২০ জানুয়ারি ২০২১
`

একটি পাখি একটি ফুল

-

পানডুবি

পানির পাখি পানডুবি। অনেকে বলে ডুবুরি। গ্রামের পুকুরে এই ছোটো পাখিগুলোকে সাঁতরাতে দেখা যায়। টুব টুব দেয় ডুব। বিল হাওরে ঝাঁকবেঁধে থাকে পানডুবি। মেটে রঙের এই পাখির শরীর রেশমের মতো। তুলতুলে আর মসৃণ। একটুখানি শব্দ হলেই ডুব দেয়। ডুব দেবার ব্যাপারে অদ্ভুত রকমের দক্ষ। পানির ওপর একটুও ঢেউ না তুলে সাঁৎ করে মিলিয়ে যাবে। এরা পুকুরের উপর দিয়ে ছোটো ডানা ঝাপটে ভেসে বেড়ায়। শামুক, গুগলি, ব্যাঙাচি, কীটপতঙ্গের ডিম, মাছের পোনা খায়। পানিতে ডোবা গাছপালার উপরের ঘাস খড় বিছিয়ে বাসা বানায়। নরম ভেজা ঘাসের নীড়। পানডুবির ডিমের রং সাদা। বাসা থেকে বাইরে যাবার সময় ডিমগুলো ভেজা ঘাসের নিচে চাপা দিয়ে যায়। সাপের লোভ ওই ডিমের প্রতি। পানডুবি বাচ্চাদের পিঠে বসিয়ে তরতর করে জলজ ঘাসের বনে ভেসে বেড়ায়। ছানাদের গায়ে ডোরাকাটা দাগ। এদের গায়ের আঙুলগুলোর দু’পাশের পাতলা চামড়া। পানডুবির বাসা পানিতে ভাসে। পাতার ডাঁটি শুকনো পচা পাতা জমিয়ে ভেলার মতো বাসা বানায়। পানডুবির ধপধপে সাদা ডিম গাছপাতার রং লেগে ছোপ ছোপ হয়ে যায়।

গাঁদা ফুল

শীতের সকালে প্রকৃতি যখন শীতের চাদর মুড়িয়ে থাকে তখন বাগানে উঁকি দেয় গাঁদা ফুল। হলুদ গাঁদা। কমলা গাঁদা। সোনালি গাঁদা। বেগুনি গাঁদা। গাঢ় লাল রঙের গাঁদা। গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির উঠানে, এমনকি শহরে বাড়ির ছাদে বা বারান্দার টবে এমন বাহারি রঙের গাঁদা চোখে পড়ে। মাটিতে লাগানোর পাশাপাশি গাঁদা ফুল টবেও লাগানো যায়। আর সামান্য যতেœ বাড়ির ছাদ, বারান্দা বা আঙিনা ভরে তোলা যায় গাঁদা ফুলে।
গাঁদা বা গন্ধা একটি সুগন্ধী ফুল, যা সহজে চাষ করা যায়। গৃহসজ্জায় ব্যবহৃত হয়। গাঁদার ইংরেজি নাম গধৎরবমড়ষফ ঋষড়বিৎ. বৈজ্ঞানিক নাম ঞধমবঃবং বৎবপঃধ। গাঁদা ফুল বিভিন্ন জাত ও রঙের হয়। এ ফুল সাধারণত উজ্জ্বল হলুদ ও কমলা হলুদ রঙের হয়ে থাকে।
সাধারণত এটি শীতকালীন ফুল হলেও বর্তমানে গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালেও চাষাবাদ হয়ে থাকে। বাগানের শোভাবর্ধন ছাড়াও বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বণ ও গৃহসজ্জায় এর ব্যাপক ব্যবহার ফুলটিকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছে।
বাংলাদেশে গৃহস্থ বাগানের সাধারণ ফুল গাঁদা। ১৯৯০ এর দশক থেকে গাঁদা বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু হয়। খুলনা অঞ্চলের ডুমুরিয়া, মেট্রোপলিটন থানা, যশোরের গদখালী, ঝিকরগাছা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, গাজীপুর জেলার সদর উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী ও পটিয়া, ঢাকা জেলার সাভার এলাকায় অধিক হারে এর চাষাবাদ হয়।
এ ফুলের উল্লেখযোগ্য জাতÑ ইনকা, গিনি গোল্ড, ইয়েলা সুপ্রিম, গোল্ডস্মিথ, ম্যান ইন দ্য মুন, মেরিয়েটা, হারমনি, লিজন অব অনার ইত্যাদি। এছাড়া বাংলাদেশে সাদা গাঁদা, জাম্বো গাঁদা, হাইব্রিড ও রক্ত বা চাইনিজ গাঁদার চাষাবাদ হয়ে থাকে।



আরো সংবাদ