০৫ এপ্রিল ২০২০

করুণাই এখন জরুরি

-

করোনা নিয়ে সার্ক নেতাদের মধ্যে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বললেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আমরা একসাথে কাজ করব, একসাথে প্রস্তুতি নেব এবং একসাথে জয়লাভ করব।’ বিজেপির এই নেতার এমন সুস্পষ্ট আশ্বাস প্রশংসনীয়। মোদির ব্যাপারে এমন ধারণা প্রচলিত হয়ে গেছে যে, তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার হয়ে উঠতে পারেননি এবং প্রধানত নিজ ধর্মমত ও তার অনুসারীদের বেশি কল্যাণকামী। সার্কের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মানুষের কল্যাণে যে আশ্বাস তিনি দিয়েছেন নিজ দেশে একই ধরনের অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যাশা দিলে, সেটি আরো বেশি প্রশংসিত হতো। করোনা মোকাবেলায় তিনি যে ‘জয়ের’ কথা বলেছেন, সেটা ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও জোর দিয়ে বলা হচ্ছে, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ‘আমরা পুরোপুরি তৈরি আছি’।

সারা বিশ্বে করোনা নামের ভাইরাস নিয়ে ক্ষমতাসীন মহলের যে বাগাড়ম্বর, তাতে মনে হচ্ছে মানুষ এক ভয়াবহ ‘শত্রুর’ মুখে পড়েছে। ‘শত্রু’র ব্যাপার বলেই তারা গুরুত্ব দিতে চাইছেন। তাদের ভাষা হচ্ছে এই ‘শত্রু’কে যুদ্ধ করে পরাস্ত করতে হবে। আর ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে, এ ধরনের যুদ্ধ করতে ক্ষমতাবানরা অত্যন্ত পটু। তাই তাদের সামর্থ্য ও সক্ষমতার কাছে একদিন করোনা লেজ গুটিয়ে পালাবে। ফলে তারা জয়ী হয়ে যাবেন। এই মহামারী যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তার বাস্তবতা হচ্ছে, ক্ষমতাসীনরা খুব একটা কিছু করতে পারছেন, এমন মনে হচ্ছে না। বরং যা হচ্ছে তা ‘করোনার মর্জির’ ওপর নির্ভর করছে। যেমন এখন করোনা দৃশ্যত সবচেয়ে বেশি চড়াও হয়েছে ইতালির ওপর।

নেতারা জয়ের কথা বলেছেন। শত্রুর বিরুদ্ধে জয়-পরাজয়ের প্রশ্ন থাকে। কিন্তু এখানে শত্রু কে? অতি আণুবীক্ষণিক করোনা নিজে কি মানুষের শত্রু? করোনার কি কোনো শত্রু-মিত্র জ্ঞান আছে? সে কি সচেতন? এই ‘কীট’টি কি আদৌ মানুষকে চেনে? এসব প্রশ্নের উত্তরে সবাই বলবেন, ‘না’, করোনার কোনো সচেতনতা নেই। সে শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করতে সক্ষম নয়। তাহলে উহানের সে পশুটি যার দেহ থেকে প্রথম করোনা ভাইরাস মানুষের দেহে প্রবেশ করেছে সে কি মানুষের শত্রু? মানুষের প্রতি বিদ্বেষবশত নিজের দেহের একটি জীবাণুকে সে মানুষের দেহে চালিয়ে দিয়েছে, ব্যাপারটা কি এমন? এই প্রশ্নের উত্তরেও সবাই বলবেন ‘না’, পশুটি এসব ব্যাপারে একেবারে অচেতন বা বেখবর। ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস করোনা এবং ওই পশুটি কেউ আসলে আমাদের ভয়াবহ শত্রু নয়। সবাই একবাক্যে স্বীকার করবেন এটা। কারণ শত্রু হতে হলে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, ক্ষোভ ইত্যাদি থাকতে হয়। এমন কিছু করোনা বা ওই পশুর মানুষের বিরুদ্ধে থাকার কথা নয়।

তবে এটাই বাস্তবতা, এ পর্যন্ত সাত হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। গত আড়াই মাসে মানুষের সাজানো পুরো বিশ্বের যাবতীয় ব্যবস্থাপনা ওলটপালট করে দিয়েছে করোনা। বিশ্বগ্রাম এখন পরিণত হয়েছে হাজারো বিচ্ছিন্ন দ্বীপে। এমনকি পাশের রুমে যাওয়ার সুযোগ পর্যন্ত নেই। একে অন্যকে করোনায় আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ভালোবাসা, প্রেম, আন্তরিকতা ইত্যাদি এখন নির্বাসনে। একসাথে পুরো মানবতার এ চরম ক্ষতিটি কোনো শত্রু ছাড়াই কি সম্ভব হয়েছে? একটি করোনা নিজে থেকে শত্রুভাবাপন্ন হয়ে এভাবে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠেনি কিংবা উহানের ওই পশুটিও নয়। তাহলে এটি কার কর্ম?

