২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

কোরবানি দিতে পারেননি আরিফরা

‘ অর্থসঙ্কটে এই প্রথম কোরবানি দিতে পারিনি ’ : আরিফুল ইসলাম
-

‘এত বছর আমি একাই একটি গরু কোরবানি দিতাম। এই প্রথম অর্থসঙ্কটে আমি কোরবানি দিতে পারিনি।’ বরিশাল স্টেডিয়ামে বসা আরিফের কণ্ঠ থেকে সেল ফোনে ভেসে আসে এই হতাশামিশ্রিত বাক্য। ঢাকার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত ফুটবলার আরিফুল ইসলাম। ২০০৬ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলে খেলা এই স্টপার ব্যাক খেলেছেন লে. শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, ঢাকা আবাহনী, মোহামেডান, শেখ রাসেল, মুক্তিযোদ্ধা এবং ব্রাদার্স ইউনিয়নে। সর্বশেষ খেলা শেখ জামালে। এই ক্লাব তাকে দেয়নি পারিশ্রমিকের বাকি টাকা। তাই কোরবানি দেয়া হয়নি ভদ্র স্বভাবের এই ফুটবলারটির। শুধু আরিফই নন। এবার কোরবানি দেয়া হয়নি অনিক রহমান, আতিকুর রহমান রাকিব, মাসুম মিয়া, আলিমুদ্দিন, ইয়াসিন, আল আমিন, অনিক, মফিউল্লাহসহ অগণিত ফুটবলারের। করোনার কারণে লিগ বন্ধ। বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নানা টুর্নামেন্টও চার মাস ধরে মাঠ গড়ায়নি। ফুটবলারদের আয়রোজগারের সব পথই বন্ধ। তাই এবার আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু জবাই দেয়া হয়নি তাদের।
আরিফের দেয়া তথ্য, ‘ভেবে ছিলাম শেখ জামাল থেকে বকেয়া টাকা পাবো। সে অপেক্ষায় থাকতে থাকতে আর কোরবানি দেয়াই হলো না। কিছ টাকা ব্যাংকে ডিপোজিট করা আছে। তা আর ভাঙা সম্ভব নয়। ফলে এবার এই মহান কাজটি করা যায়নি। জানান, ‘কিছু টাকা হাতে ছিল; কিন্তু তা দিয়ে ঋণ শোধ করতে হয়েছে। পরে চেষ্টা করলাম ভাগে কোরবানি দেয়ার। সেটিও সম্ভব হয়নি টাকার অভাবে। তাই এই প্রথম কোরবাান দেয়া হলো না আমার।’ উল্লেখ্য, আরিফকে ২০১১ সালের সাফে জাতীয় দলের ক্যাপ্টেন্সি দেয়া হয়েছিল; কিন্তু তাতে তিনি রাজি হননি সিনিয়র ফুটবলার মোহাম্মদ সুজনকে সম্মান দেখিয়ে।
রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির মিডফিল্ডার অনিক রহমানও এবার দিতে পারেননি কোরবানি। নারায়াণগঞ্জের এই ফুটবলারের দেয়া তথ্য, ‘ক্লাব প্রথমে আমাকে ২৫ হাজার টাকা দেয়। এরপর দুই মাসের বেতন পাঁচ হাজার করে ১০ হাজার টাকা। এরপর টাকা জোগাড় করতে পারিনি বলেই দিতে পারিনি কোরাবানি।’ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের দল ইয়ংম্যান্স ক্লাব ফকিরেরপুলের ডিফেন্ডার আতিকুর রহমান রাকিব গত তিন বছর কোরবানি দিয়েছেন। এবার তার পক্ষে তা করা সম্ভব হয়নি টাকার অভাবে। জানান, ‘খেলা নেই, বন্ধ খ্যাপও। সঞ্চয়ে যা ছিল তা অন্য জরুরি কাজে ব্যয় করায় কোরবানি দিতে পারিনি।’ একই পথে হাঁটতে হয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়নের মিডফিল্ডার জুয়েল মল্লিককেও।
নরসিংদীর ফুটবলার মাসুম মিয়ার এবার বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে (বিসিএল) খেলার কথা ছিল অগ্রণী ব্যাংকে। করোনা সেই স্বপ্নও ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। এবার কোরবানি না দেয়ার নেপথ্যও তাই। এই উইংগার জানান, আগে তো আমি আর মামা মিলে লাখ টাকার গরু কোরবানি দিতাম। কিন্তু এবার টাকার সঙ্কটে কোরবানিই দিতে পারিনি। দিন চলে অটোরিকশা থেকে ভাড়া হিসেবে পাওয়া দিনে তিন শ’ টাকায়।


আরো সংবাদ