০৭ এপ্রিল ২০২০

২০২০ সালের এশিয়ার ভূ-রাজনীতি

চার কোটি ৪৫ লাখ ৭৯ হাজার কিলোমিটারের এশিয়ায় ৪১৬ কোটি মানুষের বসবাস। আয়তন ও ভৌগোলিক সীমা এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে কৌশলগত গুরুত্ব সব বিবেচনাতেই এশিয়া মহাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ। আর একবিংশ শতাব্দীর এক-চতুর্থাংশ সময়ের শেষপর্যায়ে এশিয়াকে মনে করা হচ্ছে রাজনীতি নিরূপণে উদীয়মান নির্ণায়ক শক্তি। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখন এশিয়ার প্রধান তিন শক্তি চীন, রাশিয়া ও ইরান যৌথ নৌ মহড়া শুরু করেছে। উইরেশিয়ার পরাশক্তি রাশিয়া ও চীন আর এক সময়ের পারস্য সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার ইরানের এই যৌথ সামরিক মহড়া ২০২০ সালের দ্বারপ্রান্তের এই সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও জনবহুল মহাদেশ এশিয়া প্রাথমিকভাবে পূর্ব ও উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। ৪৯টি স্বাধীন দেশ রয়েছে এখানে। এটি ভূ-পৃষ্ঠের ৮.৭ আর স্থলভাগের ৩০ শতাংশজুড়ে অবস্থিত এই মহাদেশ। বিশ্বের ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষ এশিয়াতে বসবাস করে। আর এখন এশিয়ার অর্থনৈতিক এবং জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। বিংশ শতাব্দীতে এশিয়ার জনসংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে। আর জনসংখ্যাকে বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারে একটি অন্যতম নিয়ামক হিসেবে এখন গণ্য করা হয়।

এশিয়ার সীমানা মূলত সাংস্কৃতিকভাবে নির্ধারিত। ইউরোপের সাথে এর কোনো স্পষ্ট ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা নেই, যা এক অবিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডের গঠন হিসেবে একসাথে ইউরেশিয়া বলা হয়। এশিয়ার সবচেয়ে সাধারণভাবে স্বীকৃত সীমানা হলো সুয়েজ খাল, ইউরাল নদী এবং ইউরাল পর্বতমালার পূর্বাংশ ও ককেশাস পর্বতমালা এবং কাস্পিয়ান ও কৃষ্ণসাগরের দক্ষিণাংশ। এটা পূর্ব দিকে প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর এবং উত্তরে উত্তর মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত। ইউরাল পর্বতমালা, ইউরাল নদী, কাস্পিয়ান সাগর, কৃষ্ণসাগর এবং ভূমধ্যসাগর দ্বারা এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশ দুটি পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন। এ ছাড়া লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল এশিয়া মহাদেশকে আফ্রিকা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে আর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত সঙ্কীর্ণ বেরিং প্রণালী এশিয়াকে উত্তর আমেরিকা মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে।

বেরিং প্রণালীর এক দিকে অবস্থান করছে এশিয়া মহাদেশের অন্তর্গত রাশিয়ার উলেনা আর অপর পাশে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্গত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা। এই প্রণালীটির সঙ্কীর্ণতম অংশটি মাত্র ৮২ কিলোমিটার চওড়া, অর্থাৎ বেরিং প্রণালীর এই অংশ থেকে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের সাথে এশিয়ার দূরত্ব মাত্র ৮২ কিলোমিটার।

হিরোডোটাসের সময় থেকে, এক দল ক্ষুদ্র ভূগোলবিদ তিন-মহাদেশ ব্যবস্থা (ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া) প্রত্যাখ্যান করেন এই বলে যে, তাদের মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য ভৌগোলিক বিচ্ছেদ নেই। অক্সফোর্ডের ইউরোপীয় পুরাতত্ত্বের ইমেরিটাস অধ্যাপক স্যার ব্যারি চুনলিফ যুক্তি দেন যে, ইউরোপ ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে নিছক ‘এশিয়া মহাদেশের পশ্চিম বর্ধিতাংশ’। ভৌগোলিকভাবে, এশিয়া ভূখণ্ডের বা আফ্রো-ইউরেশিয়ার অংশ ইউরেশিয়ার পূর্ব অংশ, যেখানে ইউরোপ উত্তর পশ্চিমাংশের উপদ্বীপ; ভূতাত্ত্বিকভাবে, এশিয়া, ইউরোপ এবং আফ্রিকা (সুয়েজ খাল ছাড়া) একটি একক অবিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড গঠন করে আর একটি সাধারণ মহীসোপান ভাগ করে। প্রায় সব ইউরোপ এবং এশিয়ার বেশির ভাগ অংশ ইউরেশীয় পাতের ওপর অবস্থিত, দক্ষিণে আরবীয় ও ভারতীয় পাত দ্বারা সংযুক্ত এবং সাইবেরিয়ার পূর্বপ্রান্তিক অংশ উত্তর আমেরিকার পাতের ওপর অবস্থিত।