আমরা যদি মনে করি, এটি কারো কর্ম নয়, তাহলে এত প্রস্তুতির প্রয়োজন কেন? কেন আমরা পরাস্ত করতে চাইছি ওটাকে? আমরা আসলে কার বিরুদ্ধে বিজয় চাইছি? তাহলে ক্ষুদ্র করোনা কিংবা উহানের পশুটির বাইরেও অন্য কোনো ‘কর্তৃপক্ষ’ আছে কি? এ ধরনের কোনো ক্ষমতাবান কর্তৃপক্ষ থাকার কথা শক্তিমান দেশের শক্তিমান সরকারগুলো ঘুণাক্ষরেও স্বীকার করেনি। অথচ করোনা নিয়ে বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীরা কোনো কূলকিনারা পাচ্ছেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ পর্যন্ত এর কার্যকর কোনো সমাধান দিতে পারেনি। রহস্যময় ক্ষুদ্র জীবাণুটি নিয়ে তারা রয়েছে ঘোর অন্ধকারে; যেমন করে ইবোলা, সার্স, মার্সসহ আরো যেসব ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল সেগুলোর ব্যাপারে কিছু করতে পারেনি। ওগুলো মনুষ্যজাতিকে কাঁপিয়ে দিয়ে আবার চলে গেছে। এমন কাজ কি ওই ক্ষুদ্রতম জীবাণুগুলো নিজে থেকে করেছে? অর্থাৎ তাদের তৈরি হওয়া বা অন্য প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এবং একটা পর্যায়ে আবার হাওয়া হয়ে যাওয়া এমনিতেই হয়েছে কি? আর তাদের চলে যাওয়াকে নেতারা কি নিজেদের জয় বলে ধরে নেবেন? করোনা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রয়েছে স¤পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে। কিছু সতর্কতা ও সচেতনতামূলক প্রতিবিধানের কথা তারা বিশ্ববাসীর জন্য সুপারিশ করছেন। তবে এমন কোনো টনিক তারা দিতে পারেননি, যাতে করে জাদুমন্ত্রের মতো করোনা অকার্যকর হয়ে যাবে।

দুনিয়ার সবাই ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে গেছেন। ইতালির একটি হাসপাতালের নার্স ইলেনা পাগলিয়ারিনিকেও এটি কাবু করেছে। তিনি রোগীদের সেবা দিতে দিতে কোন ফাঁকে নিজের টেবিলে কর্তব্যরত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ছেন টের পাননি। এ ছবিটি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। পরে তিনি অনেক কথার ফাঁকে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি মূলত ক্লান্ত ছিলাম না। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে একটানা ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারি। কিন্তু আমি যে খুবই উদ্বিগ্ন সেটা লুকাব না। কারণ, এখন এমন এক শত্রুর সাথে লড়ছি, যার সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না।’ আজকের বিশ্ব বাস্তবতা এই পেশাদার নার্সের বক্তব্যে প্রকাশিত হয়েছে। সার্স, মার্সের মতো করোনা যদি আপনা হতে আবার মিলিয়ে না যায় তাহলে কী হবে, সে ব্যাপারে কেউ সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দিতে পারছেন না। আমেরিকার কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন, এই করোনায় সে দেশে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

করোনা ইউরোপকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে। পুরো ইতালি একেবারে থমকে গেছে। শুরুতে দেশটির কিছু নাগরিক চীনা, এমনকি এশিয়ানদের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ প্রকাশ করেছে এজন্য যে, চীনে একটি মানবঘাতী ভাইরাসের জন্ম হয়েছে। দেশটিতে তখন চীনা মালিকানাধীন দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। এশীয় চেহারার মানুষজনকে অপমান-অপদস্থ করা হয়েছে। এমনকি, তাদের ‘অভিশপ্ত’ বলে এমন মারধর করেছে যে, হাসপাতলে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাব হওয়ার সাথে সাথে সেখানকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এশীয় ছাত্রদের পড়ানো বন্ধ করে দেয়া হয়। ইতালির মিলানে একজন আহ্বান রেখেছিলেন শিশুদের চীনা সহপাঠী থেকে দূরে রাখতে। একজন চীনাকে গ্যাস স্টেশনে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। তার মাথায় বোতল ছুড়ে মারা হয়েছে। ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। একই দিন একজন ফিলিপিনোকে একটি সুপার মার্কেটে আক্রমণ করা হলো। সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান চীনা ও এশীয়দের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ করেছে। তাদের রেস্তোরাঁয় ঢুকতে নিষেধ করে দেয়া হয়। জাতিবিদ্বেষী এই আচরণ পুরো ইউরোপে ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে।

কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে যেতে বেশি সময় লাগেনি। এখন ইউরোপের ওপর ভয়াবহ রূপে নেমে এসেছে করোনার থাবা। ইতালির অবস্থাই সবচেয়ে করুণ। চীনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে মোট ৮১ হাজারের কিছু বেশি। তার মধ্যে মারা গেছেন তিন হাজার ২০০ জনের কিছু বেশি। প্রতি ১৭ হাজার মানুষের মধ্যে একজন চীনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের প্রতি ২৫ জনে মারা গেছেন একজন। ইউরোপে করোনার সংক্রমণ আরো বেশি হারে নেমে এসেছে। সোমবার পর্যন্ত যুক্তরাজ্যসহ ইইউর ২৭টি দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫১ হাজার ৭৫৭ জন। ইউরোপের প্রতি ১০ হাজারে একজন ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়ে গেছেন। করোনার প্রাদুর্ভাব এখনো সেখানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ২ হাজার ২৯০ জন। আক্রান্ত প্রতি ২২ জনে একজন মারা গেছেন। ইউরোপে এর প্রাদুর্ভাব এখনো বাড়ছে।

একক কোনো দেশ আলাদা কোনো অস্তিত্ব নয়। চীনকে বা ইতালিকে আলাদা করার কিছু নেই। এ রোগের আক্রমণ সরাসরি বিশ্ব মানবজাতির ওপর। এর কোনো বিশেষ অংশের ওপর নয়। মানুষ একটি সম্মিলিত সমন্বিত সত্তা। তাদের নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরির কিছু নেই। দেশে দেশে জাতিরাষ্ট্রের যে সীমানা, এটি কৃত্রিম এবং মানুষের আরোপিত। পৃথিবীতে মানবের আগমনের সময় এই সীমানা ছিল না। এ ধরনের সীমানা নির্মাণ করা হয়েছে বহুকাল পরে। এ সীমানার ভাঙাগড়া এখনো চলছে। তাই এটা স্থায়ী কোনো বিভেদ নয়। এটা আবার ভেঙে সমগ্র মানবজাতি একই ছাদের নিচে আশ্রয় নিতে পারে। আর করোনা মোকাবেলায় আমাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভঙ্গিমার পরিবর্তন হওয়া দরকার। মানুষ একে পরাস্ত করতে পারবে, এমন ধারণা করা কি সঠিক? এর জন্য কি আসলে পরম করুণাময়ের করুণার দরকার নয়? যেমন করুণা দেখা গিয়েছিল মানুষের ওপর নেমে আসা অসংখ্য মহামারীর পর।

আচরণ শোধরাবে কি?
জাতি হিসেবে নিজেদের আমরা (বাঙালিরা) অনেক সম্মানিত ও মর্যাদাবান বলে দাবি করি। বাস্তব কাজের মধ্যে এর প্রতিফলন থাকতে হবে। করোনা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। এতে কিছু আচরণ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যেখানে সেখানে কফ থুথু ফেলবেন না। হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু অথবা কাপড় দিয়ে বা বাহুর ভাঁজে নাক-মুখ ঢেকে ফেলুন। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ময়লার পাত্রে ফেলুন এবং হাত পরিষ্কার করুন। সাধারণ নাগরিকদের স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে যেসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সেগুলো একজন সাধারণ ভদ্র মানুষ হিসেবে এমনিতেই আমাদের পালন করার কথা।

