০৫ এপ্রিল ২০২০

মোদির উগ্র জাতীয়তাবাদ আবেদন হারাচ্ছে?

নরেন্দ্র মোদি ও অমর্ত্য সেন - ছবি : সংগৃহীত

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের সব কিছু শেষ হয়ে গেছে, এমনটি মনে করার কারণ নেই। ভারতের শাসক দল বিজেপি ও এর নেতা নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রদায়িকতাভিত্তিক উগ্র জাতীয়তাবাদে বীতশ্রদ্ধ অর্থনীতিবিদ ড. সেন তার দেশের সাম্প্রতিক নীতি এবং রাজনীতির ব্যাপারে বেশ নৈরাশ্য প্রকাশ করে আসছিলেন। বলেছিলেন, ভারতীয় হিসেবে পরিচয়ের মধ্যে তিনি গর্বের কিছু অনুভব করছেন না। এখন তার সমালোচনার মধ্যেও একধরনের আশাবাদের উচ্চারণ দেখা যাচ্ছে তাৎপর্যপূর্ণভাবে। মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের সাম্প্রতিক ফলাফলে মনে হচ্ছে, ভারতীয় গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী ঐতিহ্য ফিরে আসার ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার অনেক কারণ আছে। রাজ্য দু’টিতে যে ফলাফল বিজেপি নেতৃত্ব আশা করেছিল, সে তুলনায় বাস্তবতা তাদের জন্য অনেক বেশি নৈরাশ্যজনক। ঘোষিত ফলাফল অনুসারে মহারাষ্ট্রে বিজেপি-শিবসেনা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অতিক্রম করে সরকার গঠন করবে, তবে ২০১৪ সাল থেকে তাদের আসন বেশ কমে গেছে। এখানকার মোট ২৮৮ আসনে বিজেপি-শিবসেনা ১৬২, কংগ্রেস-এনসিপি ১০৪, এমএনএস ১ এবং অন্যরা পেয়েছেন ২১টি আসন।

অথচ দাপটের সাথে বিজেপির দখলেই থাকছে মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা- এমন ইঙ্গিতই দিয়েছিল এগজিট পোল। ইন্ডিয়া টুডে-অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার এগজিট পোল অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে ২৮৮টি আসনের মধ্যে এবার ১০৯ থেকে ১২৪টি আসনে জিতবে বিজেপি। শিবসেনা পাবে ৫৭ থেকে ৭০টি আসন। ৪০ থেকে ৫০টি আসনে জিততে পারে এনসিপি। কংগ্রেসের হাতে থাকতে পারে ৩২ থেকে ৪০টি আসন। সিএনএন নিউজ ১৮ এবং আইপিএসওএসের এগজিট পোল অনুযায়ী, বিজেপি-শিবসেনা জোট পেতে পারে ২৪৩টি আসন, কংগ্রেস-এনসিপি পেতে পারে ৪১টি আসন, অন্যরা পেতে পারে চারটি আসন।

মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি হরিয়ানাতেও আবার পদ্মফুল ফুটতে চলেছে বলে উল্লেখ করেছিল এগজিট পোল। টাইমস নাউয়ের এগজিট পোলের ফল অনুযায়ী, ৯০টি আসনের মধ্যে সে রাজ্যে বিজেপি পেতে পারে ৭১টি আসন, কংগ্রেস জিততে পারে মাত্র ১১টি আসন, অন্যরা জিততে পারেন আটটি আসন। ইন্ডিয়া নিউজ-পোলস্ট্র্যাটের এগজিট পোলে বলা হয়, হরিয়ানায় বিজেপি জিততে পারে ৭৫ থেকে ৮০টি আসন, কংগ্রেস দখল করতে পারে ৯ থেকে ১২টি আসন, শূন্য কিংবা একটি আসন পেতে পারে আইএনএলডি-আকালি, অন্যরা জিততে পারেন ১ থেকে ৩টি আসন।

কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, হরিয়ানায় ৪৬-এর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য বিজেপিকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। রাজ্যটিতে তারা ৯০ আসনের মধ্যে ৭৫টি দখল করতে চেয়ে পেয়েছেন মাত্র ৪০। কংগ্রেসের ৩১ আসনের পাশাপাশি জেজেপি ১০ আসন পেয়েছে। এ দু’টি দলে জোট হলে তারা সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারত। যদিও শেষ পর্যন্ত বিজেপির সাথে জোট করেছে জেজেপি। এতে দ্বিতীয়বারের জন্য হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন বিজেপির মনোহর লাল খট্টর।

উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন জেজেপি প্রধান দুষ্মন্ত চৌতালা। এখানকার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ছয়টি কম পায়। কিন্তু, হরিয়ানার দখল ছাড়তে নারাজ ছিল পদ্ম নেতৃত্ব। অবশেষে জেজেপির হাত ধরে ফের হরিয়ানার শাসন নিজেদের দখলে রাখল বিজেপি। এর আগে জেজেপি প্রধান দুষ্মন্ত চৌতালা বলেছিলেন, হরিয়ানায় বিজেপি এগিয়ে থাকলেও সরকার গড়ার চাবি জেজেপির হাতে। কারণ, বিরোধীরা একজোট হলে হরিয়ানা দখল করতে পারবে না গেরুয়া বাহিনী। ফলাফলের পর সোনিয়া গান্ধীর সাথে দেখা করছেন কংগ্রেস নেতা ভূপিন্দর সিং হুদা। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর সিং হুদা বলেন, ‘এটা কংগ্রেস, জেজেপি, আইএনএলডি ও নির্দলদের সময়। সকলে মিলে একজোট হয়ে শক্তিশালী সরকার গড়তে হবে।’ কিন্তু তৎপর বিজেপি দ্রুত বোঝাপড়ায় চলে আসে জেজেপির সাথে। ফলে কংগ্রেসের জন্য তেমন কোনো সুযোগ থাকেনি।

এবারের ফলাফলকে বিরোধী দলের জন্য এক প্রকার ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখা উচিত। উভয় রাজ্যেই, তাদের ফলাফল আরো অনেক ভালো হতে পারত, যদি তারা সে রকম প্রত্যাশা এবং প্রস্তুতি নিয়ে অগ্রসর হতে পারতেন। নির্বাচনের আগেই বিরোধী দলের জন্য পরাজয় বরণ করে নেয়ার মতো অবস্থা ছিল। এখন তারা কেবল হারানো সুযোগের জন্য অনুশোচনা করতে পারেন।

দুই রাজ্যে নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও হরিয়ানার নির্বাচনে দস্তুরমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে হয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেসের সাথে। হরিয়ানায় রাজ্য বিজেপি সভাপতিসহ সাতজন মন্ত্রী ভোটে হেরে গেছেন। অন্য দিকে, মহারাষ্ট্রে ২৮৮টি আসনের মধ্যে ১৫৭টি আসনে জয়লাভ করছে মহারাষ্ট্র-শিবসেনা জুটি। ইতোমধ্যে বিজেপিকে ‘৫০-৫০’ তত্ত্ব অর্থাৎ আধাআধি ক্ষমতা বণ্টনের কথা ‘স্মরণ’ করিয়ে দিয়েছেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে।

দুই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই দিল্লিতে জয়ী বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের জরুরি তলব করেছেন মোদি-শাহ। হরিয়ানায় ‘ম্যাজিক ফিগার’ না পেয়েও কিভাবে ফের সরকার গঠন করা যায় এবং ফলাফলের পর মহারাষ্ট্রে শিবসেনার ‘আস্ফালন’ মোকাবেলা করার কৌশল কী হবে, তা নিয়েই অতি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ ও পরামর্শ দেবেন বলে উল্লেখ করা হয়। হরিয়ানায় সরকার গঠনে তারই প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা যায়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় হরিয়ানায় দ্বিতীয়বার সরকার গঠন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল গেরুয়া শিবিরের। উল্টো দিকে, ক্ষমতা দখলের জন্য আসরে নামে কংগ্রেসও। এ অবস্থায় ফের বাজিমাত পদ্ম শিবিরের ‘কৌটিল্য’ অমিত শাহের। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি দুষ্মন্ত চৌতালাকে পাশে বসিয়ে ডিল ফাইনাল করেন তিনি। ঘোষণা করেন, হরিয়ানায় জেজেপি-বিজেপি জোটই সরকার গঠন করবে।

মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় ভোটদানের হার খুব বেশি ছিল না। ২১ অক্টোবর ভোটগ্রহণের দিন সকাল থেকেই খুব ধীরগতিতে ভোট হয়েছে দুই রাজ্যেই। দুই রাজ্যেই বিজেপির ভোট ইস্যু ছিল কাশ্মিরে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ ও জাতীয়তাবাদ। কংগ্রেসের ইস্যু ছিল বেকারত্বসহ দেশের করুণ আর্থিক অবস্থা।

