২৭ অক্টোবর ২০২০

১০ গ্র্যান্ডমাস্টারে নর্মের সম্ভাবনা\

-

এই প্রথম প্রিমিয়ার ডিভিশন দাবা লিগে দেশী-বিদেশী ১০ জন গ্র্যান্ডমাস্টার ( জিএম) অংশ নিচ্ছেন। তথ্য দিলেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের স্ত্রী দাবাড়– তাসমিনা সুলতানা লাবণ্য। আর চ্যাম্পিয়ন সাইফ স্পোর্টিংয়ের ক্যাপ্টেন মাহমুদা হক চৌধুরী মলি জানান, এই প্রথম প্রিমিয়ার দারায় ২০ বিদেশী খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন। এই আকর্ষণের মধ্যে দিয়েই গত পরশু শুরু হয়েছে ১২ দলের প্রিমিয়ার দাবা। লিগে অংশ নেয়া ৭১ দাবাড়–র মধ্যে আন্তর্জাতিক মাস্টারের সংখ্যা সাতজন। আন্তর্জাতিক মহিলা গ্র্যান্ডমাস্টারের সংখ্যা দুই। টাইটেলধারী এত দাবাড়–র একটি লিগে অংশ নেয়া মানে এই লিগ থেকে নর্ম পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এতে সম্মতিও দিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের আরবিটার হারুনুর রশীদ। অবশ্য গ্র্যান্ডমাস্টার নর্ম (জিএম নর্ম) পেতে একজন খেলোয়াড়কে তিনটি ভিন্ন দেশের কমপক্ষে তিনজন গ্র্যান্ডমাস্টারের বিপক্ষে খেলতে হবে। আর আন্তর্জাতিক মাস্টার নর্ম পেতে যেকোনো দাবাড়কে ভিন্ন ভিন্ন দেশের কমপক্ষে তিনজন আন্তর্জাতিক মাস্টারকে ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেতে হবে। এখানেই শেষ নয়। তার ৯ ম্যাচের প্রত্যেকটিতেই প্রতিপক্ষ হতে হবে রেটেড খেলোয়াড়। সে সাথে টাইটেলধারী প্রতিপক্ষ হতে হবে ৫০ শতাংশ। টাইটেলধারী বলতে গ্র্যান্ডমাস্টার, আন্তর্জাতিক মাস্টার এবং ফিদে মাস্টারদের বুঝায়। এর বাইরে জিএম নর্মের ক্ষেত্রে ২৬০০ রেটিংয়ের পারফরম্যান্স হতে হবে। আইএমের ক্ষেত্রে তা ২৪৫০ রেটিং পারফরম্যান্স। জানালেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান।
গত বছর এই প্রিমিয়ার লিগে সোনালী ব্যাংকের হয়ে খেলেছিলেন ভারতের উৎকল শাহু। তিনি আইএম নর্ম অর্জন করেন সেই লিগ থেকে। এবার বাংলাদেশসহ অন্য দেশের খেলোয়াড়দেরও নর্ম হতে পারে। অবশ্য এ জন্য তাদের নির্ভর করতে হবে ম্যাচের বোর্ডে প্রতিপক্ষ হিসেবে কাকে পান। জিয়ার মতে, আন্তর্জাতিক মাস্টার ফাহাদ রহমানের ভালো সুযোগ ছিল জিএম নর্ম পাওয়ার। কিন্তু সে পুলিশ দলের চার নাম্বার বোর্ডে খেলছে। এতে তার পক্ষে তিনজন জিএমকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়া সম্ভব নয়। শুধু সাইফ স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে ম্যাচে পাবেন যেকোনো একজন গ্র্যান্ডমাস্টারকে পাবেন। কারণ সাইফে ছয়জনই গ্র্যান্ডমাস্টার।
জিএম নর্মের জন্য ৯ পয়েন্টের মধ্যে ৭ পয়েন্টে পেতে হবে যেকোনা দাবাড়–কে। আর আইএম নর্মের জন্য লাগবে ৫ পয়েন্ট। জিয়ার মতে, অনেক সময় ক্লাবের কারণেও নর্ম হবে না। কারণ তাদের কাছে দলের জয়ই মুখ্য। তখন তারা নির্দিষ্ট দাবাড়–র নর্মের চেয়ে দলের রেজাল্টকেই প্রাধান্য দেবে।
এবারের লিগে সাইফ স্পোর্টিং দেশের চার গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান, রিফাত বিন সাত্তার, এনামুল হোসেন রাজীব, আবদুল্লাহ আল রাকিব এবং আজারবাইজান ও বেলারুশের একজন করে জিএম অংশ নিচ্ছেন। নবাগত পুলিশ দলে বাংলাদেশের গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদসহ জর্জিয়ার দুইজন জিএম খেলছেন। উত্তরা চেস ক্লাবের হয়ে খেলছেন রাশিয়ান এক গ্র্যান্ডমাস্টার।
নর্ম হোক বা না হোক লিগে এক সাথে ১০ গ্র্যান্ডমাস্টার আর ২০ বিদেশীর উপস্থিতি দেশের দাবার উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বললেন দাবা ফেডারেশর সেক্রেটারি সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীমের স্ত্রী মাহমুদা হক চৌধুরী মলি।

 


আরো সংবাদ