২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

এগিয়ে যেতে হবে আমাদের

-

করোনায় আক্রান্ত গোটা পৃথিবী। বিশ্বজুড়ে কোনো মহামারী এতটা দীর্ঘ সময় ছিল কি না সন্দেহ। আবার কোনো মহামারীতে এত ব্যাপক হারে মানুষ আক্রান্তও হয়নি। ভয়ে এত কম্পিত হয়নি মানুষের মন। মহামারীকে ভয় পায় মানুষ এ কথা সত্য। কিন্তু এত ভয় পায়নি আগে। করোনা এমনই মহামারীÑ এই মহামারীর কারণে মানুষ মানুষ থেকে দূরে সরে গেছে। মানুষ মানুষের সমস্যায় এগিয়ে আসেনি। বাবা সন্তান থেকে। সন্তান মা থেকে। ভাই বোন থেকে, বন্ধু বন্ধু থেকে দূরে সরেছে। কেনো সরেছে? শুধু নিজে বেঁচে থাকার জন্য! নিজে নিরাপদ থাকার জন্য! মানুষ নিজেকে এমনই ভালোবাসে! এমনই আত্মকেন্দ্রিক চিন্তা করে। সে কারণে নিজে বেঁচে থাকার জন্য কারো সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসার চিন্তা করেনি। এগিয়ে আসেনি। তবে এর মধ্যেও অনেকেই নিজের জীবন বাজি রেখে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মানুষের দিকে।
এখন আমাদের বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ অনেকটা কমেছে। কিন্তু ভারতে ঊর্ধ্বমুখী। যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ায়ও ঊর্ধ্বমুখী। সুতরাং আমাদের সাবধানে চলতে হবে। সচেতন থাকতে হবে সবসময়। মাক্স পরিধান করতে হবে। সম্ভাব্য দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। :::::
অপ্রয়োজনে ভিড় করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা দেশের সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। একই সাথে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। মানুষের সম্মিলিত চেষ্টায় এ বিপর্যয় থেকে উঠে আসা সম্ভব। তবে এ বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার জন্য অবশ্যই আমাদের আরো মানবিক হতে হবে। আরো কাছাকাছি হতে হবে মানুষের। মানুষতো মানুষের উপকারের জন্য। অপকারের জন্য নয়। যদিও কোনো কোনো মানুষ সুযোগ পেলেই অন্যের ক্ষতি করার কাজে এগিয়ে থাকে। অন্যের সমস্যা সৃষ্টি করে। এ মানসিকতা খুবই নিন্দনীয়। কোনোভাবেই একে গ্রহণ করা যায় না। প্রশ্রয় দেয়া যায় না। সুতরাং মানুষ মানুষের জন্য এটিই করোনার শিক্ষা। মানুষই মানুষকে গ্রহণ করবে এটিই সত্য হয়ে উঠেছে।
আমরা মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধভাবে বাস করি সবাই। কিন্তু আমরা কি সবাই সামাজিক হতে পেরেছি? আমরা কি অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পেরেছি? এর জন্য মানবিকতা দরকার। সহিষ্ণুতা দরকার। ধৈর্য দরকার। অন্যের ভালোটুকু গ্রহণ করা দরকার। সমাজে নানা ধর্মের নানা বর্ণের মানুষ আছে। প্রত্যেকে যে যার আয়োজনে সুন্দরের মধ্যে চলবে, এটিই তো সামাজিক সৌন্দর্য। যে যার কাজ কর্ম এবং ধর্মকর্ম করবে এটিই সত্য। কেউ কাউকে তার কাজে বাধা দেবে না। কেউ কারো অধিকারে হস্তক্ষেপ করবে নাÑ এটিই সামাজিক সাম্য। এটিই সামাজিক শান্তি। অথচ আমরা কি দেখি। আমরা দেখি নানা অজুহাতে একজন অন্যজনের বাধা দেয়।
