২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ৫ রজব ১৪৪৪
ads
`

রজব মাসে আল্লাহর রাসূল সা: যে আমল করতেন


শুরু হয়েছে হিজরি মাস রজব। ‘রজব’ শব্দের অর্থ সম্মানিত। ইসলামপূর্ব জাহেলিয়াতের যুগে আরবরা এ মাসকে অন্য মাসের তুলনায় অধিক সম্মান করত। এজন্য তারা এ মাসের নাম রেখেছিল রজব।

ইসলাম আগমনের পর বছরে ১২ মাসের মধ্য থেকে রজবসহ ৪টি মাসকে ‘আশহুরে হুরুম’ তথা সম্মানিত মাস বলে ঘোষণা করা হয়। এ সম্পর্কে কুরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর কাছে গণনায় মাস ১২টি, তন্মধ্যে ৪টি (সম্মানিত হওয়ার কারণে) নিষিদ্ধ মাস, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান।’ (সূরা তাওবা, আয়াত : ৩৬)

এ মাস আসলে আল্লাহর রাসূল বিশেষ একটি আমল করতেন। হজরত আনাস ইবনে মালেক রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রজব মাস শুরু হলে হজরত রাসূলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়া পড়তেন- `আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান। ওয়া বাল্লিগনা রামাজান।’ অর্থ, ‘আয় আল্লাহ! রজব ও শাবান মাসকে আমাদের জন্য বরকতময় করে দাও। আয় আল্লাহ আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দাও (জীবন দাও)।’ (সুনানে নাসাঈ, হাদিস : ৬৫৯)

হজরত আবু বকর বলখি রহ: বলেন, ‘রজব ফসল রোপনের মাস। শাবান ফসলে পানি সেচ দেয়ার মাস। আর রমজান হলো- ফসল তোলার মাস।’ তিনি আরো বলেন, ‘রজব মাস ঠান্ডা বাতাসের মতো, শাবান মাস মেঘমালার মতো। আর রমজান মাস হলো- বৃষ্টির মতো।’ (লাতায়েফুল মাআরেফ: ১৪৩)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতেন। অধিক নফল রোজা ও ইবাদতে কাটাতেন রজব ও শাবান মাস। তাই আমাদেরও কর্তব্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণ করে রজব মাসের হক আদায় করা। বেশি বেশি নফল নামাজ ও রোজা রাখা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের তাওফিক দান করুক। আমিন।

লেখক : শিক্ষার্থী, আততাখাসসুস ফিল ইফতা, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম রামপুরা।
ইমেইল : Ibnemanik@365gmail.com


আরো সংবাদ


premium cement