২৮ জুলাই ২০২১
`

মোবাইল বেচে শাটল কিনলেন লিকা

-

আবালবৃদ্ধবনিতা সবারই চাহিদা ও প্রয়োজনের একটি নাম মোবাইল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মোবাইল ছাড়া অচল দুনিয়া। অথচ প্র্যাকটিসের জন্য সেই মোবাইল বিক্রি করে দিলেন মংলার মহিলা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় লিকা পোদ্দার। প্র্যাকটিস শাটল নেই বিধায় অনুশীলন করতে পারেননি কয়েক দিন। তাই অতি প্রিয় মোবাইলটি ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করে শাটল কিনে করছেন অনুশীলন। তার একটাই চাওয়া ব্যাডিমিন্টনে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আগামী ২৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া সামার ওপেন র্যাংকিং টুর্নামেন্টের জন্য নিজেকে তৈরি করছেন।
লিকা আলোচনায় আসেন গত জুনিয়র র্যাংকিংয়ে। এককে হলেন রানার্স আপ। আগে থেকেই পরিচিতি পাওয়া উর্মি আক্তারের সাথে পেরে উঠেননি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইচ্ছে তার, ‘আমি যেখানে অনুশীলন করি (জুস্ট জোন মংলা) সেখানে ফেডারেশনের কোনো সহযোগিতাই পৌঁছে না। শাটলের অভাবে প্র্যাকটিস করতে পারিনি কয়েক দিন। দিন যতই যাচ্ছিল হতাশা ভর করছিল। তাই শখের মোবাইলটা বিক্রি করে শাটল কিনে অনুশীলন করছি। বাঁচলে হয়তো অনেক মোবাইল হবে কিন্তু এখনকার প্র্যাকটিস তো আর পাবো না। তবে কয়দিন এভাবে টেনেটুনে প্র্যাকটিস করতে পারব জানি না। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অবশ্যই ভালো করব। মূলত অর্থের অভাবেই আমাদের প্রতিভা শেষ হয়ে যায়।
বাগেরহাট জেলার মংলা থানাধীন চাঁদপাই ইউনিয়নের দক্ষিণ কাইনমারির মেয়ে লিকা। বাবা মাছ ধরে মাসহ তিন বোনের সংসার চালান। অষ্টম শ্রেণীতে ব্যাডমিন্টনে হাতেখড়ি হলেও সাংসারিক অনটনে এগোতে পারেননি। পরে ২০১৯ সালে আবারো ছুটে আসেন খেলার জগতে। সানরাইজ-ইউনেক্স আন্তর্জাতিক জুনিয়র ব্যাডমিন্টনে অংশ নেন। ওই সময়ই ছিল তার এসএসসি পরীক্ষা। খেলার কারণে ফরমফিলাপ করা হয়নি। খুলনার সাথীকে নিয়ে দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন হন। সিঙ্গেলসে সেমিতে খেলেন, ২০২০ জুনিয়র র্যাংকিং এককে রানার্সআপ, বাংলাদেশ গেমসে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেন। লিকা জানান, ‘শাপলা আপু সাতবার ট্রিপল ক্রাউন চ্যাম্পিয়ন। তাকে ছোঁয়ার খুব ইচ্ছে।’
জুস্ট জোনের আড়ালে হারিয়ে গেছেন মিলন সর্দারের নাম। যিনি পরিত্যক্ত সিনেমা হলকে ইনডোর বানিয়ে ছেলেমেয়েদের ব্যাডমিন্টন শেখাচ্ছেন। তৃণমূলে কাজ করা এই কোচের অধীনে জুনিয়রে রহমান ঢালী, রোহানরা কোয়ার্টার পর্যন্ত খেলেছেন। অনূর্ধ্ব ১৪ শেখ রাসেল টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হয়েছে সাব্বির, রোহান হয়েছেন তৃতীয়। সর্বোপরি তার বক্তব্য, এখানে অনেক প্রতিভা আছে। কিন্তু ভালো কোচের অভাবে তারা এগোচ্ছে না। ফেডারেশনের সহযোগিতা প্রয়োজন। লিকা পোদ্দার অনেক প্রতিভাবান। একজন খেলোয়াড়ের কতটুকু ইচ্ছা থাকলে মোবাইল বিক্রি করে শাটল কিনে। গাইড পেলে অনেক দূর যাবে।

 



আরো সংবাদ