২৪ অক্টোবর ২০২০

পৃথিবী থেকে ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে বসছে ‘জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ’

পৃথিবী থেকে ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে বসছে ‘জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ’ - সংগৃহীত

জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণা পালটে দিয়েছে হাবল টেলিস্কোপ। এবার তার উত্তরসূরি হিসেবে আসছে ‘দ্য জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ’। ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে তৈরি এই টেলিস্কোপ আগামী বছরই কাজ শুরু করতে পারে। হাবলকে বসানো আছে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে সাড়ে পাঁচশ কিলোমিটার উঁচুতে। আর জেমস ওয়েবকে স্থাপন করা হবে পৃথিবী থেকে ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে।

এখন পর্যন্ত বানানো জটিলতম বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির মধ্যে একটি জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। দশ বিলিয়ন ডলার খরচ হওয়ায় অন্যতম ব্যয়বহুলও। জেমস ওয়েব কাজ করবে ইনফ্রারেড আলো দিয়ে। আর হাবল প্রধানত কাজ করছে ‘ভিজিবল লাইট স্পেকট্রামে।

হাইডেলব্যার্গের মাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোনমি জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ তৈরির সঙ্গে জড়িত। ইনফ্রারেড আলো দিয়ে কাজ করার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কারণ আছে বলে মনে করেন অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট ক্লাউস ইয়েগার।

তিনি বলেন, ‘তারা গঠিত হওয়ার জায়গা, ধূলিকণায় ঢেকে যাওয়া আলো- এসব পরিস্থিতি দেখতে ইনফ্রারেড আলোর প্রয়োজন। তরঙ্গদৈর্ঘ্য বড় হওয়ায় ইনফ্রারেড ক্লাউডের মধ্যে ঢুকতে পারে। আরেকটি কারণ হচ্ছে, মহাবিশ্বের আকার বাড়ছে, অনেক দূরের গ্যালাক্সির আলোর রং লালের দিকে ঝুঁকছে- যা ইনফ্রারেড টেলিস্কোপ দিয়ে দেখা যাবে।’

হাবলের মতোই জেমস ওয়েবও জ্যোতির্বিদ্যাকে এগিয়ে নেবে। তবে ইনফ্রারেড দিয়ে কাজ করবে বলে জেমস ওয়েব ঠান্ডা রাখতে বিশেষ নকশা অনুসরণ করা হচ্ছে।

একটি টেনিস কোর্টের সমান সানশেড দিয়ে তাপরশ্মি দূরে রাখার চেষ্টা চলছে। কিন্তু একটা রকেটে এত বড় শেড ধরবে না। তাই এমন এক জটিল অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যা শুধু মহাকাশে মেলা হবে। খুবই জটিল চ্যালেঞ্জ। ক্লাউস ইয়েগার বলেন, ‘মহাকাশে সব কাজ ঠিকঠাক মতো হতে হবে। তাই খুব সতর্ক থাকতে হচ্ছে। আশা করছি, যেন ২০২১ সালের মধ্যে কাজ শুরু হতে পারে।’

জটিলতার কারণে মাঝেমধ্যেই কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। হাবলে একটা আয়না আছে। জেমস ওয়েবে থাকবে ১৮টি। এগুলো মহাকাশে একটি আরেকটির সঙ্গে জোড়া লাগবে। তখন এর আকার হাবলের আয়নার তিনগুণ হবে। সবকিছু ঠিক হতে হবে। কারণ হাবলের মতো পরে আর মেরামতের সুযোগ থাকবে না। ইয়েগার জানান, ‘অর্বিটে হাবল টেলিস্কোপ পাঠানোর পর শুরুতে সমস্যা দেখা দিয়েছিল, যা পরে মেরামত করা গেছে। কিন্তু জেমস ওয়েবের ক্ষেত্রে তা সম্ভব হবে না। কারণ এটি পৃথিবী থেকে এত দূরে পাঠানো হবে যে মেরামত করার উপায় থাকবে না।’

পৃথিবী থেকে ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে এটি বসানো হবে। পৃথিবীর অর্বিটের চেয়ে সেখানেই, জেমস ওয়েবকে সূর্যের তেজস্ক্রিয়তা থেকে রক্ষা করা বেশি সম্ভব হবে৷ ফলে ইনফ্রারেড অ্যাস্ট্রোনমি চর্চার দারুণ এক জায়গা হবে সেটি।

ততদিন পর্যন্ত জ্যোতির্বিদ্যা চর্চার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র হয়ে থাকবে হাবল টেলিস্কোপ। রুয়র ইউনিভার্সিটির অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট রাল্ফ-ইয়ুর্গেন ডেটমার বলছেন, ‘৩০ বছর আসলেই অনেক সময়। শুরুতে এতটা প্রত্যাশা ছিল না। এতদিন বেশ ভালো সময়ই কেটেছে। তবে এখন হাবলকে বন্ধ করে দেবার চেষ্টা চলছে ভেবে দুঃখ লাগছে। কিন্তু হাবলের উত্তরসূরিই হচ্ছে ভবিষ্যৎ। আরও বেশি বিজ্ঞান চর্চার জন্য এটি দরকার। হাবলকে দিয়ে আমরা যা করার চিন্তা করেছিলাম তার প্রায় সবই আমরা করেছি।'

অবশ্য, হাবল হয়ত এখনও আমাদের জন্য অবাক করা আরও কিছু বিষয় নিয়ে অপেক্ষা করছে। কারণ সব ঠিক থাকলে আরও কয়েক বছর কাজ করতে পারবে হাবল। গত ৩০ বছরে হাবল আমাদের এমন কিছু দেখিয়েছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি৷ সামনে যে আরও কী দেখাবে, কে জানে! সূত্র: ডয়চে ভেলে


আরো সংবাদ