০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

কেমন হলো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি

-

অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড ছাড়া টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া সব দলের বিপক্ষে কোনো-না-কোনো ফরম্যাটে সিরিজ জয়ের কীর্তি রচিত ছিল বাংলাদেশের; কিন্তু টি-২০ বিশ্বকাপে নামার আগে গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে সেই তালিকা আরেকটু সমৃদ্ধ করে লাল-সবুজের দল। গত মাসে নিউজিল্যান্ডকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে তুঙ্গে আত্মবিশ্বাসে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি সারে মাহমুদুল্লাহ-মুশফিকরা। ক্রিকেটাঙ্গনে একটি কথা আছে, ‘জয়ের চেয়ে ভালো প্রস্তুতি আর কিছু নেই।’ দুই পরাশক্তিকে হারিয়ে সেটি ভালোভাবেই সম্পন্ন করেছে টাইগাররা।
অজি ও কিউই সিরিজে বাংলাদেশের প্রাপ্তির ঝুলি দারুণ। রেকর্ড, ইতিহাস, অর্জন ও কত কী! তবে খটকার জায়গাও একটা ছিল। ব্যাটিংটা খুব ভালো হয়নি সিরিজগুলোতে। সেই খটকার পথ ধরে এগিয়ে অস্বস্তির কাঁটা হয়ে ফুটেছিল আরেকটি প্রশ্ন। এমন উইকেটে খেলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সত্যিকার অর্থে কতটা আদর্শ হলো? সংযুক্ত আরব আমিরাতে মাঠে বাংলাদেশ কি হোমের সেই সুবিধা পাচ্ছে?
আয়ারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই প্রস্তুতি ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, সেই সুবিধা পায়নি বাংলাদেশ। আবুধাবির টলারেন্স ওভালে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১৪৭ রান করেছিল বাংলাদেশ। এক ওভার হাতে রেখে ৪ উইকেটে জয় পায় শ্রীলঙ্কা। শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের কাছে হারে ৩৩ রানে। আইরিশদের দেয়া ১৭৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৪৪ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম পর্বের খেলাগুলো হবে ওমানে। প্রত্যাশিতভাবে সেই ধাপ পেরিয়ে গেলে পরের পর্বের খেলা আবুধাবি, দুবাই ও শারজাহতে। কোনো মাঠেই উইকেট মিরপুরের মতো এতটা ব্যাটিং দুরূহ থাকবে না। শারজাহতে তো মাঠ ছোট, উইকেট বেশির ভাগ সময় ব্যাটিং স্বর্গ। ১৮০-২০০ সেখানে নিয়মিতই হয়। অন্য মাঠগুলো আকারে বড়, তবে উইকেট সাধারণত ব্যাটিং সহায়কই। যদিও বিশ্বকাপের আগে আরব আমিরাতে আইপিএল হবে প্রায় এক মাস ধরে। উইকেটগুলো অতি ব্যবহারে ক্লান্ত ও মন্থর হয়ে উঠতে পারে। তার পরও মিরপুরের মতো ১২০ রানেই জয়ের স্কোর হবে না নিশ্চিতভাবেই। প্রস্তুতি ম্যাচগুলোই তার প্রমাণ।
মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও নাসুম আহমেদদের হয়েছে খরুচে প্রস্তুতি। আইরিশদের বিপক্ষে তিনজনই দিয়েছেন ওভার-প্রতি ১০ কিংবা তার উপরে। যদিও প্রস্তুতি ম্যাচে দলের দুই সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ইনজুরি ও সাকিব আল হাসান আইপিএলের কারণে ছিলেন না। তবে আইপিএলে খেলার কারণে আমিরাতের মাঠে মোস্তাফিজ ও সাকিবের অভিজ্ঞতাই বাংলাদেশের জন্য আশার বাণী। তাসকিন আহমেদকে দেখা গেছে অন্যদের চেয়ে ভিন্ন। ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে আয়ারল্যান্ডের বিকক্ষে নিয়েছেন ২৬ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট। ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লিটন দাস ও নাঈম হাসান অর্ধশতক পেলেও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই অঙ্কের ঘরেই যেতে পারেননি তারা। মুশফিকুর রহীম যুদ্ধ করছেন রানে ফেরার। আফিফ, সাইফউদ্দিন ও মাহেদিরাও মেলে ধরতে পারছেন না রানের খাতা। শামিম হাসান লঙ্কানদের বিপক্ষে কয়েকটি শট খেললেও পরের ম্যাচে ছিলেন ব্যর্থ। সৌম্য সরকার ব্যাটে-বলে ফের ফেরার জন্য হাঁসফাঁস করছেন। তবে ব্যাটিং ও উইকেটের পেছনে নুরুল হাসান সোহানই ছিলেন উজ্জ্বল। শ্রীলিঙ্কার বিপক্ষে ১৯ বলে ৪৫ ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন ২৪ বলে ৩৮ রানের নান্দনিক দু’টি ইনিংস। বিশ্বকাপে ভালো কিছু করতে হলে প্রত্যেককেই অঙ্গীকারবদ্ধ দায়িত্ব নিতে হবে। আগামীকাল প্রথম রাউন্ডে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের টি-২০ বিশ্বকাপ মিশন।



আরো সংবাদ