০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

ভারতের বিপক্ষে আমার ২ গোল ছিল প্রতিশোধ

সিরাত জাহান স্বপ্না -

সবার মাতামাতি নেপালের বিপক্ষে ফাইনালে জোড়া গোল করা কৃষ্ণা রানী সরকারকে নিয়ে। কিন্তু যার করা দুই গোলের উপর বাংলাদেশের গ্রুপ চ্যাম্পিয়নশিপ নিশ্চিত হয়ে সেমিতে দুর্বল ভুটানকে পাওয়া সেই সিরাত জাহান স্বপ্নাকে ঘিরে কারো আগ্রহ নেই। সেমিতে ভুটানের বিপক্ষে ৮ গোলের জয়ের প্রথম গোলটি করেই ইনজুরির জন্য মাঠ ছাড়েন স্বপ্না। ফাইনালেও পায়ের গোড়ালির ইনজুরির জন্য অল্প কিছুক্ষণ পরেই উঠে যেত হয় এই স্ট্রাইকারকে। ইনজুরির জন্য সেমি এবং ফাইনালে অল্প কিছুক্ষণ মাঠে থাকা এই ফুটবলারের পুরো সময় খেলতে না পারার কষ্ট মুছে যায় বাংলাদেশের র্শিরোপা জয়ের মাধ্যমে। তবে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে করা জোড়া গোলের ঘটনা ভুলতে পারছেন না রংপুরের এই মেয়ে। ২০১৬ সালের সাফের ফাইনালে এবং ২০১৯ সালের সেমিতে ভারতের কাছে হারের প্রতিশোধটাই এবার নিলেন স্বপ্না। যা সাফের ইতিহাসে ভারতীয়দের প্রথম হার।
ইংল্যান্ডের লিগে খেলা ভারতীয় গোলরক্ষক অদিতি চৌহান। ২০১৯ সালে নেপালের ভিরাতনগরে অনুষ্ঠিত সেমিতে ভারতের কাছে বাংলাদেশের ০-৪ গোলে হারের ম্যাচে ভারতীয় এই কিপারের সাথে কয়েক দফা বিবাদে জড়ান স্বপ্না। ম্যাচ শেষেও এর রেশ চলছিল। এবার সেই অদিতি চৌহানকে তিনবার জাল থেকে বল কুড়িয়ে আনতে বাধ্য করা। অপর গোলটি করেন কৃষ্ণা। স্বপ্না ভুলে যাননি আগের সাফে তাকে উদ্দেশ করে দেয়া ভারতীয় কিপারের বাজে মন্তব্যটি। জানান, ‘আমার মধ্যে প্রতিশোধ নেশাটা কাজ করছিল, পণ করি ভারতের গোলরক্ষকের বিপক্ষে গোল করে আগের বার আমাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করার প্রতিশোধটা নেবো। সেই সুযোগ আসে নেপালের মাঠে। ১২ ও ৫২ মিনিটে দুই গোল করি আমি।’ এরপর উল্লেখ করেন, প্রথম গোলটি করার পর আমি নিশ্চিত ছিলাম না তা গোল হয়েছে কিনা। অন্যরা উল্লাস করলেও আমি বারবার পেছনে ফিরে দেখছিলাম। কারণ গোলটা যে করেছিলাম ভারতের বিপক্ষে।’
ভারতের বিপক্ষে এবারই প্রথম গোল করা নয় স্বপ্নার। ২০১৬ সালের ফাইনালে তার গোলে স্কোর ১-১ হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত ১-৩ গোলে হার। এবার ভারতের বিপক্ষে দুই গোল। স্বপ্নার জবাব, ‘ভারত আগের পাঁচ সাফেরই চ্যাম্পিয়ন দল। তারা আগে কোনো ম্যাচই হারেনি সাফে। তাই তাদের বিপক্ষে সব সময়ই ভালো খেলার ছেদ থাকে।’ এবারের সাফে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটিসহ মোট চার গোল করেন স্বপ্না। তবে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে পুরো সময় খেলতে পারলে আরো গোল পেতেন এই দ্রুতগতির স্ট্রাইকার। ২০১৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করানো এই ফুটবলারেরও আফসোস। ‘আমি যদি ভুটানের বিপক্ষে ৯০ মিনিট মাঠে থাকতে পারতাম তাহলে হয়তো আরো দু-তিনটি গোল আসত। প্রথম গোলটি করেছিলাম দেড় মিনিটে।’ এরপর ১২ মিনিটে আহত হয়ে মাঠ ত্যাগ। ফাইনালে ৯ মিনিট ছিলেন মাঠে। স্বপ্নার মতে, ‘আসলে কপালে না থাকলেতো কিছু করার নেই। তবে ফাইনালে আমি উঠে যাওয়ার পরপরই ছোট শামসুন্নাহার নেমেই দারুণ এক গোল করে আমার অভাবটা পূরণ করে দেয়।’
মহিলা ফুটবলে বাংলাদেশের সব শিরোপার সাক্ষী স্বপ্নার ফুটবলে উঠে আসা রংপুরের ১ নং পালিচরা স্কুল থেকে। বঙ্গমাতা স্কুল ফুটবলে তার দল ২০১২ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর প্ল্যানের ক্যাম্পে ডাক পেয়ে ২০১৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় দলে জায়গা করে নেয়া। ঘরোয়া লিগে বসুন্ধরা কিংসের এই ফুটবলারের লক্ষ্য বিদেশী লিগে খেলা।


আরো সংবাদ


premium cement