বাস্তবে খুব কমই আমরা এমন ভদ্রতা দেখাতে পারি। এ ক্ষেত্রে রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালত, যানবাহন এবং জনসমাবেশে আমাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যেতে পারে। জনসমাগমস্থলে সাধারণত আমরা নির্বিচারে হাঁচি-কাশি দিই। এগুলোর ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেই অবশ্য। কিন্তু আমরা কিছুটা সচেতনতা কি দেখাতে পারি না? সাধারণত দেখা যায় হাঁচির বেগ কোন দিকে যাচ্ছে, থুথু কতটুকু পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে- এ ব্যাপারে আমাদের বেশির ভাগ মানুষ বেখবর। থুথু ছোড়ার ব্যাপারে কিছুই খেয়াল করছি না। আশপাশে গিজ গিজ করা মানুষের মধ্যে থুথু ফেলছি কিংবা নাক সিটকাচ্ছি। যানবাহনে হরদম আমরা এমন অভদ্র আচরণ করে থাকি। অপেক্ষাকৃত সভ্য জায়গা অফিস-আদালতেও এমন অশোভন আচরণ করেও আমরা নির্বিকার থাকছি।

আরো একটি ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে। করোনাজনিত রোগের লক্ষণ দেখা দিলে সুস্থ ব্যক্তি থেকে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সাধারণত আমরা পাবলিক প্লেসে চলাচলের সময় অপরের বিরক্তি উৎপাদন করে থাকি। একেবারে গায়ের সাথে ঘেঁষে চলি। এভাবে নিজের সুবিধা ষোলোআনা উদ্ধার করি। অপরের কষ্ট হচ্ছে কি না, কেউ বিরক্ত হচ্ছে কি না- সে ব্যাপারে আমাদের কোনো দৃষ্টি থাকে না। আমাদের আচরণে সৌজন্য ও ভদ্রতা উপেক্ষিত। পাশের ব্যক্তি অথবা আশপাশের মানুষদের সুবিধা-অসুবিধা ও পছন্দ খেয়াল করতে পারি না। ধূমপানকারীদের বেশির ভাগেরই কোনো ধরনের শালীনতা নেই। এখন যানবাহনে ধূমপান করতে দেখা যায় না। তবে রাস্তায় এখনো অবাধে ধূমপান চলছে। চলার সময় আশপাশের মানুষকে বিপদে ফেলে যত্রতত্র তারা দূষিত হাওয়া ছাড়ছেন। জনসমাগমে অবাধে ধূমপান করে আমরা আশপাশের মানুষের বিরাট ক্ষতি করছি।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। বাস্তবে আমাদের চলাচলের রাস্তাও অনেক সময় চেনার উপায় থাকে না। অনেক সময় ব্যস্ত রাস্তাকে ভাগাড় মনে হয়। এ দেশে রাস্তা শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। আর বাজারের অবস্থা তো আরো খারাপ। আমাদের হাটবাজার বিষম অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন থাকাই যেন স্বাভাবিক। আমাদের ওপর ওপরঅলার বিশেষ কৃপা যে, ময়লা-আবর্জনায় মাখামাখি হয়ে থাকার পরও তুলনামূলক রোগব্যাধি কমই ছড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা, সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংবাদমাধ্যম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। সভ্য মানুষ হিসেবে ন্যূনতম যেসব আচরণ দরকার, এর মধ্যে সেগুলো পড়ে বৈকি। তার ওপর বাঙালি বলে আমাদের যে অহঙ্কার রয়েছে, সেগুলোর সাথে এ ধরনের আচরণ মোটেও আমাদের কোনোভাবে মানায় না। করোনার আঘাত আমাদের ক্ষেত্রে কতটুকু গভীর হবে এখনো বোঝা যাচ্ছে না। তবে এ উপলক্ষে আমাদের কিছু আচরণ যদি শুধরে যায়, তার সুফল সবাই ভোগ করব।

[email protected]


আরো সংবাদ

আত্মহত্যার আগে মায়ের কাছে স্কুলছাত্রীর আবেগঘন চিঠি (১৩৫৩০)সিসিকের খাদ্য ফান্ডে খালেদা জিয়ার অনুদান (১২৬০৬)করোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন খালেদা জিয়া, শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল (৯৩১৫)ভারতে তাবলিগিদের 'মানবতার শত্রু ' অভিহিত করে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ (৮৪৯০)করোনায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল ইতালির একটি পরিবার (৭৮৬৪)করোনার মধ্যেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আরেক যুদ্ধ (৭১৪০)করোনায় আটকে গেছে সাড়ে চার লাখ শিক্ষকের বেতন (৬৯৩১)ইসরাইলে গোঁড়া ইহুদির শহরে সবচেয়ে বেশি করোনার সংক্রমণ (৬৮৯০)ঢাকায় টিভি সাংবাদিক আক্রান্ত, একই চ্যানেলের ৪৭ জন কোয়ারান্টাইনে (৬৭৬১)করোনাভাইরাস ভয় : ইতালিতে প্রেমিকাকে হত্যা করল প্রেমিক (৬২৯৬)