১১ আগস্ট ২০২০

গণমাধ্যমের গা বাঁচানো নীতি

-
24tkt

বাংলাদেশ-ভারত দিপক্ষীয় সম্পর্ক যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিস্তার পানি পাওয়ার সম্ভাবনা, সীমান্ত হত্যা বন্ধের আশ্বাস কিংবা বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনে সুযোগ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশÑ এমন কারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে না। ভারতে নাগরিকপঞ্জি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার মধ্যে হঠাৎ করে ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়ে গেছে। তা আরো তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা। কারণ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি বলেছেন, ২০২৪ সালের আগেই ভারত থেকে সব অনুপ্রবেশকারীকে বের করে দেয়া হবে। আমাদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে দেশে অনুপ্রবেশ বাড়ার খবর মিলছে। এর আগে দু’বার পুশ-ইন প্রচেষ্টা দেখেছি আমরা। প্রথমবার ভারতীয়দের বাংলাদেশী বলে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করানোর অপচেষ্টা বাংলাদেশের সীমন্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ঠেকিয়ে দেয়। দ্বিতীয়বার ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টাও ভণ্ডুল করে দেয়া হয়। তবে এবার অনুপ্রবেশের বৈশিষ্ট্যটি ভিন্নমাত্রার। আশঙ্কা করা হচ্ছেÑ এটি বড় ধরনের নতুন অনুপ্রবেশের সূচনা। ভারতকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ বানানোর বিজেপির পরিকল্পনার সাথে এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে ভারত সরকার। এ জন্য দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কটি এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আসামের নাগরিকপঞ্জিতে ধাক্কা খেলে অনেকে ভেবেছিলেন; হিন্দু উগ্রবাদী বিজেপি এটি নিয়ে আর এগোবে না। দলটি নাগরিকত্ব থেকে বাদ পড়া অসমীয় হিন্দুদের আশ্বাস দিয়েছিল, তাদের নাগরিকত্ব যে করে হোক ফেরত দেয়া হবে। এ জন্য ২০১৬ সালে প্রস্তাব করা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আনতে যাচ্ছে বিজেপি। এ আইনের মূল দর্শন হলো ভারতকে একটি ‘অনন্য হিন্দু রাষ্ট্রে’ রূপান্তরিত করা। হিন্দু ধর্মাবলম্বী যে কেউ চাইলে ভারতের নাগরিকত্ব পেতে পারেন। সুতরাং ভারতে নাগরিকত্ব হারানো হিন্দুদের কোনো ভয় নেই। একই দেশে অন্যান্য জায়গা থেকে আশ্রয় নেয়া বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানরাও দেশটিতে নাগরিকত্ব পাবেন। তবে মুসলমানরা এ সুযোগ পাবেন না। এ লক্ষ্যে বিজেপি সারা দেশে নাগরিকপঞ্জি তৈরির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়। এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি। এটি বাস্তবায়ন করতে গেলে পুরো ভারতজুড়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে। এর শিকার হবেন প্রধানত সংখ্যালঘু মুসলমানরা। এর প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। দেশটির অনেক স্থানে মুসলমানদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। অনেকে আতঙ্কিত হয়ে সব ছেড়ে বাংলাদেশ অভিমুখী হচ্ছেন। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে গিয়ে আটককৃতরা এমনই জানিয়েছেন।

সাম্প্রদায়িক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে বিজেপির উন্মাদনা বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ, নিকট অতীতে এ কাজে দলটির সফলতা। বলা যায়, ‘দৃষ্টিকটু’ এমন অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে বড় ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়েনি দলটি। এর অন্যতম হচ্ছে জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদাবিষয়ক সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলুপ্তি এবং বাবরি মসজিদের জায়গায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে রামমন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য রায় দেয়া। দু’টি ঘটনাকে বিজেপি নিজেদের বড় বিজয় বলে দেখছে। অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে বড় সফলতা পাওয়ায় বিজেপির হিন্দুত্ববাদ বেগবান হয়েছে। ভারতকে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর একান্ত দেশ বানানোর প্রচেষ্টায় ক্ষমতাসীনরা সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করেছে।

আমাদের সবার জানা, অভিবাসন একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। ইতিহাসের সব পর্বে মানুষের অভিবাসন চলেছে। এখনকার জাতিরাষ্ট্রের সীমানা অভিবাসনের গতি সীমিত করেছে বটে; এরপরও অভিবাসন অনিবার্য হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে বিদ্যমান। গত এক দশকে লাখ লাখ মানুষের অস্বাভাবিক অভিবাসন হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া থেকে হাজারো মানুষের দুনিয়ার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া। বাধ্য হয়ে হাজার হাজার অভিবাসীকে আশ্রয় দিয়েছে ইউরোপ। জার্মানি স্বেচ্ছায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাক্রান্ত অভিবাসীদের গ্রহণ করেছে। ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার কমেছে। তবে আগে দুনিয়ার অভিবাসীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত ছিল আমেরিকা। মিয়ানমারের রাখাইন থেকে ১৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ১৯৪৭ সালের আগে এ উপমহাদেশের সবাই এক দেশের বাসিন্দা ছিলেন। মানুষ এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গিয়ে বসতি স্থাপন করেছেন। সাতচল্লিশের পরও বিভিন্ন সময় উপমহাদেশের মানুষের মধ্যে অভিবাসন হয়েছে। এর বেশির ভাগই ছিল স্বেচ্ছায় ঠিকানা বদল।

ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান উপমহাদেশের সব দেশেই যদি নতুন করে নাগরিকপঞ্জি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়; তাহলে এসব দেশের নাগরিকদের বড় একটি অংশ তাদের নাগরিকত্বের সনদ দেখাতে পারবে না। তাহলে প্রশ্ন ওঠা স্বভাবিক, এসব মানুষ কি নাগরিকত্বহীন হয়ে যাবেন? তাদের কোনো ঠিকানা কি থাকবে না? ভারতের কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে এমন কাজ উপমহাদেশের সব দেশই করলে ফল কী দাঁড়াবে? পরিণতিতে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়া ছাড়া প্রাপ্তির খাতা শূন্যই থাকবে। এরপরও ভারত এ প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেবে বলেই এখন পর্যন্ত প্রতীয়মান হচ্ছে। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে বিজেপি কী করতে চাইছে; তা সবার কাছে স্পষ্ট। শুধু ধর্মীয় কারণে ভারতের ২০ কোটি মুসলমান বঞ্চিত হলে এর ফল বহুদূর গড়াবে।

ইতোমধ্যে উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক উসকানির আরো ঘটনা ঘটছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সিংহলি গোতাবায়া রাজাপাকসে। গত ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কায় গির্জায় বোমা হামলার ইস্যুটিকে সাম্প্রতিক নির্বাচনে কাজে লাগানো হয়েছে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলি বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন গোতাবায়া। তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাকসের ভাই। গোতাবায়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় পর তিনি মাহিন্দসহ তার আরেক ভাইকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছেন। অন্য দিকে সংখ্যালঘু সদস্য হিসেবে মুসলমানদের মন্ত্রিসভায় রাখার রেওয়াজ এবারই প্রথম ভঙ্গ করা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, উগ্র বৌদ্ধরা দেশটিতে বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারেন। এর মধ্যে তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা লাগিয়ে প্রভূত ক্ষতি করেছেন। বিজেপির নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার সব কিছুকে একপাশে রেখে হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠায় যেভাবে মরিয়া, তা উপমহাদেশের বাকি দেশগুলোর ওপর প্রভাব রাখবে বলেই মনে হয়। ভারতের ভেতরে সাম্প্রদায়িকতার চাষবাস সব সময় হয়েছে। কিন্তু এতদিন রাষ্ট্র হিসেবে দেশটি ওপরে ওপরে ধর্মনিরপেক্ষতার লেবাস পরে ছিল। অন্ততপক্ষে এবার বিজেপির ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত ভারতের এমনই একটি ভাবমর্যাদা ছিল। ফলে উপমহাদেশের অন্য দেশগুলো প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ড চালাতে উৎসাহ ও সমর্থন পায়নি। ভারতের বর্তমান দুরবস্থার মধ্যে উপমহাদেশের অন্যান্য দেশে প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেতে পারে; এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। নাগরিকপঞ্জি তৈরির আগে ভারতের এ বিষয়ে গভীরভাবে ভাবা উচিত।

আসামে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। সারা ভারতে এমন একটি নাগরিকপঞ্জির কাজ সমাধা করতে আরো অনেক বেশি সময়ের প্রয়োজন। এর মধ্যেই দেশটির অভ্যন্তরে এ নিয়ে নানা বিশৃঙ্খলা যে সৃষ্টি হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। দফায় দফায় দেখা দিতে পারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। নিঃসন্দেহে যা সংখ্যালঘু মুসলমানদের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। ভয়ভীতি কারণে নিরাপত্তাহীনতায় দেশটি থেকে অসংখ্য মানুষ পালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজবে। সাধারণত তারা হবে মুসলমান। সাধারণত তাদের লক্ষ্য হবে বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। অভিবাসীর তোড়ে বাংলাদেশেও অস্থিরতার জন্ম দেবে। ভারতের আশ্বাসে বসে থাকলে চরম অনাকাঙ্ক্ষিত সব পরিস্থিতির জন্ম হতে পারে।

