২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

নাশিদের মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াত দেন আব্দুল্লাহ আল মুআজ রিফাত

নাশিদের মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াত দেন আব্দুল্লাহ আল মুআজ রিফাত - ফাইল ছবি।

আব্দুল্লাহ আল মুআজ রিফাত একজন নাশীদ শিল্পী। ইতোমধ্যে নিজের লেখা এবং সুর করা গানসহ বেশ কয়েকটি গান গেয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন।

বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলায় জন্ম নেয়া এ তরুণ নাশিদ শিল্পী বর্তমানে ইসলামী সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছেন

শৈশব থেকেই বিভিন্ন ইসলামিক অনুষ্ঠানে নাশিদ গেয়ে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ কর‍তেন। বিভিন্ন ইসলামী অনুষ্ঠানের মঞ্চে ইসলামী সংগীত গাইতেন। তার গাওয়া ইসলামী সংগীত, হামদ ও নাত তন্ময় হয়ে উপভোগ করতেন দর্শক-শ্রোতারা।

আব্দুল্লাহ আল মুআজ রিফাতের ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল আন্তর্জাতিক মানের নাশিদশিল্পী হওয়া এবং সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তার ইউটিউব চ্যানেল Abdullah Al Muazz Rifat এ ‘অফিশিয়াল আর্টিস্ট ব্যাজ’ অর্জন তার লক্ষ্যকে আরো সামনে এগিয়ে নিল।

শিল্পী আব্দুল্লাহ আল মুআজ রিফাতের সংগীত জগতের হাতেখড়ি বড় মাধ্যমে না হলেও নিজের প্রচেষ্টায় এতদূর এসেছেন। এর মাঝে সাত বছর পড়াশোনায় নিমগ্ন থাকলেও ভুলে যাননি সংগীতচর্চা।

বাবা মা ও উস্তাদগণ বলতেন, পড়াশোনায় ভালো করার জন্য তিনি পড়াশোনায় বেশি মনোযোগী ছিলেন। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে সংগীতচর্চা ও মাঝে মাঝে গান, কবিতা লেখার চেষ্টা চালিয়ে যেতেন।

হিফজ শেষ করে তিনি পুরো দমে সংগীতের প্রতি মন দেন। ২০১৭ সালে তার একক এ্যালবাম ‘হে রাসুল দেখা দাও আমায়’ প্রকাশের মাধ্যমে ইসলামী সঙ্গীতাঙ্গনে তার পথচলা শুরু হয়। এর পরে তার আরো ছয়টি একক এ্যালবাম বের হয়। ২০১৯ সালে তার প্রথম মিউজিক ভিডিও প্রভুর প্রেমে রিলিজ হয়।

পরবর্তীকালে ‘সল্লিআলা’, ‘ ও নবীজি ’, ‘শুকরিয়া’ ‘ সীমাহীন ভালবাসা’ ‘তাকওয়া হাসিলে রমাদান’, নেতার ভুড়ি, আল্লাহ মেহেরবান, দূর করে দাও করোনা গজব, সুবহানাল্লাহ,প্রেমের গান,জান্নাতী নুর, চিরবিদায়, মুহাম্মদ রাসূল’ প্রেমের গান’ ‘কাবার প্রেমে’সহ অসংখ্য নাশিদ গেয়ে নিজের সংগীত ক্যারিয়ার উজ্জ্বল করেছেন আব্দুল্লাহ আল মুআজ রিফাত। যেগুলো ইসলামী সঙ্গীতপ্রেমীদের মনে এখনো গেঁথে আছে।

ইউটিউবের পাশাপাশি তার নাশিদগুলি স্পটিফাই, আইটিউন, আমাজন মিউজিক অ্যাপেল মিউজিক, সাউন্ডক্লাউড ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মিউজিক প্লাটফর্মে রিলিজ হয়েছে। এ পর্যন্ত তাঁর নিজের লেখা ও সুর করা প্রকাশিত সংগীতগুলো হলো- নুরে মোজাচ্ছাম, নুরে মদিনা, প্রভু রহমান, ও মদিনাওয়ালা,নিশি রাতের ওই তারার মেলায়, ইত্যাদি।

তিনি একাধারে নাশিদ আর্টিস্ট, গীতিকার,সুরকার ও একজন লেখক। তার বেশ কয়েকটি কাব্যগ্রন্হ রয়েছে। ইসলামী সঙ্গীত ও কবিতা লেখালেখি করার জন্য তিনি অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।

এ ছাড়াও তিনি প্রতিবছর রমজান মাসে একুশেটিভি, বিটিভি,দীপ্তটিভি, বাংলাভিশন, চ্যানেল নাইন, বৈশাখী টিভি, বাংলাদেশ বেতার, কৃষি রেডিও এফএম ৯৮.৮, এ ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন।

