২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭ আশ্বিন ১৪২৮, ১৪ সফর ১৪৪৩ হিজরি
`

একদল কিশোরের হাসি

-

টুরকি কোদাল নিয়ে একদল কিশোর পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখন প্রায় দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চলল। আচ্ছা ওরা এভাবে টুরকি কোদাল নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছে কেন? আজ ঈদের দিন। নতুন জামা, পায়ে নতুন চামের জুতা আবার কারো কারো চোখে আজ রঙিন চশমা থাকার কথা কিন্তু তা না! সবার পরনেই সেই পুরাতন জামা, পায়ে টায়ারের সেন্ডেল। এ হচ্ছেটা কি?
গালিব সবার আগে আগে এগোচ্ছে ওর পেছনে আনিস, দুলাল, ওমর, লালমিয়া আরো বেশ কয়েকজন কিশোর। বলা চলে দশ বারো জনের একটি দল। মেঘ ধোয়া রোদে কান যেন ফেটে যায় যায় অবস্থা। গালিবের ঝাঁকড়া চুল বেয়ে ঘাম ঝরছে কানের দুপাশে, নাক বেয়ে টপটপ করে ঘাম পড়ছে মাটিতে। এমন অবস্থা যে শুধু গালিবের একা তা কিন্তু নয়! ওদের দলের প্রত্যেকেরই ওই একই অবস্থা। সারা শরীর জুড়ে মাটি কাদায় প্রায় একাকার। পায়ের অবস্থাও খারাপ, টায়ারের চিকন ফিতার জুতাগুলো কাদামাটি আর নোংরায় লেপ্টে আছে।
আসলে পায়ের নোংরা জিনিসগুলোই বা কি?
একটু ভালো করে দেখলেই বুঝা যায় এগুলো আসলে তেমন কিছু না, তা হচ্ছে পানি কাদার সাথে আজকের সদ্য জবাই হওয়া গরুর মহিষের রক্ত আর গোবর।
ওরা সবাই ক্লান্ত। মুখ চোখ রোদে শুকিয়ে গেছে, দুপুর পর থেকে এক টানা দুই থেকে ৩ ঘণ্টা টুরকি কোদাল নিয়ে কোদালিয়াদের মতো খেটেই যাচ্ছে। এক জায়গায় কোদাল চালিয়ে গর্ত খুঁড়ে তারপর আবার পুরো মাঠের জবাই কৃত গরু মহিষ বা ছাগলের রক্ত, গোবর, ফেলনা হাড্ডি এবং নানান বর্জ নিয়ে ফেলতে হচ্ছে সেই গর্তে। ওদের বয়স কিন্তু গড়ে বাবো! কতটাই বা কুলোয় এ বয়সে?
গালিব এবার পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। গতবার কোরবানি ঈদে ভিয়াইল ইশকুল মাঠে জবাই হয় কোরবানির সব পশু। ঈদের সপ্তম দিন ঈদের ছুটি শেষ করে ইশকুল খুলে দেয় প্রধান শিক্ষক। কিন্তু কেউই শান্তিতে ক্লাস করতে পারছিল না সেইদিন, আর তার কারণ হচ্ছে ইশকুল মাঠে কোরবানির গরু জবাই হয়েছে।
গালিব এমনি দুষ্টু প্রকৃতির হলে কি হবে, পড়ালেখা করুক আর নাই করুক ওর আবার এসব জিনিস পছন্দ না। মাঠ থেকে গরু মহিষের পচা রক্তের গন্ধ ভকভক করে নাকে এসে লাগছিল। অবশেষে প্রধান শিক্ষক দুটো ক্লাস করিয়েই ইশকুল ছুটি দিতে বাধ্য হলেন এবং মাঠ পরিষ্কার করার জন্য লোক লাগিয়ে দিলেন।
গালিব সেবারই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে এ রকম আর হতে দেয়া যাবে না। তাই তো গালিব এবং গালিবের বন্ধুরা মিলে গরু কাটার সময় মুরুব্বিদের গিয়ে বলে -গরুর রক্ত, গোবর, বর্জ এগুলো নিদিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে, না হলে আমাদের ক্ষতি হবে। আমরা নানান রোগে আক্রান্ত হবো আর অসুস্থ হয়ে পড়ব। আর এর থেকেও বড় কথা হলো রক্ত গোবরের পচা দুর্গন্ধে আমাদের চলাচলে অনেক অসুবিধা করবে এবং বায়ুদূষণ হবে। ওদের এ রকম ভারী ভারী কথা শুনে সবাই একসাথে হেসে উঠল যা থেকে বুঝা গেল ওদের কথার কেউ পাত্তাই দিলো না। এক ধরনের হাসি তামাশা করে বিদেয় করে দেয়া হলো ওদের। এ রকম আচরণে গালিব খুব কষ্ট পায় এবং বুঝতে পারে আমাদের পরিবেশ আমাদেরই রক্ষা করতে হবে।
গালিব ওর বন্ধু আনিস, দুলাল, ওমর আর লালমিয়াকে ডেকে বলে তোরা কি আমাদের এই পাড়া থেকে সমবয়সী আরো ১০-১৫ জন কিশোর জোগাড় করতে পারবি? উত্তরে আনিস আমতা আমতা করে বলে,-আচ্ছা দেখি চেষ্টা করে, তবে আমরা যে কাজের জন্য ওদের ডাকব তাতে মনে হয় দুই চারজনের বেশি পাব না।
টুরকি কোদাল নিয়ে একদল কিশোর বেরিয়ে পড়েছে মাঠ প্রান্তর আর পাড়ায় পাড়ায়। কোদাল দিয়ে চেঁছে ছুলে নিচ্ছে রক্ত আর বর্জ্য। সেগুলো আবার নির্দিষ্ট স্থানে গর্ত খুঁড়ে মাটি চাপা দিচ্ছে।
চোখমুখ লাল হয়ে আছে সবার। গালিব, আনিস, দুলাল, ওমর আর লালমিয়াদের সাথে যোগ দিয়েছে আরো ছয়জন কিশোর। তাদেরও অবস্থা ওদের মতোই। এখন বিকেল হতে চলল, পাড়ার অন্য সব ছেলেমেয়েরা নতুন কাপড় পরে ঘুরতে বেরোচ্ছে। কিন্তু ওরা ১০-১২ জন কিশোর আপন মনে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে দায়িত্ব পালন করছে।
হঠাৎ করেই গাড্ডুর দলটা থমকে গেল। অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল সামনের দিকে। ওরা যেন নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে পারল না। উত্তর বাড়ির রহমত চাচার পিছে পিছে ১৫-২০ জনের একটি দল টুকরি কোদাল নিয়ে ধেয়ে আসছে ওদের দিকে। যে রহমত চাচা পরিচ্ছন্নতা কথা হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল আজ সকালে সেই এখন প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ যুবকদের নিয়ে এগিয়ে আসছে ওদের কাজে যোগ দিতে।
গালিব কোনো কথা বলতে পারল না, ও যেন খুশিতে এক্ষুনি কেঁদে ফেলবে। কিন্তু দলনেতা হলে কি সব জায়গায় কান্না করা মানায়? তাই তো গালিব মুচকি একটি হাসি দিয়ে বলল,- চলো সবাই কাজে লেগে পড়ি।
আনিস, দুলাল, ওমর, লালমিয়া ওদের সবার মুখেই হাসি। গালিবের মনে হচ্ছে খুশিতে সে পাখি হয়ে উড়ে যাচ্ছে। হ