বাংলাদেশ-ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক কেন স্বচ্ছ ও খোলাসা নয়, এ নিয়ে এখন আলোচনা শুরু হয়েছে। নাগরিক পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো আলোচিত হলে উভয় দেশের জন্য তা কল্যাণ বয়ে আনবে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে- স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বাংলাদেশে নাগরিক পর্যায়ে অগোচরে থেকে যাচ্ছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমেও খুব একটা খবর প্রকাশ হয় না। গুরুত্বপূর্ণ সব খবর জানতে হয় ভারতীয় গণমাধ্যম থেকে। কিছু দিন আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কলকাতা সফর করেছেন। এই সফরে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে দিল্লি সফর নিয়েও একই প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশের সাংবাদিকরা এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের কোনো সংবাদমাধ্যমে এ ব্যাপারে কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি। ভারতীয় পত্রিকা অনন্দবাজারের প্রকাশিত খবরে জানা যায়, দিল্লি শেখ হাসিনাকে শীতল অভ্যর্থনা জানিয়েছে। ওই খবরে বলা হয়, নভেম্বরে কলকাতায় এবং অক্টোবরে দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত যে অভ্যর্থনা জানিয়েছে; তা এত দিন চলা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে স্টেট ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর আলী রিয়াজ বাংলাদেশের একটি ইংরেজি পত্রিকায় নিবন্ধ লিখে সাংবাদিকদের প্রতি এ ব্যাপারে প্রশ্ন রেখেছেন। তার প্রশ্ন হচ্ছে- সাংবাদিকরা কি মনে করেন এ বিষয়ে সংবাদ প্রচার করা নেতিবাচক কিছু হবে, যা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর কিছু হবে? না তারা এমন ধারণা করছেন যে, সম্পর্কের এমন চিত্র প্রকাশ করা বাংলাদেশ সরকার পছন্দ করবে না? এটিকে তিনি সংবাদমাধ্যমের ‘উঁচু দরের সংবেদনশীলতা’। অর্থাৎ ‘সুপার সেনসিটিভিটি’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, পরের দিন বাংলাদেশের প্রধান সংবাদমাধ্যমে আনন্দবাজারে প্রকাশিত খবরটি কিছুটা কাটছাঁট করে মুদ্রিত হয়েছে।

ইংরেজি পত্রিকায় প্রকাশিত বাংলাদেশের ওই নিবন্ধকারের নিবন্ধের শেষ অংশটি বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক নির্ভরতা সবার জানা; রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুযায়ী তারা পরিচালিত হয়। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের ‘উঁচু দরের সংবেদনশীলতা’। অর্থাৎ ‘সুপার সেনসিটিভিটি’ এবং অসুবিধাজনক সত্য এড়িয়া যাওয়া থেকে এটি অনুমান করা যায় যে, তারা সরকারের ইশারায় চলছেন। এমনকি মিডিয়া যদি এটি বুঝেও না উঠতে পারে, তারপরও জনগণের মধ্যে এমন ধারণা হওয়াই স্বাভাবিক। এ ধরনের ঘটনা কেবল একবার ঘটছে বলে সাধারণভাবে একে আমরা উড়িয়ে দেবো তেমন নয়; আরো অনেক উদাহরণ রয়েছে। যেমন- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক চুক্তি নিয়েও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে খবর প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যম বিষয়টিতে নিশ্চুপ ছিল। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে সংবাদমাধ্যমে উপযুক্ত আলোচনা নেই। ফলে সরকারি ভাষ্য একমাত্র বিকল্প হিসেবে গৃহীত হচ্ছে। এনআরসির ফলে সৃষ্ট বাংলাদেশমুখী জনস্রোত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বড় ইস্যু হয়ে সাধারণ মানুষের আলোচনায় আসছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- বড় প্রশ্ন হিসেবে বিতর্ক হতে বাংলাদেশের গণমাধ্যম কী একে জায়গা করে দেবে?’

আলী রিয়াজের প্রশ্নের কী জবাব দেবে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম? গুরুত্বপর্ণ ইস্যুগুলো চেপে যাওয়ার মধ্যে উভয় দেশের কোনো স্বার্থ থাকতে পারে না। সাময়িকভাবে যদি মিডিয়া উভয় দেশের মধ্যে বড় ইস্যুগুলো সরকারের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে গা বাঁচানোর নীতি অবলম্বন করে এগিয়ে যায়; তাহলে ভবিষ্যতে এর ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে। চেপে যাওয়ায় কারো কারো সাময়িক লাভ হয়তো রয়েছে। এটি হয়তো সাময়িকভাবে ক্ষমতাসীন দলকে অস্বস্তির হাত থেকে বাঁচাতে পারে। তাই বলে এর ক্ষতিকর দিকটি মুছে যাবে, এমন হওয়ার নয়। সংবাদমাধ্যমের কাজ কোনো কিছুকে আড়াল করা নয়। তাদের কাজ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যু জাতির সামনে প্রকাশ করে দেয়া। আলী রিয়াজ এ ব্যাপারটি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের সামনে জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছেন।

[email protected]


আরো সংবাদ