২৩ অক্টোবর ২০২০

ভালো ছেলের গল্প

-

স্কুল থেকে ফিরে টুলু বলল, মা! ফুটবল ম্যাচ আছে। আমি চললাম। মা বললেন, যা। তবে কারো সঙ্গে ঝগড়া করিস না।
মধ্যপাড়ার সঙ্গে টুলুদের কোনাপাড়ার ফুটবল ম্যাচ। টুলু টিমের ক্যাপটেন। সবার খুব ভরসা টুলুর ওপর। সেই ভরসার প্রতি সম্মান দেখিয়ে খেলার প্রথমার্ধে টুলু মধ্যপাড়াকে দু’টি গোল দিয়ে ফেলল। তা দেখে সবাই খুব বাহবা দিলো টুলুকে। টুলুও বুক ফুলিয়ে বলল, সবে তো শুরু। আমি ওদের ১০টা গোল দেবো।
বলল তো টুলু, কিন্তু খেলার ™ি^তীয়ার্ধে কেমন করে যেন মধ্যপাড়ার মিঠু কোনাপাড়াকে তিনটি গোল দিয়ে বসল।
ফুটবল খেলায় এমন হতেই পারে! কিন্তু টুলু এতে অপমানিত বোধ করল। সে ভাবল, এ ঘটনাটা ঘটিয়েছে মিঠু। তাই মিঠুকে শায়েস্তা করতে হবে।
এ কথা ভেবে টুলু আর এক সেকেন্ডও দেরি করল না। সে নিজের পা মিঠুর পায়ের ভেতর ঢুকিয়ে দিলো। অমনি মিঠু ডিগবাজি খেল। আর উঠে দাঁড়াতে পারল না। ডাক্তার এসে বললেন মিঠুর পা মচকে গেছে। ওকে বিশ্রামে থাকতে হবে। তাহলে পা সেরে যাবে।
খেলা শেষ হতে তখনো বাকি ছিল। কিন্তু রেফারি খেলা বন্ধ করে দিলেন। আর সেই সুযোগে লক্ষ্মী ছেলের মতো টুলু বাড়িতে ফিরে এলো। ওকে দেখে মা খুশি হলেন। ভাবলেন, আজ ছেলেটা কথা রেখেছে।
টুলু যে কতটা কথা রেখেছে, একটু পরেই মা তা বুঝতে পারলেন। সন্ধ্যার পরপরই মধ্যপাড়ার ছেলেরা এসে টুলুর নামে নালিশ জানাল। তা শুনে মা দুঃখ পেলেন। তিনি বললেন, টুলুকে আমি বকে দেবো। আর সকালে টুলুকে নিয়ে মিঠুকে দেখতে যাবো।
টুলু বলল, তুমি যেও। আমি যাবো নাÑ এ আমার সাফ কথা।
টুলু আর মা একসাথে খেতে বসেন। আজ টুলু বসল কিন্তু মা বসলেন না। তা দেখে টুলু জিজ্ঞেস করল, খাবে না মা?
মা বললেন, খেয়ে কী হবে? বেঁচে থাকতেই ইচ্ছে করছে না।
টুলু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, হঠাৎ এ কথা বলছ কেন?
মা বললেন, হঠাৎ তো বলছি না! আমি তো রোজই বলছি, বেঁচে থেকে অপমান সইতে আর ইচ্ছে করে না। আজ একঘর ছেলের সামনে বলে দিলি তুই মিঠুদের বাসায় যাবি না। এমন করলে আমার কষ্ট হয় না?
মায়ের কান্না এসেছিল। কাঁদতে কাঁদতে মা পাশের ঘরে গেলেন।
মা চোখের আড়ালে গেলেন কিন্তু টুলুর মনে মায়ের কান্নার ছবিটা আঁকা হয়ে গেল। টুলু ভাবল, আমার জন্য মা কাঁদছেন। কিন্তু আমার জন্য মা কাঁদবেন কেন? তাহলে কি আমি মাকে খুব কষ্ট দিই? কষ্ট তো দেয় খারাপ ছেলেরা। আমি তো ছেলে খারাপ নই। শুধু কোনটা খারাপ আর কোনটা ভালো কাজ, আমি তা বুঝতে পারি না। তা বুঝতে পারেন মা। তাই এখন থেকে আমি মায়ের কথা মতোই চলব। তাহলে মাকে আর কাঁদতে হবে না।
সকালে মা যখন মিঠুদের বাসায় গেলেন তখন টুলুও মায়ের পিছুপিছু মিঠুদের বাসায় গেল। ব্যান্ডেজ বাঁধা পা নিয়ে মিঠু শুয়ে ছিল। মা জিজ্ঞেস করলেন, কেমন আছো?
মিঠু বলল, ভালো। আপনি কেমন আছেন, আন্টি?
মা বললেন, ভালো। টুলু তোমার পা ভেঙে দিয়েছে। সেজন্য আমি দুঃখিত।
মায়ের কথা শেষ হতেই টুলু বলল, আমিও দুঃখিত। সরি মিঠু, এক্সট্রিমলি সরি।
টুলুর কথা শুনে মিঠুর মন থেকে সব রাগ মুছে গেল। মিঠু বলল, খেলতে গেলে কত কিছু হয়। সেজন্য রাগ করে থাকার কোনো মানে হয় না। তবে শেষ পর্যন্ত খেলা চললে তোরা আরো একটা গোল খেয়ে যেতিÑ সে কথা সত্যি।
টুলু মিটিমিটি হেসে বলল, সে ভয় ছিল বলেই তোর পা ভেঙেছি।
টুলুর কথা শুনে মিঠু হাঁ হাঁ করে হেসে উঠল। সেই হাসির শব্দ শুনে মিঠুর মা ছুটে এলেন। তিনি দেখলেন মিঠু আর টুলু হেসে হেসে কথা বলছে। টুলুর মা পাশে বসে আছেন।
মিঠুর মাকে দেখে টুলুর মা বললেন, কাল টুলু যে কাজটা করেছে, সে জন্য ক্ষমা চাইতে এসেছি।
মিঠুর মা বললেন, কি যে বলেন! ওসব ছেলেদের ব্যাপার। সব ভুলে ওরা বন্ধু হয়ে যাবে।
মা বললেন, বন্ধু তো ওরা হয়েই গেছে। তবুও কাজটা টুলু অন্যায় করেছে। ওর সাজা হওয়া উচিত।
টুলু তো পাশেই ছিল। মায়ের কথা শুনে সে বলল, সাজা আমি নিজে নিজেই নিয়েছি, মা। এই দেখো কি সাজা নিয়েছি।
এ কথা বলে টুলু অনেকগুলো পয়সা টেবিলের ওপর রাখল। তা দেখে মা জিজ্ঞেস করলেন, এত পয়সা! এত পয়সা তুই কোথায় পেলি?
টুলু বলল, ব্যাংক ভেঙেছি। সব পয়সা নিয়ে এসেছি, মা। মিঠুর চিকিৎসার খরচ দেবো, তাই।
টুলুর কথা শুনে মায়ের মন ভালো লাগায় ভরে গেল। আর মিঠুর মা পরম স্নেহে টুলুকে বুকে টেনে নিলেন। হ


আরো সংবাদ