এক গোষ্ঠী অরেক গোষ্ঠীকে বাধা দেয়। এক ধর্মের লোকেরা আরেক ধর্মের লোকদের কর্মে হস্তক্ষেপ করে। সম্প্রতি কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটির নিন্দা করি আমরা। কিন্তু এই অজুহাতে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া, মন্দির ভেঙে দেয়া কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। এ বিষয়ে আমাদের সাবধান হতে হবে। হিংসাবিদ্বেষ পরশ্রীকাতরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আমাদের। আমাদের সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করেতে হবে। সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু আমাদের সমাজে অসাম্য ও বৈষম্য আছে। আর্থিক বৈষম্য, নাগরিক বৈষম্য, ধর্মীয় বৈষম্য এসব বৈষম্য দূর করতে হবে। নইলে সামজে শান্তি আসবে না। শৃঙ্খলা আসবে না।
কুমিল্লার ঘটনাটি সেখানেই শেষ করা যেত। শেষ হলে ভালো হতো। যারা দোষী তাদের বিচার হতে হবে এ বিষয়ে কারো দ্বিমত নেই। কিন্তু দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন কারা কোনোভাবেই উচিত নয়। সমাজের এসব বিষয়ের সমাধানে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের ভূমিকা নিতে হবে। আগামী প্রজন্মকে স্বপ্নও দেখাতে হবে তরুণদেরই। তরুণরাই সমাজের চালিকাশক্তি। তারা যেমন ভাঙতে জানে। তেমনি গড়তেও জানে। তারা ছাড়তে জানে। আবার রাখতেও জানে। নতুন পথের দিশা কেবল তরুণরাই দিতে পারে। তরুণরাই পারে নতুন দিনের কাছে নিয়ে যেতে। সমাজে নেতৃবৃন্দ যারা তাদের দায়িত্ব আছে। কর্তব্য আছে। তরুণদের সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়ার দায়িত্ব কিন্তু নেতৃবৃন্দের। এ বিষয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। মুক্তিযুদ্ধের আগে পরে তিনি যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন তা সত্যিই বিস্ময়কর। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, তার বজ্রকণ্ঠ এবং প্রভাবক ব্যক্তিত্ব মানুষকে আকর্ষণ করেছে তার দিকে। সুতরাং আজকের নেতৃত্বকেও স্বপ দেখাতে হবে তার জাতিকে। তরুণ প্রজন্মকে। তরুণরা বিভ্রান্ত হলে ওই জাতির ভবিষ্যৎ থাকে না।
তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। লেখা পড়া শিখতে হবে। লেখা পড়ার মাধ্যমে ভালো মানুষ হতে হবে। সত্যিকার মানুষ হতে হবে। শিক্ষার উদ্দেশ্য কিন্তু এটাই। অর্থাৎ সত্যিকারের মানুষ তৈরি করা। উন্নত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। মানুষ হিসেবে জন্মালেই মানুষ হয়ে যায় না। যদি তাই হতো তবে জগতের সব মানুষই উন্নত মানুষ হতো। সবাই ভালো মানুষ হতো। কিন্তু তা তো হয়নি। হচ্ছে না। হবেও না। কারণ মানুষের উদ্দেশ্য থাকেÑ পেশাজীবী অথবা চাকরিজীবী হওয়া। ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। সাংবাদিক বা ব্যবসায়ী হওয়া। শিক্ষক কিংবা টেকনেশিয়ান হওয়া। এসব উদ্দেশ্য তো খুবই সঙ্কীর্ণ উদ্দেশ্য। আমাদের উচিত আগামী প্রজন্মকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তাদের মধ্যে মনুষত্বের বিকাশ ঘটানো। সঙ্কীর্ণতা কোনোভাবেই স্বপ্ন হতে পারে না। ভোগ বিলাসও স্বপ্ন হতে হতে পারে না। আত্মকেন্দ্রিকতা স্বপ্ন হতে পারে না। ভোগ বিলাসও স্বপ্ন হতে পারে না। শুধু নিজেকে বেঁচে থাকার চিন্তা এবং চেষ্টা কোনোভাবেই প্রশংসার নয়।
