২৭ অক্টোবর ২০২০

যক্ষার টিকা কি সত্যি কোভিড-১৯এ মৃত্যু ঠেকাতে পারে?


খবরটা ছড়িয়েছিল বেশ কিছুদিন আগেই - ১৯২১ সালে তৈরি করা বিসিজি টিকা নাকি কোভিড-১৯ আক্রান্তদের জীবন বাঁচাতে পারে।

এখন ব্যাপারটা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ১০০০ লোকের ওপর এক পরীক্ষা চালানো শুরু করেছেন।

যক্ষা রোগ ঠেকানোর জন্য এই বিসিজি টিকা উদ্ভাবিত হয়েছিল, কিন্তু পরে কিছু প্রমাণ পাওয়া যায় যে এটি অন্য আরো কিছু সংক্রমণের হাত থেকেও মানুষকে রক্ষা করতে পারে।

যুক্তরাজ্যের এই পরীক্ষাটি একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ। অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও ব্রাজিলের মোট ১০ হাজার লোক এই ট্রায়ালে অংশ নিচ্ছেন।

এই পরীক্ষায় জোর দেয়া হবে স্বাস্থ্য ও সেবা কর্মীদের ওপর - কারণ তারাই করোনাভাইরাসে সংক্রমণের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে আছেন। তাছাড়া গবেষকরাও অনেক দ্রুত বুঝতে পারবেন যে টিকাটি কার্যকর হচ্ছে কিনা।

গত মে মাসে চিকিৎসা সাময়িকী ল্যান্সেটে একটি নিবন্ধ বের হয় যার অন্যতম লেখক ছিলেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস এ. গেব্রেইয়েসুস।

সেখানে তারা লেখেন, বিসিজি টিকা দিলে হয়তো সার্স-কোভ-টু ভাইরাস সংক্রমণজনিত অসুস্থতার কম গুরুতর হতে পারে এবং সেরে ওঠার গতিও দ্রুততর হতে পারে। তারা বলেন, কোভিড-১৯এর একটি সুনির্দিষ্ট টিকা তৈরির আগের পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সেতু হয়ে উঠতে পারে এই বিসিজি টিকা।

আগে যারা বিসিজি নিয়েছেন, তাদের আবার তা নিতে হবে?
তবে মনে রাখতে হবে, বিসিজি টিকা হয়তো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হয়ে উঠতে পারবে না। কারণ বিসিজি টিকা নেয়া লোকদের কোভিড প্রতিরোধের ক্ষমতা সময়ের সাথে সাথে কমে যেতে পারে।

তাই বলা হচ্ছে - যারা শৈশবে বিসিজি টিকা নিয়েছেন তাদের এখন আর করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা মিলবে না।

কারণ সেই টিকা মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সেই বিশেষ এ্যান্টিবডি ও শ্বেতকণিকা তৈরি করাতে পারবে না - যা করোনাভাইরাসকে চিনে নিয়ে তাকে ধ্বংস করতে পারে।

যুক্তরাজ্যে ২০০৫ সাল থেকে আর বিসিজি টিকা দেয়া হয় না - কারণ দেশটিতে যক্ষা রোগীর সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।

তার মানে হচ্ছে, যুক্তরাজ্যে যারা ২০০৫ সালের আগে বিসিজি টিকা নিয়েছেন - তাদেরকে হয়তো আবার সেই টিকা নিতে হবে, যদি এটা প্রমাণিত হয় যে এটি করোনাভাইরাস থেকে সত্যিই সুরক্ষা দিতে পারে।

কি কি সংক্রমণ ঠেকাতে পারে বিসিজি?
গিনি-বিসাউতে চালানো কয়েকটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, নবজাত শিশুর নিউমোনিয়া ও সেপসিস থেকে মৃত্যু ৩৮ শতাংশ কমাতে পারে বিসিজি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় জরিপে দেখা গেছে যারা বিসিজি নিয়েছেন তাদের নাক গলা ও ফুসফুসের সংক্রমণ ৭৩ শতাংশ কমেছে।

নেদারল্যান্ডসে চালানো জরিপে দেখা যায়, বিসিজি মানবদেহে ইয়েলো ফিভার ভাইরাসের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।

এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল স্কুলের অধ্যাপক জন ক্যাম্পবেল বলেন, "ব্যাপারটা বৈশ্বিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ বিসিজি যে সুরক্ষা দেয় তা হয়তো সুনির্দিষ্টভাবে কোভিডের জন্য নয়- কিন্তু এতে কোভিড টিকা তৈরির আগে পর্যন্ত হাতে কয়েক বছর সময় পাওয়া যেতে পারে। "

সে কারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চূড়ান্ত লক্ষ্য এখনো একটাই - তা হলো এমন একটি নতুন টিকা উদ্ভাবন - যা সুনির্দিষ্টভাবে মানবদেহে করোনাভাইরাস ধ্বংস করতে পারে। বিবিসি


আরো সংবাদ