১৭ আগস্ট ২০২২
`

১০০ কোটি ভোল্টের বিদ্যুৎ আছড়ে পড়ল বিমানে(ভিডিও)

১০০ কোটি ভোল্টের বিদ্যুৎ আছড়ে পড়ল বিমানে, তারপর...
১০০ কোটি ভোল্টের বিদ্যুৎ আছড়ে পড়ল বিমানে - ছবি : সংগৃহীত

প্রচণ্ড ঝড়ঝঞ্জায় লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে অবতরণ করার আগে ১০০ কোটি ভোল্টের বিদ্যুৎ আছড়ে পড়ল একটি বিমানে। শাখা-প্রশাখা নিয়ে বিদ্যুতের চোখের নিমিষে ঝলকানি, যেন মনে হবে এই বুঝি ছাই হয়ে গেল বিমানটা।

যিনি ক্যামেরাবন্দি করেছেন, তার মুখে একটাই শব্দ বেরিয়ে আসে, “ও মাই গড”।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বদৌলতে যাত্রীবাহী বিমানটি সে দিন নিরাপদে লন্ডন হিথরো বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমানটি। বিমানে শিহরণ জাগানো বজ্রপাতের আঘাতের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

দেখুন সেই ভিডিও:

নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগছে, কয়েক লক্ষ কোটি বিদ্যুতের আঘাতেও কেন বিমানের কিছু হলো না?

বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো বজ্রপাতের কথা মাথায় রেখে বিমান তৈরি করেন। সেই মতোই বিমানের বাইরের ফিউসালেজের অংশ বিশেষভাবে তৈরি করা হয়। সহজভাবে বলতে গেলে বিমানের বাইরের অংশ যে মিশ্র উপাদানে তৈরি থাকে, সেটিকে বজ্রনিরোধক হিসেবে বানানো হয়। সেই কভার বা চাদরের মধ্যে একটি তামার ঘন জালের স্তর থাকে। এই জালের খাঁচার মতো স্তরটিই পারতপক্ষে বিমানের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাদি ও যাত্রীদের বিদ্যুত্স্পৃষ্ঠ হওয়া থেকে বাঁচায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক লাখ কোটি বিদ্যুৎ বিমানের নাকের ভিতর প্রবেশ করে লেজ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

ফ্যারেডে কাঠামো:
ফ্যারাডের সূত্র অনুযায়ী কোনও বিদ্যুৎবাহী জালের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে সমস্ত বিদ্যুৎ সেই জালের বাইরের অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ভিতরের অংশে সেই বিদ্যুৎ প্রবাহের প্রভাব পড়ে না। সেই তত্ত্বেরই প্রয়োগ করা হয় বিমান আচ্ছাদনের একটি স্তরে। তামার আস্তরণটি ফ্যারাডের সূত্রের সরু তারের জালের মতো কাজ করে। আর সেই কারণেই বিমানে অভ্যন্তরে কোনো ক্ষতি হয় না। তাছাড়া বিমানের বাইরের আস্তরণ উচ্চ তাপ সহনে সক্ষম। তাই বজ্রবিদ্যুতের সময়ে প্রচন্ড উত্তাপেও কোনো ক্ষতি হয় না।

তবে, এটা কি বিরল ঘটনা?
একদমই না। পরিসংখ্যান বলছে মার্কিন দেশে প্রত্যেক বিমান বছরে অন্তত একবার বজ্রপাতের সম্মুখীন হয়। অর্থাৎ ৭ হাজারের বেশি এমন ঘটনা হয়ে থাকে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এমন খবর নেই বজ্রপাতের কারণে বিমান দুর্ঘটনা হয়েছে। বজ্রপাতে মার্কিন মুলুকে শেষ বিমান ভেঙে পড়ে ১৯৬৩ সালে। জিনিউজ


আরো সংবাদ


premium cement