স্বপ্ন অন্যরকম জিনিস। এ পি জে আবদুল কালাম বলেছেনÑ স্বপ্ন সেটি নয় যা ঘুমিয়ে দেখে। বরং স্বপ্ন সেটি যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না। যে ভালো কাজ করে তাকে সবাই গুরুত্ব দেয়। সমাজও গুরুত্ব দেয়। এমনকি রাষ্ট্রও গ্রহণ করে। যেমন বঙ্গবন্ধু একটি সাধারণ পরিবারের। কিন্তু তার বড় স্বপ্ন এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন বলে তিনি অসাধারণ হয়েছেন। তিনি হয়েছেন শ্রেষ্ঠ বাঙালি।
আমাদের তারুণ্য উপার্জন বাড়ানোর চিন্তায় অস্থির। গাড়ি বাড়ি পজিশন নিয়ে চিন্তিত। সম্পদ আহরণের চেষ্টায় ব্যস্ত। অথচ তাদের যে বড় মানুষ হওয়া দরকার সে কথা ভাবছে খুব কম সংখক তরুণ। যে কারণে আমাদের সমাজে এত বৈষম্য। এত উঁচা নেচা।
একবিংশ শতাব্দীর মানুষ আমরা। বাস করছি বিশ্ব নাগরিত্বের আবহে। এখন কেউ একাকী বাঁচতে পারে না। ব্যক্তি যেমন দেশও তেমন। তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির কারণে এখ সারা বিশ্ব একটি গ্রাম। এই গ্রামে উন্নতি করতে হলে আমদের অনেক যোগ্য হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্ব নাগরিক হবার চেষ্টায় এগিয়ে যেতে হবে।
আমাদের এখন আত্ম জিজ্ঞাসা করা দরকার। নিজেকে নিজে প্রশ্ন করা দরকার। বঙ্গবন্ধু একথা অকটপটে বলতেনÑ যে আমিও মানুষ। আমারও ভুল হতে পারে। সুতরাং আমরাও এমন প্রশ্ন করে নিজেরা আত্মশুদ্ধি করব। নিজের ভুলগুলো নিজেরাই সংশোধন করব। নিজেকে নিজেই শোধরাব। আত্মসমালোচনা করব। এর মাধ্যমে আমরা ব্যক্তি হিসেবে এবং জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারব বিশ্ব দরবারে।
আসলে আমাদের শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। নৈতিকতা ছাড়া এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হলে কাজও দুর্বল হবে। নৈতিকতা দৃঢ় হলে কাজও দৃঢ় হবে। অতএব আমাদের নৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে হবে। এগিয়ে যেতে হবে যোগ্যতার সাথে। সততার সাথে। যেতে হবে ভবিষ্যতের দিকে।

 



আরো সংবাদ


ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রধান রাওয়াতের মন্তব্য ঘিরে ক্ষুব্ধ চীন (১০৫০৬)কাতার বিশ্বকাপে থাকবে না ইতালি বা পর্তুগালের কোনো একটি দল (১০৫০১)বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় দিনের খেলার সময় পরিবর্তন (৮৫৩৬)স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন যুবক (৭২২৯)ভূমিকম্প দিয়ে গেল সতর্কবার্তা (৬৮৩০)স্বীকৃতি দেয়ার জন্য সব শর্ত পূরণ করেছি : তালেবান (৬০৫০)ঘরে ঘরে জাহাঙ্গীর (৫৭৫৯)‘জরুরি অবস্থার মুখে দেশ’ কী বার্তা দিলেন ইসরাইল প্রধানমন্ত্রী (৫৬৮৪)‘হত্যাচেষ্টা ফাঁস হওয়ার ভয়ে খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে দিচ্ছে না’ (৫০৮০)ইসরাইলের সাথে পানির বিনিময়ে জ্বালানি চুক্তির বিরুদ্ধে জর্ডানে বিক্ষোভ (৪২৯২)