এশিয়ার অঞ্চলজুড়ে জাতিগোষ্ঠী, সংস্কৃতি, পরিবেশ, অর্থনীতি, ঐতিহাসিক বন্ধন এবং সরকার ব্যবস্থার মাঝে ব্যাপকভাবে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। বিভিন্ন প্রান্তিক উপকূলীয় অঞ্চলের স্বতন্ত্র ইতিহাস হিসেবে দেখা যায় : পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য, যা এশিয়ার মধ্য প্রান্তর দ্বারা যুক্ত। এশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলগুলো পৃথিবীর প্রাচীনতম পরিচিত সভ্যতাগুলোর বিকাশস্থল, যা উর্বর নদী উপত্যকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। সভ্যতাগুলোতে মেসোপটেমিয়া, সিন্ধু উপত্যকা ও হোয়াংহোর অনেক মিল রয়েছে। এই সভ্যতাগুলো প্রযুক্তি এবং ধারণা বিনিময় করতে পারে। অন্যান্য উদ্ভাবন, যেমন লিখনরীতি, প্রতিটি সভ্যতায় পৃথকভাবে বিকশিত হয়েছে বলে মনে হয়। শহর, রাজ্য এবং সাম্রাজ্য এসব নি¤œভূমিতে বিকশিত হয়।

এশিয়ার কেন্দ্রীয় প্রান্তীয় অঞ্চলে দীর্ঘকাল ধরে অশ্বারোহী যাযাবর দ্বারা অধ্যুষিত ছিল, যারা কেন্দ্রীয় প্রান্তীয় অঞ্চল থেকে এশিয়ার সব অঞ্চল পৌঁছাতে পারত। কেন্দ্রীয় প্রান্তীয় অঞ্চল থেকে প্রাচীনতম বংশের বিস্তার হলো ইন্দো-ইউরোপীয়, যারা তাদের ভাষা মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া, চীনের সীমানা পর্যন্ত ছড়িয়ে দিয়েছিল। এশিয়ার উত্তর দিকের শেষ সীমায় অবস্থিত সাইবেরিয়া প্রান্তীয় যাযাবরদের জন্য দুর্গম ছিল মূলত ঘনবন, জলবায়ু এবং তুন্দ্রার জন্য। এই এলাকা খুব জনবিরল ছিল।

এশিয়ার মধ্য এবং প্রান্তীয় অঞ্চল অধিকাংশই পর্বত ও মরুভূমি দ্বারা পৃথক ছিল। ককেশাস, হিমালয় পর্বতমালা ও কারাকোরাম, গোবি মরুভূমি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, যা প্রান্তীয় অশ্বারোহী কেবল পার হতে পারে। যখন শহুরে নগরবাসী আরো উন্নত ছিল প্রযুক্তিগতভাবে ও সামাজিকভাবে, তখন অনেক ক্ষেত্রেই তারা প্রান্তীয় অশ্বারোহীর আক্রমণের বিরুদ্ধে সামরিকভাবে সামান্যই প্রতিরোধ করতে পারত। এসব নি¤œভূমিতে যথেষ্ট উন্মুক্ত তৃণভূমি নেই যা বিশাল অশ্বারোহী বাহিনীর জোগান দিতে পারে; এসব কারণে যাযাবররা চীন, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো জয় করে তাদের স্থানীয় সমৃদ্ধিশালী সমাজে মিশে যেতে পেরেছিল।

