১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

সুজনের প্রতিদ্বন্দ্বী ফাহিম

-

বিসিবির পরিচালক পদে আগের বার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। দুই দিন আগ পর্যন্ত এবারো তেমনটাই অনুমান করা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সুজনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হলেন দেশের স্বনামধন্য কোচ তথা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির সাবেক সদস্য নাজমুল আবেদিন ফাহিম। গতকাল মনোনয়নপত্র কেনার শেষ দিনে বিসিবি কার্যালয়ের গিয়ে বিকেএসপিরি ক্রিকেট উপদেষ্টা ফাহিম নিজের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
ফাহিম ছিলেন বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটিতে। সেখান থেকে পদত্যাগ করে ফিরে গেছেন নিজের পুরনো ঠিকানা বিকেএসপিতে। সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে এবার সুজন বিসিবি থেকে কাউন্সিলরশিপ পেয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছিল, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় পরিচালক নির্বাচিত হবেন তিনি। কিন্তু সাকিব-মুশফিকদের ক্রিকেটগুরু মনোনয়নপত্র কেনায় মুখোমুখি হতে হচ্ছে সুজনকে।
বিসিবির পরিচালক পদে নির্বাচন করার কারণ সম্পর্কে নাজমুল আবেদিন ফাহিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিসিবি সভাপতি বলেছেন, তিনি বোর্ডে নতুন মুখ চান। যারা নতুন নতুন চিন্তাভাবনা ও কমিটমেন্ট নিয়ে আসবে। আমি সেই নতুনের কেতন ওড়াতে চাই। আমি মনে করি, এখন আমি অনেক পরিণত ও অভিজ্ঞ। দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নেয়ার কাজটা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো পারব।’
প্রভাবশালী বোর্ড পরিচালক ও বর্তমান পর্ষদের গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সুজনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে ফাহিম বলেন, ‘সুজন একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী সেটা জেনেই আমি দাঁড়াচ্ছি। আমাকে জিততেই হবে এমন তো নয়। তবে আমি জিততেও পারি। আমি জানি সে ফেভারিট। আমার মনে হয় এই জায়গায় আমারও অনেক কিছু দেয়ার আছে। ’
মুশফিকুর রহীমের এই ব্যাটিং গুরু বলেন, ‘আমাকে দেখে কেউ অযোগ্য ভাববে না তা আমি নিশ্চিত। আমি যদি বিজয়ী হতে না-ও পারি, কোনো যোগ্য লোক আসে, এতে সবাই খুশি হবে। আমাকে দেখে ভবিষ্যতে আরেকজন এখানে আসতে পারবে।’
ফাহিম বিশ্বাস করেন তার প্রতি আস্থা রাখবেন কাউন্সিলররা। ক্যাটাগরি-৩-এ ভোটার সংখ্যা ৪৩ জন। যেখানে সাবেক অধিনায়ক, সাবেক ক্রিকেটার, বিভিন্ন সংস্থার ভোটাররা ভোট দিয়ে একজন পরিচালক নির্বাচিত করবেন। ফাহিম বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস ও আস্থা দীর্ঘদিন ক্রিকেট অঙ্গনে আছি, খেলেছি এবং কোচিং করিয়েছি, করাচ্ছি। এবার বোর্ড ব্যবস্থাপনায় আসতে চাই। ক্রিকেট উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।’
সুজন তার প্রতিপক্ষ নিয়ে বললেন, ‘কেউ যদি আসে অবশ্যই তাকে স্বাগত জানানো উচিত। দিন শেষে যারাই বোর্ডে আসবে তারা তো ক্রিকেটের উন্নয়নেই আসবে। আমি অবশ্যই তার নির্বাচনে আসার এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এটাই স্বাভাবিক। ফাহিম ভাই আমার কোচ, অনেক সিনিয়র। বিসিবির ডেভেলপমেন্ট বিভাগে উনি আবার আমার অধীনে ছিলেন। আমি চ্যালেঞ্জ সবসময় পছন্দ করি। আমরা চাই স্বচ্ছ নির্বাচন হোক। নতুন চিন্তাভাবনা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এলে ভালো হবে না কিংবা পুরনোরা থাকলে এগোবে না এমন নয়।’



আরো সংবাদ