০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ১৫ রজব ১৪৪৪
ads
`

আল্লামা ইউসুফ কারাজাভির বাংলাদেশ সফর নিয়ে ড. এবিএম হিজবুল্লাহর স্মৃতিচারণ


আল্লামা ইউসুফ কারাজাভি রহিমাহুল্লাহ একটি নাম ও একটি ইতিহাস। বলা যায়, বর্তমান সময়ের প্রচণ্ড প্রভাবশালী বৈশ্বিক ইসলামী স্কলারগণের মধ্যে অনন্য এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। তার ইন্তেকালে ইসলামী বিশ্ব একজন ধর্মীয় ও প্রাজ্ঞ অভিবাবককে হারাল।

তার ইলমী ও গবেষণাধর্মী লেখালেখি রয়েছে অসংখ্য। সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে তার ক্ষুরধার বুদ্ধি, মেধা ও লেখনীর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান দিতেন। আধুনিক ও শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি বিষয়কে সাহসিকতার সাথে বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে তুলে ধরতেন। ইসলামের কোনো বিষয়ে উত্থাপিত সন্দেহ-সংশয়ের অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সমুচিত জবাব দিয়ে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতেন।

তার রচিত গ্রন্থ সংখ্যা প্রচুর। বিভিন্ন ভাষায় সেগুলো ভাষান্তরিত হয়েছে এবং তা এখনো চলমান। আল্লাহ এগুলো তার জন্য সাদাকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করুন। আমীন। দ্বীনের জন্যই তাকে নিজ দেশ মিসর ছেড়ে কাতারে নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে হয়েছিল এবং সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করলেন।

একবার তিনি চট্টলার জামিয়া পটিয়ার মুহতামিম হাজী ইউনুস সাহেবের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফরে আসেন। সেই সফরকে কেন্দ্র করে তার বিশ্লেষণধর্মী একটি লেখা আছে। সম্ভবত সেই সফরেই তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় ভিজিট করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকার অফিস মরহুম সৈয়দ আলী আশরাফ সাহেবের ধানমন্ডির বাসায় মাগরিবের সালাতের পর সংক্ষিপ্ত আলোচনা রাখেন।

আরবি ওই আলোচনার বাংলা অনুবাদের দায়িত্ব আমি পালন করেছিলাম। পরিচিতি পর্বে আমি তার নামের সাথে ‘কারজাভি’ বলেছিলাম। তিনি সংশোধনী দিয়ে বলেছিলেন, ‘কারজাভি’ নয়; বরং ‘কারাজাভি’ হবে, যা আজও আমার মনে আছে আলহামদু লিল্লাহ।

মহান রবের কাছে আমি তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তার ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন। আমীন।

লেখক : সাবেক প্রফেসর-কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।


আরো সংবাদ


premium cement