২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

আমাদের সময় : বর্তমান ও অতীত

-

বিদেশী হানাদার ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলন এবং ভারত ভাগের ভালো-মন্দ সমীকরণের সময়টিতে আমার জন্ম (১৯৪৭)। রাতের রজনীগন্ধা কিংবা ভোরের শিউলি ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা কিংবা আমোদিত হওয়ার সময় ছিল না সেটা। সময় ছিল হিসাব মেলানোর। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ্দৌলার নির্মম পতনের পর ইংরেজরা এলো। তারা আবার চলেও গেল। ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তানের জন্ম হলো। রাজা, জমিদারদের সমাজ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হলো। তারও পরে লাখ লাখ মা-বোনের ইজ্জত আর এক সাগর রক্তের বিনিময়ে একাত্তরে পূর্ব-পাকিস্তান বাংলাদেশ হলো। পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে আমরা আবারো স্বাধীন হলাম। স্বাধীন হলাম অনাবিল প্রশান্তি আর এক রাশ সুখের আশায়। শান্তির আশায়। কিন্তু সুখ আর শান্তির কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না। এখন প্রকৃতিও অসুখে ধুঁকছে সর্বক্ষণ। এখন প্রকৃতিতে বৃক্ষ নেই, বন উজাড়। পশুপাখির কলকাকলি নেই, বিরান বনভূমি। নদ-নদী, খালে-বিলে পানি নেই, সমতল মরুভূমি। অথচ হৃদয়জোড়া আশা ছিল শোষণহীন স্বাধীন বাংলার মাটিতে সোনা ফলবে। দেশমাতার মুখের ভাষা ‘বাংলা’ সব মানুষের সেতুবন্ধনরূপে ঐক্য গড়বে। উর্দু-বাংলার সঙ্ঘাতের মতো মানুষে মানুষে থাকবে না বিভেদ। থাকবে না সঙ্ঘাত। জাতি সে সম্মান পেল না। কারণ মানুষ আর মানুষ রইল না। ভাগাড়ের মৃতদেহ শিয়াল শকুনে খুবলে খুবলে খাওয়ার মতো একশ্রেণীর অসৎ অর্থলিপ্সু মানুষ বৈদেশিক সাহায্য ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সীমিত সম্পদ আত্মসাৎ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলো। সাধারণ মানুষ হলো বঞ্চিত। জাতির ললাট কলঙ্কিত হলো তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদে। বঙ্গবন্ধুর শত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলো। অপবাদ ঘুচলো না। বরং সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহন হওয়ার কারণে অকৃতজ্ঞ জাতি হিসেবে অতিরিক্ত অপবাদ যুক্ত হলো। সামাজিক ও রাজনৈতিক সঙ্ঘাত আর সন্ত্রাস বেড়েই চলল। এক সময় সমগ্র জাতি স্বৈরাচারের কবলে নিপতিত দেশের চেহারাই বদলে গেল। এর সাথে যুক্ত হলো লুণ্ঠনের নতুন কৌশল। শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠার ওসিলায় নামে-বেনামে ব্যাংকের অর্থ লোপাটের প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠাও হলো। রাঘববোয়ালদের গর্দানের মাংস বৃদ্ধি পেলো। দালাল, ফড়িয়া ও মধ্যস্তত্ব¡ভোগীদের কপাল ফিরল। রাতারাতি অনেকে গাড়ি-বাড়ি ও অগাধ সম্পদের মালিক হলো। পক্ষান্তরে খেটেখাওয়া সাধারণ মানুষ ও কৃষক শ্রেণী বঞ্চিতই রইল। নব্বইয়ে জাতি স্বৈরাচার মুক্ত হলেও দুষ্টক্ষত রয়েই গেল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই ক্ষত বৃদ্ধি পেলো। অবিশ্বাস্যরূপে সমাজের ত্রাতারূপী লায়নদের দ্বারা বিদেশে আদম পাচারের মতো কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটল। শুধু তাই নয়, ইয়াসমীন নামের নিরীহ কিশোরীকে মানুষরূপী কয়েকজন উর্দিপরা নরপশু ধর্ষণের পর হত্যা করল। ঢাকার রাজপথে হরতালের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নামধারী উন্মাদের দ্বারা বিবস্ত্র হলেন বাবার বয়সী অফিসগামী মানুষ। নির্লজ্জ এ ঘটনার এখানেই শেষ হলো না। যাকে বিবস্ত্র করা হয়েছে তিনি সরকারি চাকুরে না কি বেসরকারি এ নিয়ে গবেষণায় লিপ্ত হলো নির্লজ্জ জ্ঞানী গুণী বুদ্ধিজীবীর দল। ভাবখানা এমন যেন সরকারি না হয়ে থাকলে অফিসগামী মানুষটিকে বিবস্ত্র করা এমন কোনো দোষের হয়নি। যারা বিষয়টিকে এভাবে দেখেছেন তারা বিবস্ত্র ব্যক্তিটিকে মানুষ হিসেবে দেখেননি। যেমন মানুষ হিসেবে দেখা হয়নি দিনাজপুরের কিশোরী ইয়াসমীনকেও। দেখাতে চেয়েছেন পতিতা হিসেবে। ইয়াসমীনকে পতিতা প্রমাণ করতে চেয়েছেন, যাতে ধর্ষণ এবং হত্যাকে জায়েজ করা যায়। সে তো ২৬ বছর আগের কথা। আজকের অবস্থা কী? জাতি কি মুক্ত হতে পেরেছে সেসব অভিশপ্ত ঘটনাবলি থেকে? বাবার বয়সী মানুষদের অপদস্থ করা, নারী পাচার, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড, এসব থেকে মুক্ত হতে পেরেছে দেশ? মুক্ত হওয়ার তো কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। বরং এখন কিশোর গ্যাং নামের নতুন শঙ্কা যুক্ত হয়েছে। লুণ্ঠন কমেছে? না। বরং লুণ্ঠনের মাত্রা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক লুট হয়েছে। আর কোনো দৃষ্টান্ত দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না লুণ্ঠনের মাত্রা বোঝাতে।
দেশে এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে লুণ্ঠন না হয়েছে কিংবা হচ্ছে না। কেসিনো কেস, করোনার ভুয়া রিপোর্ট, কিংবা পিকে হালদার এসব নাম এখন মানুষের মুখে মুখে। এ সব বিষয় নিয়ে প্রকাশিত বিস্তৃত আলোচনার পর এ বিষয়ে আর নতুন করে ব্যাখ্যা দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আর প্রতিদিনের ঘটে যাওয়া খবর, সে তো প্রচার মাধ্যমগুলো প্রচার করছেই। যেমনÑ শেয়ারবাজার থেকে সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা হাওয়া, ভাঙ্গুড়ায় ভিজিডির ৮৫ বস্তা চাল উদ্ধার, দৌলতদিয়ায় মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ-নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা, শ্রীনগরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার কাণ্ড, কুমিল্লায় মাদক কারবার নিয়ে বিরোধে কুপিয়ে হত্যা, জীবননগরে যৌতুক দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন, নোয়াখালীতে দুই মেম্বরের সমর্থকদের সংঘর্ষ, ভাণ্ডারিয়ায় গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার পাঁচজন গ্রেফতার, নোয়াখালীতে বন্ধুকে গুলি মাতাল যুবলীগ নেতার, সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি মিরপুর কাফরুল ও ভাসানটেকের বাসিন্দারা, বগুড়ার নন্দীগ্রামে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, ধুনটে সমাবেশে লাঠিচার্জ, নোয়াখালীতে পুত্রবধূকে কুপিয়ে হত্যা, শৈলকুপায় কলেজছাত্রকে ছুটিকাঘাত করে হত্যা, শাল্লায় হিন্দু গ্রামে হামলা-যুবলীগ নেতা স্বাধীন গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্তি, যুবলীগ কর্মী হত্যা : অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৪৩ জন, মিরসরাইয়ে রহস্যজনক আগুনে পুড়ল ছয় হিন্দু পরিবারের ঘর, গ্রেফতার আতঙ্কে শাল্লøার চার গ্রাম পুরুষশূন্য, দ্বৈত পাসপোর্টধারী ১৪ হাজার নাগরিকের তালিকা হাইকোর্টে, ১১ নাগরিকের বিবৃৃতিÑ আধিপত্যবাদের নির্লজ্জ প্রমাণ হেফাজতে ইসলাম, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর পক্ষ নেয়ায় তাদের বুদ্ধিজীবী বলতে লজ্জা হচ্ছেÑ তথ্যমন্ত্রী, বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায় আটক (২৭, ২৯ মার্চ ও ১ এপ্রিল নয়া