সপ্তম শতকে মুসলিম বিজয় চলাকালে, ইসলামিক খিলাফত মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়া জয় করে। পরবর্তীতে ১৩শ’ শতকে মোঙ্গল সাম্রাজ্য এশিয়ার অনেক বড় অংশ জয় করে, যা চীন থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। রাশিয়ান সাম্রাজ্য ১৭শ’ শতক থেকে এশিয়ায় বিস্তৃত হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৯শ’ শতকের শেষ নাগাদ সাইবেরিয়া এবং অধিকাংশ মধ্য এশিয়া নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। ১৬শ’ শতক থেকে উসমানীয় সাম্রাজ্য আনাতোলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং বলকান অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে।

১৭শ’ শতকে, মাঞ্চুরা চীন জয় করে এবং চিং রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করে। এদিকে ১৬শ’ শতক থেকে ইসলামী মুঘল সাম্রাজ্য অধিকাংশ ভারত শাসন করতে থাকে।

এশিয়ার অত্যন্ত বিচিত্র জলবায়ু এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য আছে। জলবায়ুর পরিধি আর্কটিক, উপ-আর্কটিক (সাইবেরিয়া) থেকে দক্ষিণ ভারত ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ক্রান্তীয় অবধি বিস্তৃত। এর দক্ষিণ-পূর্ব অংশজুড়ে আর্দ্র ও অভ্যন্তরে শুষ্ক। পশ্চিম এশিয়ায় পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দৈনিক তাপমাত্রা পরিসর দেখা যায়। হিমালয় পর্বতমালার কারণে মৌসুমি সঞ্চালন দক্ষিণ ও পূর্ব অংশজুড়ে প্রাধান্য পায়। মহাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অংশ উষ্ণ। উত্তর গোলার্ধের মধ্যে সাইবেরিয়া অন্যতম শীতলতম অঞ্চল এবং উত্তর আমেরিকার জন্য আর্কটিক বায়ুভরের একটি উৎস হিসেবে কাজ করে। ট্রপিকাল সাইক্লোনের জন্য পৃথিবীতে সবচেয়ে সক্রিয় জায়গা উত্তর-পূর্বে ফিলিপাইন ও দক্ষিণ জাপান। মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুভূমি ও আরব মরুভূমি মধ্যপ্রাচ্যের অনেকটাজুড়ে প্রসারিত। চীনের ইয়ানজে নদী মহাদেশের দীর্ঘতম নদী। নেপাল ও চীনের মধ্যকার হিমালয় পর্বতমালা বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা পর্বতশ্রেণী। বৃষ্টিপ্রধান ক্রান্তীয় বনাঞ্চল দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে প্রসারিত ও সরলবর্গীয়, পর্ণমোচি বনাঞ্চল উত্তরে প্রসারিত।

এশিয়া দ্বিতীয় বৃহত্তম নমিনাল জিডিপি, মহাদেশগুলোর মধ্যে ইউরোপের পরে, কিন্তু ক্রয়ক্ষমতা সমতা হিসেবে বৃহত্তম। ২০১১ সালের হিসাবে, এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া। বৈশ্বিক অফিস অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ২০১১-এ এশিয়ার আধিপত্য ছিল, শীর্ষ ৫-এ ৪টিই এশিয়ার হংকং, সিঙ্গাপুর, টোকিও, সিউল ও সাংহাই। প্রায় ৬৮ শতাংশ আন্তর্জাতিক সংস্থার হংকংয়ে অফিস আছে।

১৯৯০ দশকের শেষ দিকে এবং ২০০০-এর শুরু থেকে, চীন ও ভারতের অর্থনীতি দ্রুত হারে বাড়ছে, উভয়ের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশের বেশি। এশিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক খুব উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেশগুলো : ইসরাইল, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মঙ্গোলিয়া, উজবেকিস্তান, সাইপ্রাস ও ফিলিপাইন এবং খনিজসমৃদ্ধ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, ইরান, ব্রুনাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইন এবং ওমান।

অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ অ্যাঙ্গাস মাড্ডিসন তার বই দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমি : এ মিলেনিয়াম পারস্পেক্টিভ-এ উল্লেখ করেন, ভারত ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ও ০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ সময়ে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি ছিল। চীন পৃথিবীর মধ্য ১৯ শতকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য (ব্রিটিশ ভারত বাদে) দখল করার আগ পর্যন্ত অনেক সময়ের জন্য বৃহত্তম এবং সবচেয়ে উন্নত অর্থনীতি ছিল।

বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে কয়েক ১৯৮৬-তে সোভিয়েত ইউনিয়নকে এবং ১৯৬৮-তে জার্মানিকে অতিক্রম করার পরে (নেট বস্তুগত পণ্য পরিমাপে) জাপান এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি এবং পৃথিবীর যেকোনো একক জাতির দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়। এটা ২০১০-এ শেষ হয় যখন চীন জাপানকে অতিক্রম করে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়। ১৯৮০ দশকের শেষভাগ ও ১৯৯০ দশকে শুরুতে, জাপানের জিডিপি শুধুমাত্র (বর্তমান বিনিময় হার পদ্ধতি), বাকি দেশগুলোর সম্মিলিত জিডিপির সমান ছিল। ১৯৯৫ সালে জাপানের অর্থনীতি, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সমান হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ১৯৯০ দশক পর্যন্ত, এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জাপানকেন্দ্রিক ছিল। এ ছাড়াও প্রশান্ত রিমের চারটি অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, হংকং ও সিঙ্গাপুর। এই চারটি অঞ্চল এশিয়ান টাইগার্স নামে পরিচিত, যারা সকলে উন্নত দেশ এবং এশিয়ার মাথাপিছু সর্বোচ্চ জিডিপি অর্জনকারী।

পূর্বানুমান অনুসারে, ২০২০ সালে ভারত নমিনাল জিডিপিতে জাপানকে অতিক্রম করবে। গোল্ডম্যান শ্যাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে চীন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হবে। এশিয়ায় বিভিন্ন বাণিজ্য ব্লক আছে, যার মাঝে আসিয়ান সবচেয়ে উন্নত। এশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম মহাদেশ এবং এটা প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ যেমন পেট্রোলিয়াম, বন, মৎস্য, পানি, তামা ও রুপা। এশিয়ার উৎপাদনে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী, বিশেষ করে চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ভারত, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুর। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বহুজাতিক করপোরেশনের আধিপত্য আছে, কিন্তু চীন ও ভারত ক্রমবর্ধমানভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান থেকে বহু কোম্পানি সস্তা শ্রমের মজুর জোগান এবং তুলনামূলকভাবে উন্নত অবকাঠামোর সুযোগ গ্রহণ করে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

সিটিগ্রুপ অনুসারে, ১১-র মধ্যে ৯টি বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি উৎপাদক দেশ এশিয়ার, জনসংখ্যা এবং আয় বৃদ্ধির দ্বারা চালিত। এগুলো হলো বাংলাদেশ, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, মঙ্গোলিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনাম।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আয় তথ্য প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পূর্ব এশিয়া সার্বিক মানব উন্নয়ন সূচকে (এইচডিআই) পৃথিবীর যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে বেশি উন্নতি সাধন করে, যা গত ৪০ বছরে দ্বিগুণ হয়। চীন, এইচডিআই উন্নতিতে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্জনকারী ১৯৭০ সাল থেকে, ‘টপ টেন মুভার্স’ তালিকার একমাত্র দেশ যা স্বাস্থ্য বা শিক্ষার সফলতা জন্য নয় আয়ের কারণে এই অবস্থানে পৌঁছেছে। শেষ চার দশকে এর মাথাপিছু আয় অত্যাশ্চর্য ২১ গুণ বেড়ে, লাখ লাখ মানুষকে আয়ের দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেয়।

বিশ্বের প্রধান ধর্মগুলোর উৎস এশিয়ায়। এশীয় পুরাণ জটিল এবং বিচিত্র। উদাহরণস্বরূপ মহাপ্লাবনের ঘটনা, খ্রিষ্টানদের ওল্ড টেস্টামেন্টে বর্ণিত, যা মেসোপটেমীয় পুরাণের প্রথম নিদর্শন। হিন্দু পুরাণে বলা আছে, অবতার বিষ্ণু মাছের বেশে মনুকে একটি ভয়ানক বন্যা সম্পর্কে সতর্ক করেন। প্রাচীন চীনা পুরাণে, শান হ্যায় জিং, চীনা শাসক দা ইউ ১০ বছর অতিবাহিত করে মহাপ্লাবন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, যা প্রাচীন চীনের বেশির ভাগ অঞ্চল প্লাবিত করেছিল।

