০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

শিশুমনে মসজিদের ভালোবাসা সৃষ্টি অভিভাবকের দায়িত্ব

শিশুমনে মসজিদের ভালোবাসা সৃষ্টি অভিভাবকের দায়িত্ব - ছবি : সংগৃহীত

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তাকে গড়ে তোলা অভিভাবকের অন্যতম দায়িত্ব। তাদের মনে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করাও অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; বিশেষ করে মসজিদের সাথে সম্পর্ক জুড়ে দিলে শিশুমনে নৈতিকতা ও শুদ্ধ জীবনযাপনের বীজ অঙ্কুরিত হয়। শৈশব থেকেই নামাজ আদায়ের ধারাবাহিকতা তাকে নীতিবান হতে শেখায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নামাজকে অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে মুক্তির মাধ্যম বলেছেন।

আল্লাহর রাসূল সা: শিশুদের নামাজে অভ্যস্ত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করতেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের বাচ্চাদের সাত বছর বয়স থেকে নামাজের নির্দেশ দাও। আর তাদের বয়স দশ বছর হয়ে গেলে নামাজে অবহেলা করার জন্য শাস্তি দাও।’ (আবু দাউদ) তাই শিশুদের যখন মসজিদে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন মনে নামাজের ভালোবাসা তৈরি হবে।

রাসূল সা: নিজেও শিশুদের মসজিদে নিয়ে যেতেন। এক হাদিসে আবু কাতাদা রা: বলেন, ‘রাসূল সা: তাঁর নাতনি উমামাকে নিয়ে মসজিদে আসেন। তাকে কাঁধে রেখেই তিনি নামাজ শুরু করেন। সিজদায় যাওয়ার সময় তাকে নামিয়ে দিতেন এবং ওঠার সময় পুনরায় তুলে নিতেন।’ (বুখারি শরিফ)

অন্য হাদিসে এসেছে, একদিন নবী সা: সিজদারত অবস্থায় তাঁর নাতি হাসান ও হুসাইন পিঠে চড়ে বসে। মহানবী সা: তাদের নামিয়ে দিলেন না, যতক্ষণ তারা নিজ থেকে নেমে পড়েছে। এতে দীর্ঘক্ষণ তাঁকে সিজদায় থাকতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার নাতিরা আমার পিঠে চড়ে বসেছিল। তাদের বিরক্ত করতে চাইনি।’ (নাসায়ি শরিফ)

মসজিদে এসে শিশুদের হাসাহাসি, উচ্চ আওয়াজে কথা বলা, হই-হুল্লোড় করা স্বাভাবিক। এসবে বিরক্ত না হয়ে তাদের ভালোভাবে মসজিদের আদব সম্পর্কে বোঝালে তারা ধীরে ধীরে শিখে যাবে। তাদের প্রতি কঠোরতা করা ঠিক নয়। তবে একান্ত অবুঝ শিশুকে মসজিদে নিয়ে মসজিদের পরিবেশ নষ্ট করাও উচিৎ নয়।


আরো সংবাদ


premium cement