এ দু’টি নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য সতর্কতা সঙ্কেত বলেই মনে হচ্ছে। ছয় মাস আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি বাম্পার সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভারতে সরকার গঠন করেছিলেন। রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিজেপি ৩০০টিরও বেশি আসন জিতে নেয় তখন। সংখ্যাটি দলের প্রত্যাশারও বাইরে ছিল। প্রশ্ন হলো- এত অল্প সময়ে কী এমন ভুল হয়েছে? ভারতের অর্থনীতি আসলেই এখন চরম সঙ্কটকাল পার করছে। প্রতিটি অর্থনৈতিক সূচকের প্রবণতা নিম্নমুখী। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)সহ বেশির ভাগ মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠান ভারতের সম্ভাব্য জিডিপির পরিসংখ্যান নিম্নমুখী সংশোধন করছে। শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। আটটি মূল খাতের মধ্যে পাঁচটি খাতের প্রবৃদ্ধিই নেতিবাচক। রফতানি এবং আমদানির পরিসংখ্যানও নিম্নমুখী। অটো সেক্টরের অবস্থা এক অর্থে শোচনীয়। গ্রামীণ ভারত মারাত্মক সঙ্কটে ভুগছে। রাষ্ট্রে সার্বিক চাহিদা কমছে। শেয়ারবাজারে অবস্থা নৈরাশ্যজনক। রাষ্ট্রের সম্পদ জনজীবনমান উন্নয়ন ও প্রকৃতি অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নেয়ার পরিবর্তে ব্যয় করা হচ্ছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনায়। অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার পরিবর্তে বিভেদ উসকে দেয়া হচ্ছে। সমস্যা হলো, মোদি সরকার অর্থনীতিতে নিস্তেজ অবস্থা রয়েছে, তা স্বীকার করতে চাইছে না। সমস্যার উন্নয়ন কী করে হবে যদি এর বাস্তবতাই স্বীকার করা না হয়? উল্লিখিত দুই রাজ্যের ফলাফলের পর সরকারের উচিত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। এই বাস্তবতাকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার অজুহাত দিয়ে আড়াল করা আর উচিত নয়। এত দিন সেটিই করে আসছে বিজেপি নেতৃত্ব।

এই নির্বাচনের তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত হলো, একটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে উগ্র জাতীয়তাবাদের আবেদন ভারতে সীমিত হয়ে আসছে। সরকার গঠনের পর থেকে মোদি ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে ভিন্ন স্তরে নিয়ে গেছেন। সংবিধান থেকে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন সংশ্লিষ্ট ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত ধুমধামের সাথে নেয়া হয়েছিল; আর এ ধারণা ছড়িয়ে দেয়া হয় যে, কেবল প্রধানমন্ত্রী মোদিরই দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার ইচ্ছা ছিল। কেবল তিনিই পাকিস্তানকে সঠিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন। নির্বাচনের ঠিক আগে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের কথিত চারটি সন্ত্রাসী লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করতে সীমান্ত পেরিয়ে একটি ‘মিনি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানোর কথা বলা হয়। স্পষ্টতই এটি ভোটারদের ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলেনি। আর অবশ্যই এটিও দেখার বিষয় যে, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং অমিত শাহ এই নির্বাচনে ৩৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি প্রবলভাবে উত্থাপন করেছিলেন। বিজেপি এমনকি ঘোষণা করেছিল যে, সঙ্ঘ পরিবারের সাম্প্রদায়িক দর্শনের প্রবক্তা বিনায়ক দামোদর সাভারকারকে ‘ভারতরতœ’ পদক দিয়ে সম্মান জানাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অতি জাতীয়তাবাদ চাঙ্গা করার আবেদন বিজেপিকে অপ্রতিরোধ্য লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়।

এবারের নির্বাচন এ ইঙ্গিতও দেয় যে, হিন্দুত্ববাদী ভোটের একীকরণ বিজেপিশাসিত অঞ্চলেই এর সমালোচনাকারী জনগণকে অতিক্রম করতে পারেনি। গত কয়েক মাসে, বিজেপি নেতারা এনআরসি (ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস) করার প্রচারণা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। দেশজুড়ে তাদের নেতারা দাবি করেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিদায় করতে প্রতিটি রাজ্যে এনআরসি চালানো হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর হিন্দু, শিখ, পার্সি, খ্রিষ্টান, জৈন ও বৌদ্ধদের শরণার্থী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তাদের চলে যেতে বলা হবে না। তবে মুসলিম অভিবাসীদের এই সুযোগ দেয়া হবে না। বিজেপি এ ব্যাপারে একটি আইন প্রণয়নের পরিকল্পনার কথাও জানায়। দলের নেতারা পরোক্ষভাবে ‘অভ্যন্তরীণ শত্রু এবং উইপোকা’ হিসেবে উল্লেখ করে কথিত ‘বাংলাদেশী মুসলমানদের’ শনাক্তকরণ ও বিতাড়নকে হিন্দুত্বের অ্যাজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