সংগীত নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে কণ্ঠশিল্পী আব্দুল্লাহ আল মুআজ (রিফাত) বলেন, ছোটবেলায় ছারছীনা দরবারের জুলফিকার শিল্পীগোষ্ঠীর তৎকালীন পরিচালক জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী মুফতী আব্দুল মুনয়িম খানের ‘ডেকে লওরাসুলাল্লাহ, জীবন দিয়ে ভালবাসী নবী তোমাকে, হে রাসূল তোমায় ভালবাসি’ গজলগুলো শুনে তার মতো হুবহু কণ্ঠে গাওয়ার জন্য চেষ্টা করতাম এবং সবমসময় তাকে ফলো করতাম। এরপরে হিফজখানায় ভর্তি হই তখনও টুকটাক গজল গাইতাম এবং আমার উস্তাদ তার মাহফিলের প্রোগ্রামে আমাকে প্রায় নিয়ে যেতেন।

তিনি আরো বলেন, এরপরে পড়াশোনায় তেমন মনোযোগ না দেখে আমার আব্বু বলতেন যে, তুমি আগে হিফজ কমপ্লিট করো এরপরে সংগীত করার অনেক সময় পাবা। আব্বুর কথা শুনে পুরোদমে পড়াশোনায় মন দিই এবং মাত্র দু্বছরে হিফজ শেষ করি। আমি গান করার জন্য প্রথম দিকে কখনো কারো হেল্প পাইনাই, উল্টো আমি যেন এই অংগনে কাজ না করতে পারি সেজন্য অনেকেই আমার ফ্যামিলিকে বিভিন্ন ভাবে কুমন্ত্রণা দিতো তবুও আমি দমে যাইনি। নিজের ভিতর একটা জিদ নিয়ে কাজ করছি, এরপরে অনেক প্রিয়জনরা পিছন থেকে বিভিন্ন সময় আমাকে অনুপ্রেরণা ও পরামর্শ দিয়েছে। তবে আমার আম্মু প্রথম থেকেই সবসময় আমাকে গান করার জন্য উৎসাহ দিতো। আমার আম্মুর জন্যই এতদূর আসতে পেরেছি।

তিনি বলেন, আমি সংগীত গেয়ে ভাইরাল হওয়ার জন্য সংগীত করিনা, আমি একমাত্র আল্লাহ ও তার রাসূলের সন্তুষ্টি লাভের জন্যই ইসলামী সংগীত করি। নাশিদের মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান জানানো। আমি মনে করি ইসলামী সংগীত ইসলামী সাংস্কৃতিক বিপ্লবের একটি অংশ হিসেবে কাজ করে। মানুষ বিনোদনের নামে বেহায়াপনা দেখে থাকে। নোংরা সংস্কৃতির মোহে পড়ে যায়। আমি আশাবাদী আগামী দিনে মুসলিম উম্মাহ অশ্লীল গান ছেড়ে আমাদের সুস্থ সুন্দর ও হালাল বিনোদন গ্রহণ করবে। ইসলামী সঙ্গীত নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে। ইসলামী সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি মানুষের কাছে এটাই আমার প্রত্যাশা।

ইসলামী সঙ্গীতের এখন ব্যাপক প্রসার ঘটেছে- এক্ষেত্রে কেউ যদি এটিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে চায় তাহলে কি পারা যাবে? না মূল কাজের পাশাপাশি সঙ্গীত চর্চা করতে হবে- আব্দুল্লাহ আল মুআজ রিফাতের কাছে এ প্রশ্নটি করেছিলাম। উত্তরে তিনি বলেন, আগে ইসলামী সঙ্গীতের এমন বিশাল ইন্ডাস্ট্রি ছিল না, তাই শিল্পীরা মূল পেশার পাশাপাশি ইসলামী সঙ্গীত করত। তবে শিল্পীর গায়কির পাশাপাশি ইসলামী সঙ্গীতের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য টেকনিক্যাল অভিজ্ঞতাসহ আরো নানা অভিজ্ঞতা থাকাটা উচিত

শিল্পী আব্দুল্লাহ আল মুআজ রিফাত বর্তমানে ইসলামী সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সুপরিচিত একটি নাম। তার সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পড়াশোনার পাশাপাশি কয়েকটি সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে কাজ করছেন। ইউটিউবে ‘Abdullah Al Muazz Rifat’ নামে শিল্পীর ব্যক্তিগত চ্যানেল রয়েছে এবং চ্যানেলটিতে নিয়মিত নাশিদ রিলিজ করেন। বর্তমানে তিনি আমেরিকায় স্হায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং ইসলামিক সংগীত নিয়ে কাজ করছেন দশ ও দেশের কল্যাণের জন্য। তিনি সকলের নিকট দোয়াপ্রার্থী


আরো সংবাদ


premium cement