২৬ জানুয়ারি ২০২১
`

মাবিয়াদের নিয়ে ছিল কতই না নাটক!

-

তিনটি সাফ গেমসে স্বর্ণ জয়ের রেকর্ড বাংলাদেশী মহিলা শুটার কাজী শাহান পারভীনের। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৩ ও ১৯৯৯ সালের গেমসে স্বর্ণ জয় করেন। সাবেক কৃতী শুটার এবং বর্তমানে কোচের দায়িত্ব পালন করা আসবাব আলী ফয়েজের মতে, ‘শাহানা পারভীনের তিনটি স্বর্ণই দলগততে।’ ফলে টানা দুই এসএ গেমসে একক ইভেন্টে স্বর্ণ জিতে রেকর্ডই করে ফেললেন ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। আর সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা একই গেমসে দুই স্বর্ণ জেতেন ২০১৬তে। এবার বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশেনের স্বপ্নই ছিল মাবিয়াকে ঘিরে। কিন্তু সেই স্বপ্নের সীমানা আরো বিস্তৃত করলেন জিয়ারুল। তিনিও জেতেন স্বর্ণ। ফলে এসএ গেমসের ইতিহাসে ভারোত্তোলকরা দেশকে দিলেন এই পর্যন্ত চারটি স্বর্ণ। সেই সাথে এক আসরে দু’টি। অথচ মাঝে ২০১৭-২০১৮ সালের কিছু দিন কী নাটকই না হয়েছিল এই ভারোত্তোলনকে নিয়ে। ফেডারেশনের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপে মাবিয়াদের আন্তর্জাতিক ম্যাচই খেলা নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) হঠকারী সিদ্ধান্তে ২০১৪ সালের ইনচন এশিয়ান গেমসে ভেনুতে গিয়েও খেলতে পারেননি ভারোত্তোলকেরা।
২০১৪ কমনওয়েলথ গেমসের পর ব্যর্থতার অজুহাতে সে বছরের এশিয়াডে আট ডিসিপ্লিনকে না পাঠানোর অদ্ভূত সিদ্ধান্ত নেয় বিওএ। এর মধ্যে ছিল ভারোত্তোলন দলও। অবশ্য ভারোত্তোলন ফেডারেশনের তখনকার সেক্রেটারি মহিউদ্দিন আহমেদ নিজের যোগ্যতায় দল নিয়ে যান দক্ষিণ কোরিয়ায়। বিওএ দলকে এশিয়াডে খেলানোর অনুমতি না দিলেও মহিউদ্দিন তাদের ইনচন এশিয়াডে খেলানোর ব্যবস্থা করে ফেলেছিলেন। শুধু লাগতো বিওএর একটি অনুমতি। কিন্তু ইগো সমস্যায় ভোগা বিওএর দায়িত্বশীলরা ভারোত্তোলন দলকে খেলার অনুমতিই দেননি। উল্টো বাজে ব্যবহার মহিউদ্দিনের সাথে। ফলে বিনা খরচে কোরিয়া গিয়েও না খেলে শুধু ট্রেনিং নিয়েই দেশে ফেরেন ভারোত্তোলকরা।
এরপর ফেডারেশনের সেক্রেটারির পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় মহিউদ্দিনকে। নির্বাচিত কমিটি ভেঙে অ্যাডহক কমিটি। এর ফলে বেশ কিছু দিন তিনি ছিলেন ফেডারেশনের বাইরে। নানা অপবাদও দেয়া হয় মহিউদ্দিনের নামে। নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দেয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন দল। পরে আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের চাপে মহিউদ্দিনকে ফিরিয়ে আনা হয় ফেডারেশনে। তবে সেক্রেটারি পদে নয়, সহসভাপতি হিসেবে। অথচ তিনিই বছরের পর বছর এই খেলাকে এতদূর পর্যন্ত টেনে আনেন। অবশ্য সহসভাপতি হলেও এখনো ওই ফেডারেশনের মূল কারিগর মহিউদ্দিনই।

 



আরো সংবাদ