দিগন্ত)। এ সব খবরের কোথাও সুখ কিংবা শান্তির বাণী নেই। বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবস্থা কেমন সে সম্পর্কেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে উল্লেøখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বলা হয়েছেÑ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন, বেআইনি আটক, গণমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধাসহ বাংলাদেশের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে মানবাধিকারবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে। তাহলে? তাহলে আশার বাণী কোথায়? আছে। আশার বাণীও আছে। অসংখ্য হতাশাজনক খবরের মধ্যে একটি আশার বাণী আছে। বলা হয়েছেÑ ‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মডেল’।
উন্নয়নের মডেল নিয়ে প্রচার-প্রচারণার কমতি নেই। বলা হচ্ছেÑ মাত্র এক দশক আগেও যে বাংলাদেশকে দারিদ্র্য আর অনুন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো, সেই দেশ এখন দারিদ্র্য জয় করে উন্নয়নের আদর্শ মডেল হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে। দেশের যে উন্নয়ন হয়েছে সেটা ধরা দেয় গ্রামের সার্বিক পরিস্থিতির দৃশ্যে। গ্রামের অনেকেই এখন পাকা কিংবা আধাপাক ঘর বাড়িতে বসবাস করে। তা ছাড়া রাস্তা-ঘাটও পাকা। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ট্রাক যাতায়াত করে পাকা রাস্তা দিয়ে। এ উন্নয়ন বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণে অর্থ উপার্জন ও পরিবারের কাছে পাঠানোর কারণে ঘটেছে। সরকারের পরিকল্পনা এবং সহায়তাও রয়েছে এর পেছনে। যা দৃশ্যমান নয় যতটা দৃশ্যমান শ্রমিকের অর্থ উপার্জন ও প্রেরণ। কিন্তু এ উন্নয়ন কি মানুষের মনে স্বস্তি কিংবা শান্তি দিতে পেরেছে? এর উত্তর প্রচারমাধ্যম ও টকশোতে মিলছে প্রতিনিয়ত।
এবার দেখা যাক, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা। এ বিষয়েও নতুন করে বলার কিছু নেই। প্রচারমাধ্যমগুলোর সচেতনতার কারণে মানুষ এ বিষয়েও স্পষ্ট ধারণা পেয়েছে এবং পাচ্ছে। আমি এই প্রচার মাধ্যমেরই একটি চিত্র তুলে ধরছি। যা ২ এপ্রিল ২০২১ প্রচারমাধ্যম অর্থাৎ পত্রিকায় এসেছে। বলা হয়েছেÑ ‘সাদা পোশাকে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে কোনো নীতিমালা, প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র বা নির্দেশনা আছে কি না, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের কাছে জানতে চেয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থার স্টিকার ব্যবহার করে রেজিস্ট্র্রেশন ও নম্বর প্লেটবিহীন মোটর যান চলাচলও দৃশ্যমান হচ্ছে, প্রচলিত আইন-বিধি অনুযায়ী যা নিরাপত্তা শৃঙ্খলার পরিপন্থী’ (নয়া গিন্ত)। এ বিষয়ে আরো বক্তব্য আছে। তবে বাস্তব অবস্থা বোঝানোর জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরের কোন্দল নতুন কিছু নয়। তবে অতি সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বক্তব্যে দলের নানা বিষয়ে অরাজক পরিস্থিতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ বিষয়েও নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে সর্বশেষ আবদুুল কাদের মির্জা বনিবনা না হওয়ায় আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে বলেছেন, ‘মানুষ বলাবলি করে ওবায়দুল কাদের নাকি মেরুদণ্ডহীন’। এই শিরোনামে সত্য উচ্চারণ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজকে দুর্বৃত্তায়ন