৩০ মার্চ ২০২০

আজ ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচ সালমাদের

-

প্রথম দুই ম্যাচ টানা হেরে মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় শঙ্কায় বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল। নানান সমীকরণে বাঁচা-মরার লাড়াইয়ে আজ মেলবোর্নে সন্ধ্যা ৬টায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামছে সালমা খাতুনরা। ম্যাচটি ফসকে গেলেই কোনো হিসাব-নিকাশ ছাড়াই দেশের পথ ধরতে হবে তাদের। কারণ, পরবর্তী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি হবে শুধুই নিয়ম রক্ষার।
পার্থে সালমা-পান্না ঘোষরা ভারতের বিপক্ষে বোলিং-ফিল্ডিং ভালো করলেও ব্যাটসম্যানরা করেন হতাশ। ক্যানবেরাতে বলতে গেলে, বোলিং-ফিল্ডিং-ব্যাটিং কোনো ফরম্যাটেই শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাত্তা পায়নি বাংলাদেশ। তাই হারটাও ছিল ৮৬ রানের বড় ব্যবধানে। অন্য দিকে ভারতের বিপক্ষে ৩ উইকেটে হারলেও নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭ উইকেটে বড় জয় পেয়েছে সোফি ডেভিনের নিউজিল্যান্ড। দুই ম্যাচে এক জয়ে এখনো টিকে আছে নিউজিল্যান্ড। তাদের গ্রুপ ‘এ’তে ইতোমধ্যে ৩ ম্যাচ জিতে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালের পথ সহজ করে রেখেছে ভারত। তিন ম্যাচে খেলে দুই জয়ে অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ৪। তাই ব্লাকক্যাপসের বিপক্ষে জিতলেও যে, সেমিতে বাংলাদেশ উঠতে পারবে তা অনিশ্চিতই। এই ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের সামনের সবগুলো ম্যাচে হার কামনা করতে হবে সালমাদের।
খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে এই ম্যাচেও বাংলাদেশকে পিছিয়ে রাখতে হচ্ছে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে। এই আসরে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাটসম্যান অর্ধশতকই পায়নি বাংলাদেশের। সেখানে কিউই অধিনায়ক সোফি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছেন ৫৫ বলে ৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস। শেষ ১০ ইনিংসে ৭৭ গড়ে ৫৩৯ রান করেছেন সোফি। অন্য দিকে বাংলাদেশের হয়ে শেষ ১০ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক নিগার সুলতানার রান ২৭৯। ১৩৩ রান মুরশিদা খাতুনের। বল হাতেও সালমা-জাহানারা আলমদের চেয়ে এগিয়ে নিউজিল্যান্ড। আমেলিয়া কের শেষ ৯ ম্যাচে ৫.৮৫ ইকোনমিতে শিকার করেছেন ১৩ উইকেট। সেখানে বাংলাদেশের সফল বোলার জাহানার ৫.৩৩ ইকোনমিতে নিয়েছেন ১২ উইকেট। তবে ইকোনোমি রান রেটে সালমা-জাহানারা কিউইদের চেয়ে অনেক কিপটেই ছিলেন। ১০ ম্যাচে ৫.০৫ ইকোনমিতে সালমার শিকার ৯ উইকেট।
তবে আগের দু’টি ম্যাচেই বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্বলতার প্রকাশ পেয়েছে। এই ম্যাচে কেউ এসে হয়তো ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ববান হওয়ার কথা বলা লাগবে না। বড় দলগুলোর বিপক্ষে না খেলা এটাও পিছিয়ে থাকার একটি বড় কারণ। গত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে মিডল অর্ডার ফারজানা সেটিই বলেছিলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে আমরা দুই-চারটা সিরিজ খেলতে পারি তাহলে আমাদের খেলার মান উন্নত হবে, আত্মবিশ্বাস বাড়বে। কিছু দুর্বলতার জন্য আমরা ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি।’
আজ সেই ম্যাচ থেকে কিছু শিক্ষা নিয়ে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের সামনে।


আরো সংবাদ