৩০ মে ২০২০

কী বলার আছে চালক ও হেলপারদের

-

গাড়ির যাত্রী ও বাসের হেলপার-কন্ডাক্টর সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ ব্যাপারটি খুব একটা আলোচনায় আসে না। গাড়ির যাত্রী ও স্টাফ সব সময় বিপরীত মেরুতে অবস্থান করেন। একে অন্যকে তারা যথাযথ মূল্যায়ন করেন না। একটা বিদ্বেষের মনোভাব উভয়ের মধ্যে সাধারণত কাজ করে। তাই গাড়িতে দেখা যায় প্রতিপক্ষের প্রতি অসুস্থ আচরণ করতে। এই বিদ্বেষ থেকে অনেক সময় বড় ধরনের ক্ষতিও হয়ে যাচ্ছে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হত্যার কারণ এ ধরনের অসুস্থ আচরণের সূত্রেই ঘটেছে। বাসের চালক ও হেলপাররা সাধারণত সমাজের এমন একটা শ্রেণী থেকে আসেন, তাদের জন্য ‘আচার-আচরণ’ শিক্ষার বিষয়টি প্রয়োজনীয়। অনেক ক্ষেত্রে তারা যাত্রীদের প্রতি সঠিক আচরণটি করতে পারেন না।

আবার যাত্রীসাধারণের অনেকে বাসের স্টাফদের সাথে সঠিক আচরণ করেন না। অনেক সময় ‘তুই তোকারি’ সম্বোধনের শিকার হন তারা। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের এমন ভাষা প্রয়োগ অমানবিক। এমন রূঢ় ও অসম্মানজনক আচরণের মুখোমুখি হতে হতে বাসের স্টাফরা যাত্রীদের ব্যাপারে একটি গড় নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। নিজেদের তারা যাত্রীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করেন।

অন্য দিকে ছাত্ররাই যেন তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ। ছাত্ররা গাড়িতে উঠে অর্ধেক ভাড়া দিতে চান। কখনো কখনো অর্ধেকটাও দিতে চান না তারা। অন্য দিকে স্টাফেরা যতটা পারা যায় তাদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করতে চান। ফলে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া-ফ্যাসাদ লেগেই থাকে। ছাত্ররা সাধারণত সঙ্ঘবদ্ধ শক্তি হিসেবে গাড়ির স্টাফদের ওপর চড়াও হন। তাদের মারধর করেন এবং খারাপ আচরণ করে থাকেন। কখনো তারা গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং পুড়িয়ে দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটান। একইভাবে গাড়ির স্টাফেরাও সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। যখনই ছাত্রদের বাগে পান, তারা রূঢ় আচরণ করেন। তারাও একত্র হয়ে ছাত্রদের মারধর করেন কখনো-সখনো।

সড়কে বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আছে আমাদের ব্যর্থতা। সম্প্রতি ছাত্ররাই প্রথম একটা কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলেন। এই আন্দোলনে সংস্কার ও সংশোধনের পথটি সুন্দর করে কর্তৃপক্ষকে দেখিয়ে দিয়েছেন ছাত্ররা। সরকার সে পথে হাঁটেনি, বরং একটি পক্ষ সুকৌশলে পরিবহন খাতের সাথে জড়িতদের ছাত্রদের প্রতিপক্ষ বানিয়ে দিয়েছে। এখন ছাত্র দেখলেই পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা ভালো চোখে দেখছেন না। এ ধরনের হিংসাত্মক মনোভাবের চরম প্রকাশ দেখা গেল সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের ওপর। ভাড়া নিয়ে ১১ জন ছাত্রের সাথে চালক-হেলপারের তর্কবিতর্ক হয়েছে। ছাত্ররা ভাড়া পরিশোধ করেছেন। কিন্তু নামার সময় তারা শত্রুতার প্রকাশ ঘটালেন। সবশেষে নামা ছাত্রটিকে ‘হত্যার’ মাধ্যমে তারা প্রতিশোধ নিলেন। এখন যানবাহনে প্রায়ই দেখা যায় ছাত্রদের প্রতি গাড়ির স্টাফেরা সুযোগ পেলে খারাপ আচরণ করছেন। আবার ছাত্ররা সংখ্যায় বেশি থাকলে তার উল্টোটা হচ্ছে।

