০৯ আগস্ট ২০২২
`

ঈদের রাতের ইবাদতে জান্নাতের সুসংবাদ

ঈদের রাতের ইবাদতে জান্নাতের সুসংবাদ। - ছবি : সংগৃহীত

জিলহজের প্রথম দশকের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। এই দিনগুলোর ইবাদত আল্লাহ তায়ালার কাছে অতি প্রিয়।
প্রিয়নবী সা: ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর কাছে জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোনো আমল নেই । সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও কি এ আমলের চেয়ে উত্তম নয়? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে সে ব্যক্তির কথা ভিন্ন যে নিজের জান ও মাল নিয়ে জিহাদে বের হয়েছে কিন্তু কিছুই নিয়ে ফিরতে পারেনি।' (সহিহ বুখারি : ৯৬৯)

জিলহজের প্রথম দশক পুরোটাই মুমিনের জন্য অফুরন্ত সওয়াবের। তবে ঈদের রাতটার গুরুত্ব অপরিসীম। এই রাতকে আমাদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। ঈদের রাতকে ইবাদত দ্বারা প্রাণবন্ত রাখা মুস্তাহাব। ইমাম নববি রহ: বলেন, ‘ঈদের রাত নামাজ, জিকিরসহ অন্যান্য ইবাদত দ্বারা প্রাণবন্ত রাখা মুস্তাহাব। (আল আজকার নববি : ২৯২) নবীজি সা: ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় দুই ঈদের রাতে ইবাদত করবে, তার হৃদয় সেদিন মারা যাবে না, যেদিন অন্যদের হৃদয় মারা যাবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৭৮২)

ঈদের রাতের ইবাদতের মাধ্যমে বান্দার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। প্রিয়নবী সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত (ইবাদতের মাধ্যমে) জাগ্রত থাকবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। সেগুলো হলো- জিলহজ মাসের ৮ তারিখের রাত, জিলহজ মাসের ৯ তারিখের রাত (আরাফার রাত), ঈদুল আজহার রাত, ঈদুল ফিতরের রাত ও ১৫ শাবানের রাত।’ (আত তারগিব ওয়াত তারহিব : ১৬৫)।

ঈদের রাতের দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা: বর্ণনা করেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার রাত, রজব মাসের প্রথম রাত, অর্ধ শাবানের রাত এবং দুই ঈদের রাতসহ এ পাঁচ রাতে কোনো দোয়া করে, সে রাতে তার কোনো আবেদনই ফিরিয়ে দেয়া হয় না।' (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৭৯২৭)

সুতরাং এ পুণ্যময়ী রজনীতে গান-বাজনা, আতশবাজি, মেহেদি-উৎসব, সাজ-সজ্জায় ব্যস্ত না হয়ে নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকারসহ বিভিন্ন ইবাদতে কাটানো উচিৎ। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

লেখক : মুহাদ্দিস-জামিয়া ইসলামিয়া হামিদিয়া বটগ্রাম, সুয়াগাজী, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা।


আরো সংবাদ


premium cement