ইব্রাহিমীয় ধর্মগুলো ইহুদি ধর্ম, খ্রিষ্ট ধর্ম, ইসলাম আর বাহাই পশ্চিম এশিয়ায় উৎপত্তি। ইহুদি ধর্ম, ইব্রাহিমীয় ধর্মগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম। ইহুদিদের বনি ইসরাইল বলা হয়, তারা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, এশিয়া/উত্তর আফ্রিকা, প্রবাসী ইউরোপীয়, উত্তর আমেরিকায় এবং অন্যান্য অঞ্চল।

খ্রিষ্ট ধর্ম এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত। ফিলিপাইন ও পূর্ব তিমুরে, রোমান ক্যাথলিক প্রধান ধর্ম; যা যথাক্রমে স্পেনীয় ও পর্তুগিজ দিয়ে পরিচিতি লাভ করে। আর্মেনিয়া, সাইপ্রাস, জর্জিয়া এবং এশীয় রাশিয়ায়, প্রাচ্যের অর্থোডক্স প্রধান ধর্ম। বিভিন্ন খ্রিষ্টান গোষ্ঠীর প্রচারের জন্য এর অনুসারী মধ্যপ্রাচ্য, চীন ও ভারতেও আছে।

ইসলাম এশিয়ার বৃহত্তম এবং সবচেয়ে ব্যাপকভাবে ছড়ানো ধর্ম। বিশ্ব মুসলিম জনসংখ্যার অধিকাংশ বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, ইরান এবং তুরস্কে বসবাস করছে। মক্কা, মদিনা এবং জেরুসালেম সারা বিশ্বে ইসলামের জন্য মহা পবিত্র শহর। এসব পবিত্র শহর সারা বিশ্বের অনুসারীদের প্রধান আকর্ষণ, বিশেষ করে হজ ও ওমরাহ মৌসুমে। এর সব ক’টিই এশিয়ায়।

প্রায় সব এশীয় ধর্মের দার্শনিক চরিত্র আছে এবং দার্শনিক চিন্তা এবং লেখার বৃহদাংশ এশীয় দার্শনিক ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্ত করে। হিন্দু দর্শন ও বৌদ্ধ দর্শন ভারতীয় দর্শনের অন্তর্ভুক্ত। এখানে অবস্তুগত উপাদানের সাধনার কথা বলা হয়েছে। হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম, জৈন ধর্ম এবং শিখধর্ম ভারত, দক্ষিণ এশিয়া থেকে উদ্ভূত। পূর্ব এশিয়ায় বিশেষ করে চীন ও জাপানে কনফুসীয় ধর্ম, তাওবাদ ও জেন বৌদ্ধ ধর্ম বিকাশ লাভ করে।

২০১২ সালের হিসাবে, হিন্দু ধর্মের অনুসারী প্রায় ১.১ বিলিয়ন মানুষ। এই ধর্মবিশ্বাস এশিয়ার জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। তবে এটি বেশির ভাগই দক্ষিণ এশিয়ায় ঘনীভূত। ভারত ও নেপালের জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ এবং বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও বালি, ইন্দোনেশিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

দক্ষিণ পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর প্রাধান্য রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ এমন দেশগুলো হলো : কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, জাপান, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, লাওস এবং মঙ্গোলিয়া। এছাড়াও বৃহৎ বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী রয়েছে এমন দেশগুলো হলো : সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, নেপাল, ভিয়েতনাম, চীন, উত্তর কোরিয়া এবং ভারত ও বাংলাদেশ।

চীনা সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে মহায়ানা বৌদ্ধ ধর্ম সহজে তাওবাদের সাথে সমন্বয় সাধন হয়েছে। ফলে সঠিক ধর্মীয় পরিসংখ্যান বের করা কঠিন। চীন, ভিয়েতনাম ও উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট-শাসিত দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে নাস্তিক, তাই বৌদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা কম উল্লিখিত হতে পারে।

এশিয়া হলো বৈশিষ্ট্যগতভাবে আধ্যাত্মিকতা ও প্রাচীন সভ্যতার জনপদ। বিশ্বের প্রধান ধর্মগুলোর প্রায় সবটারই উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটেছে এশিয়ায়। প্রাচীন সভ্যতার মধ্যে গ্রিক সভ্যতা ছাড়া বাকি প্রায় সবটারই বিকাশ ঘটেছে এশিয়ায়। এসব কারণে সমৃদ্ধি ও সভ্যতার দুটিরই দীর্ঘ ইতিহাস হয়েছে এশীয় অঞ্চলের।

একবিংশ শতাব্দীতে এসে জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রাকৃতিক সম্পদ আর বাজার বিবেচনায় এশিয়ার উত্থানকে ইউরোপ-আমেরিকাকেন্দ্রিক বিশ্ব নেতারা তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে বিবেচনা করতে থাকে। রহস্যজনকভাবে চলতি শতাব্দীর শুরু থেকেই এশিয়ার বিরোধ ও সঙ্ঘাতের ইস্যুগুলো চাঙ্গা হতে থাকে। ইসরাইল ও এর আশপাশের অঞ্চল বাদ দেয়া হলে বিগত পৌনে শতাব্দীকাল এশিয়ায় সঙ্ঘাতের কারণ হয়ে ওঠেনি ধর্ম।

২০০১ সালের রহস্যাবৃত টুইন টাওয়ারের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর একদিকে আল কায়দা আইএস ইত্যাদি মুসলিম উগ্রবাদী গ্রুপের উত্থান ঘটে। অন্য দিকে, ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদ আর বৌদ্ধ প্রধান মিয়ানমার-শ্রীলঙ্কাসহ কয়েকটি দেশে উগ্র বৌদ্ধবাদের বিস্তার ঘটতে থাকে। এর পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকটি দেশে উগ্র ধরনের জাতীয়তাবাদী শক্তির উন্মেষ ঘটে। এই উগ্রবাদিতার বিকাশে এর আগের আন্তঃধর্ম সংলাপ ও সহাবস্থানের মাধ্যমে শাশ্বত শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন ধর্মীয় স্কলারদের উদ্যোগ চাপা পড়ে যায়। ধর্মকেন্দ্রিক এই উত্তেজনা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধর্মের বিভিন্ন উপধারার সঙ্ঘাতে রূপ নিতেও দেখা যায়।

এই উত্তেজনাকর উপকরণগুলো বৃহত্তর এশীয় ঐক্যকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার দ্বন্দ্ব এক পর্যায়ে একই ধর্মের প্রভাবশালী আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যকার সঙ্ঘাতে রূপ নেয়। উপনিবেশ ও আধুনিক যুগের সূচনালগ্নে এই অবস্থাটি ইউরোপে আমরা বিশেষভাবে প্রত্যক্ষ করেছিলাম। এর বাইরে এশিয়ার বড় দেশগুলোর মধ্যে সীমান্ত বিরোধ, পানি বিরোধ ইত্যাদিও চাঙ্গা হয়ে ওঠে। এর মধ্যে ইউরেশিয়ার দুই পরাশক্তি চীন ও রাশিয়ার মধ্যেই কেবল বিরোধ নিষ্পত্তি করে অভিন্ন ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি হয়।

একই ধরনের প্রচেষ্টা চীন-ভারত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দেং শিয়াও পিং ও পরবর্তী চীনা নেতৃত্ব নিয়েছিলেন। বিজেপি দ্বিতীয়বারের মতো মোদির নেতৃত্বে ভারতের ক্ষমতায় আসার পর সেটি আর অগ্রসর হয়নি। অধিকন্তু ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের এই অঞ্চলে চীনবিরোধী একটি প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেয় দিল্লি। একই সাথে চীন জাপানের ঐতিহাসিক বিরোধ নিষ্পত্তির প্রচেষ্টাও সেনাকুক দ্বীপপুঞ্জের সঙ্ঘাতের কারণে বেশিদূর অগ্রসর হতে পারেনি।

এর মধ্যেও বিকল্প বিশ্বব্যাংক হিসেবে পরিচিত নিউ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মতো কিছু উদ্যোগ একটি এশীয় সহযোগিতা কাঠামো সৃষ্টির সম্ভাবনাকে জাগিয়ে রেখেছে। দুই এশীয় জায়ান্ট চীন ও ভারতের নানা অর্থনৈতিক বিপত্তির মধ্যেও ৬ শতাংশের উপরে প্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাস ২০২০ সালের জন্য করা হচ্ছে তা বাস্তবায়ন হতে পারে এই সহযোগিতার কাঠামো কাজ করলে।