চলছে। যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় সেই দলের অভ্যন্তরেই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলার উন্নয়ন ঘটবে কিভাবে? নিজেরাই এখন লুণ্ঠিত সম্পদ রক্ষার বিষয়ে মহা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। লুণ্ঠন যে সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে এবং চুনোপুঁটি ছাত্রনেতারাও কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে সে খবর তো দেশবাসী প্রচারমাধ্যমেই জেনেছে। এখন এই সম্পদ রক্ষার কথা ভেবে আর মাঠে কাজ করছে না তারা।’ আওয়ামী লীগের অনেক ত্যাগী নেতা এবং সাহসী বলে স্বীকৃত কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা আত্মসমালোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধার কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের দলপ্রীতি বা দলের জন্য মায়া-মমতা কমে গেছে। তারা দলের চেয়ে নিজেদের ধন-সম্পদকেই বেশি ভালোবাসে। ফলে হেফাজতের হরতালের বিরুদ্ধে কেউ রাস্তায় নামেনি’ (গোলাম মাওলা রনির প্রবন্ধ, ২ মার্চ ২০২১)। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক চিত্র এবং এসব বক্তব্য শুধু হতাশাই বাড়িয়ে দেয় এবং অন্ধকারময় ভবিষ্যতের ইঙ্গিত করে। অথচ একসময় ছিল যখন দেশে সুখ ছিল, শান্তি ছিল। মানুষের হৃদয়জুড়ে মায়া-মমতা ছিল। মানুষ একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল। বয়োজ্যেষ্ঠদের মান্যগণ্য করার ক্ষেত্রে ছোটদের মাঝে আদব লেহাজ ছিল। খেটেখাওয়া সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের মনে আনন্দ ফুর্তি ছিল। প্রকৃতি ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, জারি-সারিতে মুখরিত ছিল। নদী-নালা, খাল-বিল অফুরন্ত পানিতে টইটম্বুর ছিল। স্রোতস্বিনী নদীবক্ষে ময়ূরপক্সক্ষী নৌকা ও বজরা ছিল। রুই, কাতলা, চিতল, বোয়াল, কৈ, মাগুরসহ হরেক রকম সুস্বাদু মাছ ছিল। বিল, ঝিল, পুকুর, দীঘি, শাপলা ও পদ্মফুলের মদির গন্ধে ভরপুর ছিল। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারাসহ জানা-অজানা অগণিত ফল বৃক্ষে পরিপূর্ণ ছিল। দোয়েল, কোয়েল, ডাহুক, ঘুঘু এবং এমনি শত স্বভাবের চোখজুড়ানো মন ভুলানো বহুবর্ণিল পাখির কলকাকলিতে প্রকৃতি মুখরিত ছিল। হাতি, ঘোড়া, বাঘ, ভাল্লুুক, শিয়াল, শকুন এমনই নানা জাতের জীবজন্তু ছিল। গেরস্থের ছিল গোলা ভরা ধান, ক্ষেত ভরা ফসল। ছিল ছোট-বড় সবার মনজুড়ে সুন্দর স্বপ্ন। অথচ কোথা দিয়ে যে কি হয়ে গেল এখন আর তার হিসাব মেলানো যায় না। অতীতের সেই সুমধুর স্বপ্নের দিনগুলোর কথা ভাবতে গেলে বুকের গভীরে লুকিয়ে থাকা একরাশ চাপা দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। সবই যেন স্বপ্ন মনে হয়।



আরো সংবাদ


ভারতের প্রতিরক্ষাপ্রধান রাওয়াতের মন্তব্য ঘিরে ক্ষুব্ধ চীন (১০৫০৬)কাতার বিশ্বকাপে থাকবে না ইতালি বা পর্তুগালের কোনো একটি দল (১০৫০১)বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় দিনের খেলার সময় পরিবর্তন (৮৫৩৬)স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন যুবক (৭২২৯)ভূমিকম্প দিয়ে গেল সতর্কবার্তা (৬৮৩০)স্বীকৃতি দেয়ার জন্য সব শর্ত পূরণ করেছি : তালেবান (৬০৫০)ঘরে ঘরে জাহাঙ্গীর (৫৭৫৯)‘জরুরি অবস্থার মুখে দেশ’ কী বার্তা দিলেন ইসরাইল প্রধানমন্ত্রী (৫৬৮৪)‘হত্যাচেষ্টা ফাঁস হওয়ার ভয়ে খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে দিচ্ছে না’ (৫০৮০)ইসরাইলের সাথে পানির বিনিময়ে জ্বালানি চুক্তির বিরুদ্ধে জর্ডানে বিক্ষোভ (৪২৯২)