এনডিটিভির কলামিস্ট আশুতোষের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলো, বিশেষত কংগ্রেস আগের লোকসভা নির্বাচনের পর কার্যত হতাশায় পড়েছে। তারা এখনো শক-এর মধ্যেই আছেন। জাতীয় নির্বাচনের পর পাঁচ মাসে তারা ভোটারদের মধ্যে আস্থা জাগাতে কিছু করেননি। রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, মায়াবতী, তেজস্বী যাদব সবাই খোলসের মধ্যে চলে গেছেন এবং বাইরে আসতে অস্বীকার করছেন। কংগ্রেস প্রধানের পদ থেকে রাহুল গান্ধী পদত্যাগ করেছেন। কংগ্রেস নেতারা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন টুইটারের মধ্যে। সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের এ দলটিতে কোনো একক আখ্যানই আর থাকেনি। দলটি ধারা ৩৭০ এবং বীর সাভারকারের বিষয়ে উল্লম্বভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক মন্দাকে একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করতে তারা ব্যর্থ হন। আরো ভালো প্রস্তুতি এবং নেতৃত্বের শক্ত অবস্থান থাকলে কংগ্রেস সহজেই বিজেপি পক্ষের জয়কে ঘুরিয়ে দিতে পারত।

আশুতোষ উল্লেখ করেন, সময় এসেছে কংগ্রেস নেতৃত্বের স্থানীয় নেতাদের আদেশ-নির্দেশ দেয়া বন্ধ করার। আঞ্চলিক নেতাদের কাজ করার ক্ষমতা এবং স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে। ভূপিন্দর সিং হুদা একটি দুর্দান্ত উদাহরণ। দুই মাস আগে, তিনি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি এতটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন যে, কংগ্রেস দল ত্যাগ করে নিজে আঞ্চলিক দল গঠন করে সেটিকে নিয়ে এগোতে প্রস্তুত ছিলেন। অবশেষে, সোনিয়া গান্ধী বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন এবং সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তাকে নির্বাচনের প্রচার কমিটির নেতা করেছিলেন। হরিয়ানায় নেতৃত্বের সময়োপযোগী পরিবর্তন ঘটলে এবং হুদা আরো বেশি সময় পেলে কংগ্রেস নিজে থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারত। একইভাবে, মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস নেতৃত্বহীন ছিল। শারদপাওয়ার তার দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পেরেছেন। কিন্তু কংগ্রেসে সেটি দেখা যায়নি। বিলাস রাও দেশমুখের মৃত্যুর পর থেকে রাজ্যে কংগ্রেসের সে মাপের কোনো নেতা আসেননি। গত পাঁচ বছরে গণভিত্তি সম্পন্ন কাউকে কোনো ধরনের আঞ্চলিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হতে উৎসাহও দেয়া হয়নি।

গণতন্ত্রে দুর্বল বিরোধীরা কাম্য নয়। বিরোধী দল, বিশেষত কংগ্রেস মানুষকে যথেষ্ট হতাশ করেছে। কংগ্রেসের উচিত নিজের ব্যর্থতা থেকে পাঠ নেয়া এবং নতুন লড়াইয়ের জন্য পুনরায় সঞ্জীবিত হওয়া। এবারে দু’টি রাজ্যের ফলাফল প্রমাণ করে, ভারতে সব কিছু এখনো হারিয়ে যায়নি। ভারতীয় জনগণ বিকল্পের জন্য অপেক্ষা করছে। উগ্র জাতীয়তাবাদ অন্য সব কিছুর ব্যাপারে তাদের অন্ধ করে দিয়েছে বলে যে ধারণা- সেটি সঠিক নয়। জনগণের অর্থনৈতিক ভালো-মন্দ এবং কল্যাণমুখী ভাবনা উগ্র জাতীয়তাবাদকে পরাভূত করতে পারার লক্ষণ এখন ভারতে ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর শর্ত হলো, সব বিরোধী পক্ষকে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। বিরোধী পক্ষে বড় বড় ফাটল ও বিভাজন রেখে সে লক্ষ্য অর্জন করা যাবে না।

[email protected]


আরো সংবাদ