমতের প্রতিফলন না ঘটলে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জন-আস্থায় ভাটা পড়ে।

মধ্যরাতে ব্যালট কেটে সিল মেরে ভোটের বাক্স পূর্ণ করার প্রবৃত্তি নিরোধকল্পে নির্বাচন কমিশন ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকার দু’টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শতভাগ ভোট কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। আনুষ্ঠানিক ভোট অনুষ্ঠানের আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল, এ ব্যবস্থা মধ্যরাতে ব্যালট কেটে সিল মেরে ভোটের বাক্স পূর্ণ করার প্রবণতা রোধ করে ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করে জনমতের প্রতিফলনে প্রার্থী নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করবে। কিন্তু এ দু’টি নির্বাচনে দেখা গেল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিন প্রায় শতভাগ কেন্দ্রে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের পোলিং এজেন্টের ভোটকক্ষে অনুপস্থিতি। এই দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক তাদের পোলিং এজেন্টদের ভোটকক্ষে উপস্থিতি হতে নিবৃত্ত করা হয়।

এ দু’টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেখা গেছে ক্ষমতাসীন দলীয় সরকারের সমর্থিত প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাপক উপস্থিতি। ভোটগ্রহণকালে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের ভেতর কারা অবস্থান করতে পারবেন এবং ভোটকেন্দ্রের কত দূরে ভোটক্যাম্প স্থাপন করে ভোটারদের ভোটার সিøপ প্রদানে সহায়তা করা যাবে- সেটি আইন ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত। কিন্তু এ দু’টি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে কোথাও আইন ও বিধির তোয়াক্কা ছিল না। বিপুল ব্যয়ে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করে ফলাফল যদি ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের অনুরূপ হয় সেক্ষেত্রে ইভিএমের যৌক্তিকতা কোথায়?

যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমানুষের সমর্থনের অনুপস্থিতিতে, বিতর্কিত নির্বাচনী ব্যবস্থা ও কলুষিত নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় ও স্থানীয় শাসনব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে তা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পায় না। এ ধরনের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও নির্বাচন সুশাসনের অন্তরায় এবং দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলাহীনতার সহায়ক। দীর্ঘদিন এ ধরনের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও নির্বাচন চলতে থাকলে দেশ ও জাতির বিবেক, নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ব্যাপক হানি ঘটে, যা প্রকারান্তরে সত্য ও ন্যায়ের পথকে অবদমিত করে রাখে। আমরা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী ব্যবস্থা ও জনমতের প্রকৃত প্রতিফলনে নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জাতীয় ও স্থানীয় শাসনব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্ব ন্যস্ত করতে পারলে, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের পরে সংবিধান রচিত হয়েছিল তা পূরণ হবে। অন্যথায় অপরাজনীতির ঘূর্ণিপাকে আমরা অমানিশার এমন অতলগহ্বরে নিপতিত হবো, যা থেকে উত্তরণ কঠিন হবে।

লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
E-mail: [email protected]


আরো সংবাদ

সীমান্তে মাইন, মুংডুতে ৩৪ ট্যাংক (১০৪৭২)কেন বন্ধু প্রতিবেশীরা ভারতকে ছেড়ে যাচ্ছে? (৭৮৫০)সৌদি রাজতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করে সৌদি আরবে বিরোধী দল গঠন (৭৬৭৩)ঐক্যবদ্ধ হামাস-ফাতাহ, ১৫ বছর পর ফিলিস্তিনে ভোট (৫৪৮৯)সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে গণধর্ষণ ছাত্রলীগ কর্মীদের (৫১৪৯)৫৪,০০০ রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দিতে সৌদি চাপ : কী করবে বাংলাদেশ (৫০১৬)আ’লীগ দলীয় প্রার্থী যোগ দিলেন স্বতন্ত্র এমপির সাথে (৪৪৭৬)কাশ্মিরিরা নিজেদের ভারতীয় বলে মনে করে না : ফারুক আবদুল্লাহ (৪৪৫২)কক্সবাজারের প্রায় ১৪০০ পুলিশ সদস্যকে একযোগে বদলি (৪০৮৮)বিরাট-অনুস্কাকে নিয়ে কুৎসিত মন্তব্য গাভাস্কারের, ভারত জুড়ে তোলপাড় (৩৯১০)