তবে ২০১৯ সালের শেষ সময়টা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে পার হচ্ছে যাতে নানা ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টির লক্ষণ স্পষ্ট। কাশ্মিরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে ২০২০ সালে যুদ্ধের মতো সঙ্ঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায়। ইতিমধ্যে দু’দেশের মধ্যে সীমান্তে গোলা বিনিময় ও লোকক্ষয় নিয়মিত খবরে পরিণত হয়েছে। কাশ্মির ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই যুদ্ধ ঘটলে তা কোনোভাবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমিত থাকবে না। কাশ্মিরের একটি অংশের নিয়ন্ত্রক চীনও এর সাথে জড়িয়ে যাবে। এর অর্থ হবে এশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে এশীয় ঐক্য ও সহযোগিতার পরিবর্তে বিরোধ ও সঙ্ঘাত নতুন করে বৃদ্ধি পাবে। এই বিরোধে যেকোনো একটি ফর্মেটে যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়াও যুক্ত হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে এশীয় অর্থনীতি ও প্রযুক্তি বিকাশের ধারা কিছুটা হলেও বাধাগ্রস্ত হবে।

এর পরও কয়েকটি বিষয় এশিয়ার উত্থানের জন্য এখনো ইতিবাচক হয়ে আছে। প্রথমত এখনকার তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ ও ইলেকট্রনিক শিল্প ও জ্বালানি বিকল্প হিসাবে হাইব্রিড শিল্পে ব্যবহার্য উপকরণ রেয়ার আর্থ বা বিরল মৃত্তিকা উপাদানের ৮০ ভাগ বৈশ্বিক সরবরাহ এখনো চীনের নিয়ন্ত্রণে। অন্য দিকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র্রের তুলনায় দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে রাশিয়া। আর মধ্য ক্ষমতার বেশ ক’টি এশীয় দেশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অনেকদূর এগিয়েছে।

আশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া বেশ খানিকটা রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। ফলে নতুন বছরে দেশটির সামনে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দু’ক্ষেত্রেই স্থিতি রয়েছে। থাইল্যান্ডের অর্র্থনীতিও স্থিতিশীল। ভিয়েতনাম একদলীয় ব্যবস্থার সাথে মুক্তবাজারকে সমন্বয় করে অগ্রসর হচ্ছে। নতুন বছরে দেশটির অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের উপরে থাকতে পারে।

মধ্য এশীয় প্রজাতন্ত্রগুলোর মধ্যে উজবেকিস্তানের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। আমেরিকান অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে পড়ে নতুন বছরেও অর্থনীতি সঙ্কুুচিত হতে পারে ইরানের। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা সঙ্কট দেশটিকে ব্যতিব্যস্ত রাখতে পারে। তবে চীন-রাশিয়া-ইরান সহযোগিতা অর্থনীতির ক্ষেত্রেও কাজ করলে দেশটি অচলায়তন ভাঙতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো নানা ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং এক ধরনের সেকুলার রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্যে যাওয়ার ফলে অর্থনৈতিক বিকাশ হবে নি¤œমুখী। সৌদি আরব এর মধ্যেও ১ শতাংশের কিছু বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। ইউরেশিয়ার দেশ তুরস্ক অর্থনৈতিক দুরবস্থা কাটিয়ে ৪ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। দেশটি যে আগ্রাসী ধরনের কূটনীতি অনুসরণ করছে এবং ন্যাটোর সদস্য হওয়ার পরও রাশিয়ার সাথে ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক নীতি অনুসরণ করে চলছে তাতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে প্রভাবশালী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে আংকারা। মধ্যপন্থী মুসলিম দেশগুলোর সমন্বয়ে নতুন জোট কার্যকর হলে দেশটির প্রভাব আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরো বাড়তে পারে।

সার্বিকভাবে ২০২০ সালে এশীয় অর্থনীতি ৫.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। মহাদেশ হিসাবে এটি অর্থনীতির সবচেয়ে বেশি বিকাশ হার। রাজনৈতিক হানাহানি ও অস্থিরতা অতিক্রম করতে পারলে এশিয়া ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে অচিরেই নিয়ন্ত্রকের আসনে পৌঁছতে পারে।


আরো সংবাদ