১৩ আগস্ট ২০২০

সুবর্ণ এক্সপ্রেস

-
24tkt

সকাল ৭টা। মহিপাল বাসস্ট্যান্ডে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। বাসের অভাব নেই। কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না কোনটিতে উঠব। এক বাসে এক রকমের ভাড়া চাচ্ছিল। সীতাকুণ্ডু যাব বলাতে এক বাসের হেলপার বলল এক শ’ টাকা লাগবে। ভাড়া কত আমার ধারণা ছিল না। পরের বাসের দিকে গেলাম। এবার সে বাসের হেলপার বলল, ‘দেড়শ টাকা লাগবে’। শোনে আর পরের বাসের দিকে যাওয়ার ইচ্ছে হলো না। হয়তো পরের বাসের দিকে গেলে ভাড়া আরো বেড়ে যাবে। তাই এ বাসেই উঠে পড়লাম। আগের বাসের জন্য একটু আফসোস করলাম। মনে হয় ঈদ মওসুম তার জন্য ভাড়া একটু বেশিই।
বাসে ওঠার আগে এক তরুণীকে চোখে পড়েছিল। মাঝারি গড়নের এবং ফর্সা। আমি যে বাসটিতে উঠেছি সে ওই বাসের হেলপারের সাথে ভাড়া নিয়ে দর কষাকষি শুরু করল। তার একটাই কথা সে এক শ’ টাকাই দেবে। এটা বলেই বাসে উঠে পড়ল। কিন্তু সে যখন বাসে উঠে গেল তখন বাসে আর খালি সিট ছিল না। যেহেতু ঈদের মওসুম তাই তার মতো আরো অনেকেই বাসে দাঁড়িয়ে যেতে লাগল। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মহিলাও ছিল। বাসে যেহেতু গাদাগাদি হচ্ছিল তাই কেউ সৌজন্যতা দেখিয়ে দাঁড়িয়ে মহিলাদের বসতে বলেনি। তরুণীকে দেখে প্রথমেই আমার মায়া লেগেছিল। ভিড় ঠেলে তাকে টেনে এনে আমার সিটে বসিয়ে দিলাম। সে মুচকি হেসে আমাকে কৃতজ্ঞতা জানাল। তখন পর্যন্ত জানতাম না যে, তার আর আমার গন্তব্য একই স্থান। সে ভিন্ন উপজেলা থেকে প্রশিক্ষণে যাচ্ছিল। আমার মতো সেও যখন সীতাকুণ্ডু আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নেমে গেল আমি তখন শিওর হয়ে গেলাম।
প্রশিক্ষণার্থী সবাই থাকার জন্য হোস্টেলে রুম বুকিং দিলো। ডাইনিংয়ে নাম এন্ট্রি করাল। শুধু সে আর আমি ছাড়া। আমি আগেই মন স্থির করে রেখেছিলাম আমি আসা-যাওয়া করে প্রশিক্ষণ করব। সে কী কারণে আসা-যাওয়া করে প্রশিক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা জানতাম না।
আমরা পরস্পরই খেয়াল করলাম এই বুকিং না দেয়ার বিষয়টা। সে বেশি খেয়াল করল। দুপুরের পর ক্লাস শেষ হতেই সে আমার দিকে আগ বাড়িয়ে বলল, ‘আপনি কী আমাকে সাথে নেবেন? আমি একা!’ আমি মাথা নেড়ে স্বাগত জানালাম। একই বাসে করে দুজন পাশাপাশি বসে ফিরে এলাম। আমি ভাড়া দিয়ে দিলাম। ভাড়া এখন অনেক কম। কারণ ঈদের আমেজ কেটে গেছে। সারা পথ সে কিছুই বলল না। আমিও না। আমি এমনিতেই চুপচাপ থাকতে পছন্দ করি। তাকে দেখলাম আমার চাইতেও চুপচাপ থাকে। বাস থেকে নেমে বিদায় জানাতেই সে বলল, ‘সকালে যাওয়ার সময় আমাকে সাথে নেবেন?’
তার কথা শোনে আমি আবারো মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম। সে আমাকে তার ফোন নম্বর দিলো। এভাবে এক সপ্তাহ আমরা দুজন একসাথে আসা-যাওয়া করলাম। প্রতিদিন আমিই ভাড়া দিলাম। সে বাধা দিত না! তবে আমি অবাক হলাম সে সারা পথ আমার সাথে কোনো কথাই বলত না। আমি মাঝে মাঝে কিছু বলার চেষ্টা করেছিলাম। সে শুধু ‘হু’ কিংবা ‘না’ বলে উত্তর দিত। তার নাম ছিল সুবর্ণা। আমি তাকে ডাকতাম সুবর্ণ এক্সপ্রেস নামে। আমি তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেনের নাম কী? সে বলতে পারেনি। আমি তাকে বলে দিয়েছিলাম। সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেনের নাম হলো ‘সুবর্ণ এক্সপ্রেস’!
প্রশিক্ষণের শেষ দিন বাস থেকে নেমে বিদায়ের আগে সে আমার সামনে দাঁড়াল। তারপর আমার হাতে একটা খাম ধরিয়ে দিয়ে একটা মুচকি হাসি দিলো। এই প্রথম তার মুখে হাসি দেখলাম। খুব ভালো লাগল। খাম হাতে নিয়ে আমি আমার পথ ধরলাম। সে তার পথে চলে যেতে লাগল। আমি কিছু দূর গিয়ে পেছন ফিরে একবার তাকালাম। কিন্তু সে একবারও পেছনের দিকে ফিরে তাকাল না। আমি পুলকিত মন নিয়ে খাম খুললাম। খামের ভেতরে ছিল ৫৭৫ টাকা! গত কয়দিনে আমি তার ভাড়া বাবদ, যা খরচ করেছিলাম তা। আমি মনে মনে বলতে লাগলাম, ‘কী হিসাবী মেয়েরে বাবা!’
প্রিয়জন-১৬২৪


আরো সংবাদ

নারীঘটিত দ্বন্দ্ব, একসাথে নাস্তা করার পর বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা মৃত্যুহার কমে আসায় করোনা ব্রিফিং বন্ধ হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি ডিইউজের সাবরিনা-আরিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ২০ আগস্ট নতুন শনাক্ত আড়াই হাজারের বেশি, মৃত্যু আরো ৪৪ জনের রাস্তার পাশে ছটফট করছে কাপড়ে মোড়ানো নবজাতক মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান মূর্তি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে ভয়ঙ্কর কাণ্ড আনোয়ার জাহিদ আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের উজ্জল নক্ষত্র : লেবার পার্টি সমুদ্রবন্দরে ৩নং সতর্ক সঙ্কেত ভ্রমণের কারণে ইউরোপে নতুন করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

সকল