২৬ মে ২০২০

বেশি ক্ষতি দেখছে না বিসিবি

-

করোনার প্রাদুর্ভাবে ভারত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডের মতো বড় ক্ষতির মুখে পড়বে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। করোনার কারণে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে। এশিয়া কাপ, টি-২০ বিশ্বকাপ ও আগামী বিপিএল দিয়ে এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চায় বিসিবি। গতকাল এমনটাই বললেন বিসিবি পরিচালক ও অর্থ কমিটির প্রধান ইসমাইল হায়দার মল্লিক। তার কথায়, ‘আমাদের রাজস্ব আয়ের টুর্নামেন্টগুলোর কোনোটাই করোনার কারণে বাদ পড়েনি। পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড সফরের কথা ছিল। সেগুলোতে তো আরেক বোর্ডের আয় হতো। সে দিক থেকে আমরা ভালো জায়গায় আছি।’
তবে বিসিবি একা নয়। একই কারণে স্বস্তিতে আছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং পাকিস্তানও। বিসিবির বড় অঙ্কের রাজস্ব আসে বিপিএল থেকে। সেটি এবার ভালোভাবেই শেষ হয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত করোনার বড় প্রভাব বলতে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ড সফর এবং প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ স্থগিত হয়ে যাওয়া। কিন্তু এসবে বিসিবির আর্থিক ক্ষতি খুব বেশি হবে না। করোনাভাইরাসের কারণে আইপিএল মাঠে না গড়ালে বিসিসিআইয়ের ক্ষতি হতে পারে ১০ হাজার কোটি রুপি! এবারের গ্রীষ্মে ধুমধাম করে ১০০ বলের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ‘দ্য হানড্রেড’-এর প্রথম আসর আয়োজন করার কথা ইংল্যান্ডের। সঙ্গে ইংল্যান্ডের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ, টি-২০ ব্লাস্ট, রয়্যাল লন্ডন ওয়ানডে কাপ, কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপসহ সব কিছু ভেস্তে গেলে ইসিবির ক্ষতি হবে ৩০০ মিলিয়ন ইউরো। এ দিক দিয়ে স্বস্তিতে বিসিবি।
তবে কিছুটা দুশ্চিন্তা তো থেকেই যায়। বিসিবির রাজস্বের ৫০ ভাগই আসে আইসিসির টুর্নামেন্ট থেকে। আগামী অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-২০ বিশ্বকাপ স্থগিত হলে বিসিবির কোষাগারে বড় অঙ্কের টাকা যোগ হবে না। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় টি-২০ এশিয়া কাপও বিসিবির জন্য লাভজনক। বিসিবি এখন সে সবের দিকেই তাকিয়ে। ইসমাইল হায়দারের মতে, ‘আইসিসির টুর্নামেন্ট আছে এই বছরের শেষে। এশিয়া কাপ আছে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। টুর্নামেন্টগুলো যদি মাঠে গড়ায়, তাহলে আমাদের খুব একটা ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।’
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব যে কিছুটা হলেও পড়বে বাংলাদেশ ক্রিকেটে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। মাঠের স্পন্সর, জার্সির স্পন্সর থেকে রাজস্ব আয় হবে না। ঘরের মাঠে জুন ও আগস্টে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ স্থগিত হয়ে যেতে পারে। অবশ্য বড় দলের বিপক্ষে খেলা হলেও টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিসিবির বেশি লাভ হওয়ার কথা নয়। ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ও ঘরোয়া লিগ আয়োজনে ভালো অর্থই খরচ হয়। হায়দার বলেন, ‘সব মিলিয়ে এ বছর বিসিবির ক্ষতি হতে পারে সর্বোচ্চ ২০-২৫ ভাগ। অবশ্য এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বা আরো খারাপ হলে অঙ্কটা বাড়তেও পারে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে খুব বেশি না হলেও কিছু রাজস্ব আসত। তারপরও যদি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ হয়, আর বছর শেষে যদি বিপিএলটা করতে পারি, তাহলে আমরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব। আর্থিকভাবে বিসিবি ভালো অবস্থানে আছে। বলতে পারেন বিশ্বের সেরা পাঁচ বোর্ডের মধ্যেই আছি। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান এমনকি শ্রীলঙ্কা থেকেও আমরা ভালো অবস্থানে। আর আমাদের কিছু সংরক্ষিত তহবিলও আছে।’


আরো সংবাদ