 

যখন তিনি ছিলেন তোমার মতো ছোট
আকিব শিকদার
ছোট্ট বন্ধুরা। যদি তোমাদেরকে বলি, তোমাদের মাকে নিয়ে একটি গল্প লিখতে হবে, কয় লাইন লিখতে পারবে? তোমরা কি জানো একজন ব্যক্তি ‘মা’ নামে একটি উপন্যাস লিখে সারা পৃথিবীতে জনপ্রিয় হয়ে আছেন? তিনি ম্যাক্সিম গোর্কি।
ম্যাক্সিম গোর্কির ছোটবেলাটা ছিল খুবই বেদনাদায়ক। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তার বাবা মারা যায়। মা দ্বিতীয় বিয়ে করে নিজের সুখের পথ বেছে নেন। ম্যাক্সিম গোর্কি বড় হতে থাকেন তার বদমেজাজী দাদার কাছে। দাদা তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে ছোটখাটো কাজে লাগিয়ে দেন। মুচির দোকানে জুতা পালিশ, ছবি আঁকিয়ের দোকানে বয়গিরি, জাহাজের বাবুর্চির সহকারী, এমন সব কাজ তাকে করতে হয়েছে পেটের তাগিদে। মন দিয়ে কাজ করতেন, কিন্তু কোথাও মালিকের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পাননি তিনি। সবখানেই তাকে সহ্য করতে হয়েছে অমানবিক নির্যাতন আর অত্যাচার। অনেক খাটাখাটনির পরও প্রায়ই তাকে না খেয়ে থাকতে হতো, শীতের রাতে গরম কাপড় জুটত না শরীরে। এমন কষ্টের জীবন তোমার হলে কী করতে তুমি?
বিদ্যালয়ের শিক্ষা তিনি না পেলেও জীবনকে খুব কাছ থেকে নিবিড় করে দেখার ও শেখার সুযোগ হয়েছিল তার। আর সেই বাস্তব শিক্ষাই তাকে ‘মা’ এর মতো কালজয়ী উপন্যাস সৃষ্টিতে সাহায্য করেছিল।
তখন ভলগা নদীতে চলাচলকারী এক জাহাজের বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করেন ম্যাক্সিম গোর্কি। এ সময় কাজের ফাঁকে প্রচুর বই পড়ার সুযোগ হয় তার। সেই বই পড়াই তাকে পরবর্তীতে বড় মাপের লেখক হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছিল। যদি তুমি বড় কোনো লেখক হতে চাও, তবে অবশ্যই তোমাকে প্রচুর বই পড়তে হবে। বই পড়তে ভালো লাগে তো তোমার? হ



আরো সংবাদ


খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা আরো এক বছর চায় বিজিএমইএ মুস্তাফিজদের দারুণ বোলিংয়ে রোমাঞ্চকর লড়াই জিতল রাজস্থান সাবমেরিন ইস্যু : ‘ক্রুদ্ধ’ ম্যাক্রঁ কি বেশি ঝুঁকি নিয়ে ফেললেন? গাড়িচালক মালেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দুদকের আফগানিস্তানে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ হার এড়ালো বার্সেলোনা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের ২৮৩৯ পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে : ওবায়দুল কাদের মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শিথিল খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে আপস করা যাবে না: বিএনপি

সকল