সময়টা এখন ফুটবল বিশ্বকাপের। আগামী দেড় মাস পুরো বিশ্ব বুঁদ হয়ে থাকবে ফুটবলের উন্মাদনায়। ঠিক একই সময়ে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে আতিথ্য দেবে বাংলাদেশ। খেলবে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। বিদ্যুৎ খরচ যতটা সম্ভব বাঁচাতে, আগের সিরিজের মতো এবারো খেলা শুরু বেলা ১১টায়।
‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’র উন্মাদনার মাঝেও এই সিরিজ বেশ রোমাঞ্চকর হবে বলে আশা অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জশ ইংলিসের। জানালেন ফুটবলের ডামাডোলের মাঝেই তিনি রোমাঞ্চ খুঁজছেন।
সিরিজটি রোমাঞ্চকর করে তোলে ‘অপেক্ষা’। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে সবশেষ মুখোমুখি হয়েছে সেই ২০১১ সালের এপ্রিলে! এই ১৫ বছরে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে আর দেখা হয়নি তাদের।
এই সময়ে ওয়ানডে সংস্করণে দু’দলের দেখা হয়েছে মাত্র চারবার। তিনবার বিশ্বকাপে, আর একবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। যদিও মাঝে টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট সিরিজ খেলেছে দু’দল। তা বহু আগে।
সবশেষ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হয়েছে অ্যান্টিগায় ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে আরো আগে, ২০২১ সালে। সেবার বাংলাদেশে এসে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া।
তবে বড় অপেক্ষা ওয়ানডেতেই। অবস্থা এমন যে এই দু’দলে থাকা ক্রিকেটারদের কারো অভিজ্ঞতা নেই পরস্পরের সাথে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে খেলার!
দীর্ঘ সেই খরা অবশেষে কাটছে যদিও এবার, তবে কাটাতে হবে জয়খরাও। ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস বাংলাদেশের জন্য সুখকর কিছু নয়। জয় যেন সোনার হরিণ সমতুল্য।
এখন পর্যন্ত ২২ দেখায় ২০০৫ সালে কার্ডিফের সেই ঐতিহাসিক জয়টিই কেবল বাংলাদেশের অর্জন। সেই অর্জনের পাল্লা নিশ্চয়ই এবার আরেকটু ভারী করতে চাইবে টাইগাররা। সুযোগও আছে বলা যায়।
সিরিজ শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও স্পষ্টই বলে দিয়েছেন, ‘আমাদের একটাই পরিকল্পনা, আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে, ম্যাচ জিততে হবে।’
এই কাজটা সাম্প্রতিক সময়ে ভালোভাবেই করছে মিরাজের দল। সবশেষ তিনটি ওয়ানডে সিরিজে তারা জিতেছে। সিরিজ হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে। এবার অজিদের পালা।
সুযোগ করে দিয়েছে ভাগ্য। অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত পেসত্রয়ী মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও প্যাট কামিন্স এই সিরিজের বাইরে ছিলেন আগে থেকেই। শেষ সময়ে ছিটকে গেছেন ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শও।
অভিজ্ঞ পাঁচ ক্রিকেটারের না থাকা বাংলাদেশকে খানিকটা হলেও দেবে বাড়তি সুবিধা। যদিও মিরাজ সে সব নিয়ে ভাবছেন না। সমীহ করছেন ক্রিকেটের পরাক্রমশালী দেশটিকে। সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ওরা যে দলটা এসেছে, তারাও অনেক ভালো দল ও শক্তিশালী দল। আমরা আমাদের ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করব। আমরা ওদেরকে নিয়ে বেশি চিন্তা না করে আমাদের জায়গা থেকে পারফর্ম করার চেষ্টা করব।’
সেই সাথে ওয়ানডে ইতিহাসের সফলতম দল ও রেকর্ড ছয়বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সাথে খেলার রোমাঞ্চ ফুটে উঠল মিরাজের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক রোমাঞ্চিত যে অনেক দিন পর অস্ট্রেলিয়ার সাথে সিরিজ খেলছি, অধিনায়ক হিসেবেও আমি রোমাঞ্চিত।’