বাসের স্টাফ সাধারণত এমন একটা সমাজব্যবস্থা থেকে উঠে আসেন, যেখানে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের ধারণাটি হয়তো তাদের অনেকে পান না। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই আচরণ কিছুটা হলেও আয়ত্ত করা যায়। গাড়িতে সহকারী হিসেবে কাজ শুরুর আগে এমন প্রশিক্ষণ পেলে তারাও একটা পেশাদারি মনোভাব অর্জন করতে পারেন। যেমন প্লেনের বিমানবালা ও কেবিন ক্রুরা যাত্রীদের প্রতি নমনীয় ও আকাক্সিক্ষত আচরণ করে থাকেন। বাসের চালক ও সহকারীদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের কোনো উদ্যোগ নেই; বরং যেনতেনভাবে লাইসেন্স দেয়ার সুযোগ করে দিয়ে পরিবহন খাতে অনেকে নেতা বনে আছেন। আর তারা বড় ধরনের সুযোগ লুটে নিচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকদের কাছ থেকে। শ্রমিকদের সঙ্ঘবদ্ধ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই নেতারা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করছেন।

যাত্রীসাধারণের অনেকে গাড়ির স্টাফদের প্রতি সঙ্গত আচরণ দেখান না। একজন মানুষ হিসেবে গাড়ির স্টাফও মর্যাদায় একজন যাত্রীর সমান, সেটা অনেকের ধারণায় নেই। যাত্রীদের ভাবতে হবে স্টাফদের মানবিক মর্যাদা নিয়ে। তাদের কোনোভাবেই হীন চোখে দেখা যাবে না। যতক্ষণ না মানসিকতায় এই পরিবর্তন আনা যাবে; ততক্ষণ পর্যন্ত স্টাফদের কাছ থেকেও উন্নত আচরণ আশা করা সঙ্গত হবে না। মানুষের প্রতি সমমর্যাদার ধারণাটি আমাদের সমাজে এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সাধারণত কর্মের ভিত্তিতে মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হয় এই সমাজে। অনেক দেশেই সব মানুষের প্রতি সমান মর্যাদাবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের সমাজে জাতপাতের কুসংস্কার এখনো বড় আকারে রয়ে গেছে।

একজন স্টাফ যদি দরিদ্র বঞ্চিত গোষ্ঠী থেকে এসে থাকেন, তারপরও মানুষ হিসেবে তার মর্যাদা রয়েছে- যাত্রীদের এ ব্যাপারটি উপলব্ধি করতে হবে। ছাত্রদের সাথে বিতণ্ডার মূল কারণ ভাড়া। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষীয় একটা সিদ্ধান্ত দরকার। কিছু বাসে ছাত্রদের অর্ধেক ভাড়া নেয়, আবার কিছু বাসে নেয় না। নিশ্চয়ই একটা সার্বজনীন নিয়ম থাকা দরকার। ছাত্রদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাকি অর্ধেক টাকা কিভাবে ক্ষতি পুষিয়ে নেবে, সেটাও স্পষ্ট করতে হবে। কখনো দেখা যায়, যাত্রীদের একটা বড় অংশ ছাত্র। সবার কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নিলে স্টাফরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বিশেষ করে রাজধানীর মতো জায়গা, যেখানে বড় একটা চাঁদা দিয়ে তাদের রাস্তায় গাড়ি নামাতে হয়; সেখানে এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের টিকে থাকা কঠিন।

যতটুকু দেখা যাচ্ছে, পরিবহন খাতকে কিছু অসাধু নেতা ব্যবহার করছেন। টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে চাঁদাবাজির নেপথ্যে তারাই রয়েছেন। এ টাকা অন্যদের মধ্যেও বণ্টিত হচ্ছে। এ চক্রটিই সড়ক ও যানবাহনে সংস্কারের কাজ হতে দিচ্ছেন না। সাধারণ শ্রমিকরা এটাকে দেখছেন তাদের প্রতি নেতাদের আশীর্বাদ হিসেবে। তারা মনে করছেন, গরু-ছাগল চিনলে গাড়ি চালাতে পারবে, চালক হতে পারবে- এমন বক্তব্য দিয়ে নেতারা তাদের পক্ষে আছেন। বাস্তবে চালকের লাইসেন্স পাওয়া, সড়কে গাড়ির পারমিট পাওয়া এবং ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে সংস্কার হলে প্রকৃতপক্ষে পরিবহন শ্রমিকদের লাভ হবে। আর যদি দিনের পর দিন এই বিশৃঙ্খলা থেকে যায় তাতে ফায়দা তুলবেন তথাকথিত নেতারা, অসাধু প্রশাসন ও পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা।

