০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

সূর্যই মূল প্রেরণা : ডিজাইনার মারিয়ান

সূর্যই মূল প্রেরণা : ডিজাইনার মারিয়ান - ছবি : সংগৃহীত

নেদারল্যান্ডের ডিজাইনার মারিয়ান ফান আউবেলের কাছে সূর্যই মূল প্রেরণা। জানালার আলোকিত সজ্জার মতো এমন ডিজাইনের মূলে রয়েছে সোলার সেল। জ্বালানির উৎস হিসেবেও সেগুলো কাজ করে।

মারিয়ান বলেন, ‘সৌর প্যানেল অদৃশ্য করে তোলার বদলে দেখাতে চাই যে এটা সত্যি আমাদের ভবিষ্যৎ। আমার কাজে নান্দনিকতা যোগ করে। শিল্পকর্ম হিসেবে এটির নিজস্ব শক্তি রয়েছে।

এই সব সোলার উইন্ডো প্যানেল দেখতে স্টেন্ড গ্লাস মনে হলেও এর একটি কার্যকারিতাও রয়েছে। আর ‘সানে’ নামের এই সৌরশক্তিচালিত ঝুলন্ত বাতি সূর্যাস্তের নকল করে।

মারিয়ানের মতে, ‘সুন্দর বস্তু হিসেবে সূর্যকে আমরা সবাই চিনি। সমুদ্রতটে গিয়ে সূর্যাস্ত দেখলে জাদুময় মুহূর্ত মনে হয়। সেটাই আমি আলোর বাতির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে চাই। সূর্য ডুবে গেলেও ‘সানে’ চালু থাকে। সূর্যের সাথে প্রত্যেকের একটা ব্যক্তিগত সমীকরণ আছে। এটাও সত্যি যে সূর্য বিভিন্ন বস্তুকে শক্তি দেয় ও সেটির আলো সত্যি মুগ্ধ করে।’

আমস্টারডামের এই স্টুডিও থেকে মারিয়ান ফান আউবেলের সৃষ্টিকর্ম তৈরি করে চলেছে। তিনি বিজ্ঞানীদের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে এমন বস্তু তৈরি করেন, যা জ্বালানিও সাশ্রয় করে। যেমন একটি টেবিল যা ডকিং স্টেশন হিসেবেও কাজে লাগানো যায়।

দুবাই এক্সপো ২০২০-তে তার বড় আকারের প্রকল্প শোভা পেয়েছে। নেদারল্যান্ডের প্যাভিলিয়নের জন্য তিনি রঙিন সৌর প্যানেল সৃষ্টি করেছিলেন। সেই সোলার ছাদ প্যাভেলিয়নের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে এবং ভিতরের গাছপালার জন্যও যথেষ্ট সূর্যের আলোর ব্যবস্থা করেছে। মারিয়ানের ডিজাইন সোলার প্যানেলের বৈচিত্র্য তুলে ধরে।

তিনি বলেন, ‘এগুলো অরগ্যানিক ফটোভোল্টাইক, যেগুলো প্যাডের ওপর প্রিন্ট করা হয়। এর মধ্যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক হেভি মেটাল ব্যবহার করা হয় না। সম্পূর্ণ গোলাকার হওয়ায় অত্যন্ত হালকাও বটে। সৌর প্রযুক্তির নতুন প্রজন্ম বলা চলে।’

মারিয়ান স্বচালিত গ্রিনহাউসে খাদ্য উৎপাদনের এক সমাধান সূত্রও ডিজাইন করেন। নেদারল্যান্ডের ফ্লোরিয়াড হর্টিকালচার এস্কপোয় সেটি প্রদর্শিত হচ্ছে। যেখানে বিদ্যুৎ বা চাষের জায়গার অভাব রয়েছে, সেখানে এই পাওয়ার প্লান্ট খাদ্য উৎপাদনে সহায়তা করে।

মারিয়ান বলেন, ‘কৃষিকাজের ভবিষ্যতের জন্য এটা আমার সৃষ্টি। এর নাম পাওয়ার প্ল্যান্ট। আসলে যেকোনো জায়গায় খাদ্য উৎপাদন সম্ভব। নিজের ছাদেই সেটা করা যায়। অর্থাৎ পৃথিবীর অন্য প্রান্ত থেকে খাদ্য উড়িয়ে আনার প্রয়োজন নেই। নিজের বাসার মধ্যেই সেটি উৎপাদন করা যায়। ভার্টিকাল ফার্মিং ও সোলার গ্লাসের কল্যাণে সেই কাজ সম্ভব।’

পেশায় ডিজাইনার হলেও বিজ্ঞান ও বিকল্প জ্বালানির উৎস নিয়েও চর্চা করেন তিনি। তার মতে, ‘উদ্ভাবনের সময় থেকেই সোলার সেলের বিকাশ হয়ে চলেছে। আমার মনে হয়, মাটি না খুঁড়ে এবার আকাশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সময় এসে গেছে। প্রকৃতির সাথে ভারসাম্য রেখে বাঁচতে এবং অফুরন্ত উৎস কাজে লাগাতে পারলে পৃথিবীটা খুব সুন্দর জায়গা হয়ে উঠতে পারে।’

তিনি আরো মনে করেন, ‘সৌর প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল।’
সূত্র : ডয়চে ভেলে


আরো সংবাদ


premium cement