০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯, ১১ রজব ১৪৪৪
ads
`

সেই গয়কোচিয়া এখন ক্রীড়া সাংবাদিক

-

১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে টাইব্রেকার ঠেকিয়ে হিরো সার্জিও গয়কোচিয়া। ইতালিতে অনুষ্ঠিত সেই আসরে তিনি শুধু সেমিফাইনালে ইতালির দু’টি টাইব্রেকার শটই আটকে দেননি, কোয়ার্টার ফাইনালেও সফল তিনি। তার দুই শট ঠেকানোর কৃতিত্বে যুগোসøাভিয়ার বিপক্ষে জয়। এই প্রজন্মের আর্জেন্টাইন সমর্থকরা অনেকেই চেনেন না এই গয়কোচিয়াকে। তবে ’৯০-এর ইতালি বিশ্বকাপের অন্যতম নায়ক তিনি। তার দুই হাতের ওপর ভর করেই ম্যারাডোনার নেতৃত্বাধীন দল সর্বশেষ ফাইনালে খেলেছিল। ফাইনালেও তিনি শিরোপা জয়ের নায়ক হয়ে যেতে পারতেন, যদি ৮৭ মিনিটে জার্মানির আন্দ্রে ব্রেমার শটটি অল্পের জন্য হাতে লাগাতে ব্যর্থ না হতেন। সেই গয়কোচিয়া এখন আর্জেন্টিনার একটি রেডিওর সাংবাদিক। মানে বিষেশজ্ঞ ধারাভাষ্যকার। পরশু রাতে (৩০ নভেম্বর) হঠাৎই তাকে পাওয়া গেল কাতার বিশ্বকাপের মেইন মিডিয়া সেন্টারে। টিভিতে কাউকে দেখা তা-ও আবার ৩২ বছর আগে। এরপর তাকে সামনা-সামনী দেখলে চিনতে কষ্টই হয়। আমিও চিনতে পারতাম না, যদি অন্য কয়েকজনকে তার সাথে ছবি তুলতে না দেখতাম।
সেই ছবি তোলার সূত্র ধরেই তাকে প্রশ্ন, আপনি তো গয়কোচিয়া। তাই না? মৃদু হেসে হ্যাঁ সূচক উত্তর এই গোলরক্ষকের। আমি বাংলাদেশের সাংবাদিক। নিশ্চয় চেনেন বাংলাদেশকে? সাথে সাথে তার মুখ ভরা হাসি। ‘হ্যাঁ, আমি বাংলাদেশকে চিনি। সেখানে প্রচুর আর্জেন্টিনার ভক্ত। আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করার জন্য তাদের প্রতি আমার অভিনন্দন এবং ভালোবাসা।’ এরপর নিজ থেকেই তার সাথে থাকা অন্য আর্জেন্টিনার সাংবাদিকদের সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিলো বাংলাদেশী হিসেবে।
এরপর কথা আরেকটু বাড়ানোর চেষ্টা করলে এই গোলরক্ষকের আত্মপক্ষ সমর্থন, ‘আমার ইংরেজি একেবারেই দুর্বল। বেশি প্রশ্ন করা যাবে না। কথা বলার সময়ও নেই আমার।’ তার পরও তাকে অল্প কয়েকটি প্রশ্ন করা।
প্রশ্ন : আপনি তো ইতালি বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালে টাইব্রেকার ঠেকিয়ে নায়ক বনে গিয়েছিলেন। আপনার এই স্পট কিক ঠেকানো কৌশলটা কি ছিল।
গয়কোচিয়ার : এ জন্য প্রথম থিউরি হলো বলের ওপর পুরো নজর রাখতে হবে। সাথে অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই।
প্রশ্ন : খেলোয়াড়ী জীবন ছেড়ে এখন আপনি ক্রীড়া সাংবাদিক। কেমন উপভোগ করেন এই পেশা।
গয়কোচিয়া : আগে ফুটবলার ছিলাম। এরপর ক্রীড়া সাংবাদিকতায় এসেছি। ভালোই তো লাগছে।’
প্রশ্ন : ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিতে যখন টাইব্রেকারে খেলা গড়াল ও রোমেরোর কৃতিত্বে আর্জেন্টিনা জিতল টাইব্রেকারে, কেমন লেগেছিল আপনার। কারণ আপনার পর আরেক আর্জেন্টনাই কিপার সেমিতে হিরো হলেন। নিজেও ছিলেন গ্যালারিতে?
গয়কোচিয়া : অবশ্যই ভালো লেগেছিল ফের এই পেনাল্টি শুটআউটে জিততে পারায়।
প্রশ্ন : এবার কি আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে?
গয়কোচিয়া : আমি এই নিয়ে কোনো কথাই বলব না। যদিও চাই আমার দেশ শিরোপা জিতুক। এরপরই ব্যস্ততার কথা বলে দ্রুত চলে যান।
উল্লেখ্য, গয়কোচিয়ার পর ও সার্জিও রোমেরোর আগে আর্জেন্টিনা একবারই বিশ্বকাপ ফুটবলে টাইব্রেকারে জিতেছিল। তা ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে চির শত্রু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তখন গোলরক্ষক ছিলেন কার্লোস রোয়া। ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনা এই স্পট কিকে জার্মানির কাছে হারে বদলি গোলরক্ষক ফ্রাঙ্কো কিছুই করতে না পারায়।
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ কভার করতে গিয়ে জেনেছিলাম ব্রাজিলের বিশ্বকাপের প্রেস বক্সের ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া জোনে পাওয়া যায় তাকে। সাওপাওলোর মাঠে সেবার যখন সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে হারায়, তখন তার সাথে কথা বলার জন্য অনেক খুঁজেছিলাম। কিন্তু সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে গ্যালারির শেষ পর্যন্ত উঠেছিলাম। কিন্তু মিলেনি সাক্ষাৎ। তখন তার একটু বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা ছিল। কারণ ১৯৯০ সালের পর সেবারই ফের বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে আর্জেন্টিনা। ঠিক তার মতোই সে আসরে টাইব্রেকারে দু’টি শট আটকে দেন আরেক গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো। তবে সামান্য আগেই চলে যাওয়ায় তাকে পাইনি।
১৯৯০ সালে তিনি গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচেই বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ১৯৮৬-এর বিশ্বকাপ জয়ী গোলরক্ষক নেরি পাম্পিডো মারাত্মক আহত হয়ে মাঠ ছাড়ার পর। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে দলে থাকলেও ল্ইুস ইসলাসের জন্য কোনো ম্যাচে সুযোগ পাননি তিনি।


আরো সংবাদ


premium cement