আর প্রতিটি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী হতে থাকবেন চালক ও হেলপার। গাড়ির সাথে যাদের জীবিকা জড়িত। ব্যাপারটি শ্রমিকদের বোঝা দরকার। একটা লাইসেন্স পাওয়ার স্বচ্ছতা এবং গাড়ির পারমিট পাওয়ায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা কোনোভাবেই তাদের জন্য ক্ষতিকর হবে না। সঠিক ও স্বচ্ছ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত হলে পরিবহন খাতের শ্রমিকরা লাভবান হবেন। এতে করে অসাধু নেতাদের ওপর তাদের নির্ভর করতে হবে না; বরং এই অসাধু চক্র দৃশ্যপট থেকে বিদায় হলে পদে পদে চাঁদার ঘানি তাদের ওপর থাকবে না। এরপর যাত্রী ও গাড়ি স্টাফদের মধ্যে একটা কোড অব কন্ডাক্ট থাকতে হবে। এতে গাড়ির চালক-হেলপারের সাথে মূল্যবোধ বজায় রেখে আচরণ করতে হবে যাত্রীদের। এ ক্ষেত্রে স্টাফদেরও সঠিক আচরণটি রপ্ত করতে হবে।

একটি অসাধু চক্রের ওপর ভর করে পরিবহন খাতকে অনিয়মের জঞ্জালের মধ্যে বন্দী করে রাখলে আখেরে শ্রমিকের জন্য ক্ষতি। সড়কে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ছাত্র হত্যার আন্দোলন থেকে শ্রমিকরা শিক্ষা নিতে পারেন। তারা এই শপথ নিতে পারেন: ‘নেতাদের লেজুড় ধরে থাকব না’। কারণ, সময়মতো এই নেতারা তাদের পক্ষে কথা বলেন না; বরং সমাজে যখন তাদের ‘নীচু’ শ্রেণীর মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তখন এই নেতারা তাদের পক্ষে কিছুই বলেন না।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হত্যার পরপর ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসেন। শিক্ষক সমাজ, নাগরিক সমাজ ও সমাজের অভিজাত শ্রেণী তাদের পক্ষে এসে দাঁড়ায়। আর পুলিশও তড়িঘড়ি করে অভিযুক্ত চালক ও হেলপারকে আটক করেছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিভিন্ন জেলা থেকে এদের আটক চাট্টিখানি কথা নয়। ত্বরিত গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযুক্ত শনাক্ত করা হয়েছে। তারপর তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। এরপর স্থানীয় পুলিশের মাধ্যমে তাদের আটক করতে পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান পরিচালন করা হয়েছে। ছাত্ররা নিজেরা সংগঠিত। একইভাবে সমাজের প্রতিষ্ঠিত অংশের সবাই তাদের সাথে নামতে দেরি করে না। এ ধরনের একাট্টা হওয়ার প্রবণতা বিচার পাওয়ার ক্ষেত্র সহজ করে।

ব্যাপারটি পরিবহনের চালক ও শ্রমিকদের ভাবতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহলে এতটা তড়িৎগতিতে তারা এর প্রতিবিধান পান না কিংবা সমাজের বিত্তশালী অংশ তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন না। একজন চালক ও শ্রমিকের প্রাণ গেলে সমাজের বৃহত্তর অংশের হৃদয় কেঁপে ওঠে না।

রাজধানীতে কতটা কষ্ট করে পরিবহন শ্রমিকদের আয় করতে হয়, সেটি প্রায় সবার জানা। একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ঢাকার রাস্তায় বাস নামালে দৈনিক ছয় হাজার টাকা দিতে হয়। মালিকের জমা, রাস্তার দৈনিক চাঁদা, পুলিশের বখরা, মাস্তান ভাতাসহ সব মিলিয়ে এই অর্থ তাদের পরিশোধ করতে হয়। এই টাকা আয় করার পর নিজেদের পকেটে কিছু আসবে কি না, সেই চিন্তা চালক-শ্রমিকদের করতে হয়।

খরচের তালিকায় আছে- মালিক সমিতির নামে ১১০০ টাকা, মোবাইল কোর্ট বন্ধের নামে ৫০০ টাকা, নানান শ্রমিক সংগঠনের নামে ৫০০ টাকা। এই অর্থ কেন দিতে হবে, সেই ব্যাখ্যা সরকার প্রশাসনের কেউ কি দিচ্ছে? যখন শ্রমিকরা দুর্ঘটনায় পতিত হন তখন যারা তাদের কাছ থেকে চাঁদা নিচ্ছেন, তারা কি এগিয়ে আসছেন? মালিক প্রতিদিন তিন-চার হাজার টাকার বিনিময়ে গাড়ি দেন চালককে। সেই চালক ভোর ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত গাড়ি চালান। দিনভর গাড়ি চালানোর পর নিজের পকেটে কিছু অর্থ আয়ের জন্য তারা ঝুঁকি নিচ্ছেন। এ জন্য পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালান তারা। মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে যাত্রীদের ওপর চড়াও হন তারা। তবে চাঁদা দিয়ে আয় করতে হচ্ছে বলে তারা রাস্তায় এমন অরাজকতা করবেন, সেটাও হতে পারে না।

