২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১
`

মেয়েরা ডাক্তার হবে, তাই ১২ কিমি দূরের স্কুলে রোজ নিয়ে যান বাবা


রোজ ১২ কিমি পথ ভেঙে মেয়েদের স্কুলে পৌঁছে দেন মিয়া খান। এভাবে রোজ তিন মেয়েকে নিয়ে যাওয়া আসা করেন তিনি। শুধু তাই নয়, স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়েও থাকেন। মেয়েদের স্কুল শেষ হলে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন বলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়াতেই সবাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

ঘটনাটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের। বিভিন্ন কারণে শিক্ষা থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে সেখানকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে নারীরা। কিন্তু সেই অবাস্তবই বাস্তব করে দেখাচ্ছেন মিয়া খান।

সুইডেনের একটি স্বেচ্ছ্বাসেবী সংস্থা সুইডিশ কমিটি ফর আফগানিস্তান কতৃক পরিচালিত নুরানিয়া স্কুল। সেখানেই মিয়া খান ভর্তি করেছেন তার মেয়েদের।

তিনি যেখানে থাকেন সেখানে একজন মহিলা ডাক্তারও নেই। সেই অভাব তিনি পূরণ করতে চান মেয়েদের দিয়ে। তাই রোজ এত পরিশ্রম করে স্কুলে নিয়ে যান মেয়েদের বলে জানা তিনি।

মিয়া খান বলেন, 'আমি অশিক্ষিত। তবু জানি, শিক্ষার কত মূল্য। বিশেষ করে মেয়েদের লেখাপড়া শেখা খুব জরুরি। এতদিন এবিষয়ে কেউ নজর দেয়নি বলেই তো এখানে একজনও মহিলা ডাক্তার নেই। আমার মেয়েরা সেই অভাব পূরণ করবে। আমার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা, আমার ছেলের মতো আমার মেয়েদেরও শিক্ষিত করা।

মিয়া খানের তিন কন্যা এখন নুরানিয়া স্কুল ফর গার্লসে পড়াশোনা করছেন। তাদের মধ্যে দু'জন ষষ্ঠ শ্রেণীতে এবং একজন পঞ্চম শ্রেণীতে। তার মতে, এই বিদ্যালয়ের পাঠের মান ভাল হওয়ার কারণে এটি বেছে নেওয়া হয়েছে।

মিয়া খানের কন্যাদের একজন রোজি বলেন, আমি পড়াশোনা করতে পেরে খুবই আনন্দিত। আমি এ বছর ক্লাস সিক্সে আছি। বাবা ও ভাই আমাদেরকে মোটর সাইকেলে করে প্রতিদিন স্কুলে নিয়ে আসেন। স্কুল শেষ আবার বাড়ি নিয়ে যান।

আফগানিস্তানে সুইডিশ কমিটি পাকাতিয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় শত শত কমিউনিটি ভিত্তিক স্কুল স্থাপন করেছে, যার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই মেয়ে।



আরো সংবাদ