রাজধানীর রাস্তার প্রতিটি মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাফিক পুলিশ রয়েছে। তারা করিৎকর্মা হয়ে গাড়ি ধরছেন, ছেড়ে দিচ্ছেন, আবার কারো বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছেন, কাউকে আটক করে রাখছেন। যাত্রী হয়ে গাড়িতে চলাচলের সময় যে কারো চোখে পড়বে ট্রাফিকের সতর্ক কর্তব্যকর্ম। এ ধরনের সতর্ক দায়িত্ব পালনের ফলস্বরূপ রাস্তা সব সময় জটমুক্ত থাকার কথা। বাস্তবে রাস্তা জটমুক্ত হয় না, বরং বেশির ভাগ সময় যাত্রীদের জটে পড়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়। একেবারে ব্যস্ত সময় দেখা গেল ট্রাফিক গাড়ি আটক করে দিলো। যাত্রীরা যেই সময় অফিসে পৌঁছানোর জন্য উদগ্রীব থাকেন। আবার সারা দিন কর্মক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরছেন, ঠিক এ সময় দেখা যায় বোঝাই বাসটি আটকে দিলেন ট্রাফিক মশাই।

গাড়ি কেন আটক করা হচ্ছে বেশির ভাগ সময় তা বোঝা যায় না। সাধারণত হেলপারকে দেখা যায় কাগজপত্র নিয়ে ছোটাছুটি করতে। দূরে রাস্তার আড়ালে ঘুপচিতে দেখা যায় দেনদরবার। চালক হাঁক ছাড়েন- টাকা দিয়ে দে। কিছু অর্থকড়ি চাহিদামতো ছাড়া হলে গাড়ি ছেড়ে দিচ্ছে। ট্রাফিক যে একেবারে বিনা কারণে গাড়ি আটক করছেন, ব্যাপারটা এমনও নয়। চালকের ভুলত্রুটিকে অছিলা করে গাড়ি আটক করা হয়। তবে ট্রাফিকের এমন গাড়ি আটক ভুল শোধরানো কিংবা শাস্তি দিয়ে চালক-হেলপারকে সংস্কারের জন্য হয় না। মূলত ভুলত্রুটিকে অর্থ আদায়ের সুযোগ হিসেবে নেয়া হয়। রং সাইটে গাড়ি চালানো, লাইসেন্স না থাকা বা আপডেট না থাকা, গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট না থাকা এগুলো ট্রাফিক পুলিশের জন্য একটা হাতিয়ার। মামলা দায়ের করে পুলিশ সেখান থেকে একটা অংশ পায়। সেটা একটা নির্ধারিত সংখ্যক মামলা। এতে সম্ভবত তাদের পোষায় না, তাই এর বাইরে গিয়ে গাড়ি আটক করে। এতে বেশি হারে আইনকানুনের প্রতি অনুগত হয়ে যাচ্ছেন চালক-হেলপাররা তা দেখা যাচ্ছে না।

ট্রাফিকের কর্মকাণ্ডে রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরার পরিবর্তে তৈরি হচ্ছে অরাজকতা। যেকোনো সময় ট্রাফিকের এমন তৎপরতার শিকার হয়ে যাচ্ছেন যাত্রীরা। গাড়ির এতগুলো যাত্রীর অসুবিধার দিকটি মোটেই চিন্তা করা হচ্ছে না। ট্রাফিকের অন্যায় কর্ম প্রতিরোধে কাউকে সামনে এগিয়ে আসতে দেখা যায় না। এমন প্রতিরোধের পরণতি সবাই জানেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় ‘জনগণের সার্বভৌমত্ব’ স্বীকৃতি দেয়া হলেও কার্যক্ষেত্রে এর প্রয়োগ নেই। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচিত ব্যক্তিদেরই শুধু সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক হিসেবে দেখা যায়। সে জন্য কোনো অন্যায় কর্মের প্রতিবাদ করতে জনসাধারণ দ্বিধাগ্রস্ত। তবে এভাবে যাত্রাপথে গাড়ি আটকে দেয়ায় বিরক্ত হয়ে যাত্রীরা গালিগালাজ করেন।
[email protected]


আরো সংবাদ