০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`

এক নজরে শায়খ মাহমুদ এফেন্দি রহ:

এক নজরে শায়খ মাহমুদ এফেন্দি রহ:। - ছবি : সংগৃহীত

তুরস্কের বরেণ্য আলেম, নকশবন্দিয়া তরিকার আধ্যাত্মিক বুযুর্গ ও দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের ধর্মগুরু শায়খ মাহমুদ এফেন্দি ইন্তেকাল করেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ৯৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান। শুক্রবার ইস্তাম্বুলের সুলতান ফাতিহ আল মসজিদে জানাজা শেষে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে। খ্যাতনামা এই আলেমের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো-

জন্ম ও বংশ পরিচয় : তুরস্কে তিনি মাহমুদ হাসাউসমানউগলু ও এফেন্দি হাযরাতলেরি নামে পরিচিত ছিলেন। ১৯২৯ সালে তুরস্কের তারবুজুন শহরের মীজু গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন গ্রামের মসজিদের ইমাম ও কৃষক। তার মা ফাতেমা খানম। শায়খ এফেন্দির মা-বাবা দুজনেই অত্যন্ত ধার্মিক ছিলেন।

পড়াশোনা : মাত্র ছয় বছর বয়সে বাবার কাছে তিনি পবিত্র কুরআনে কারিম হিফজ সম্পন্ন করেন। পরে শায়খ তাসবিহী জাদাহর কাছে আরবি ও ফার্সি ভাষা শেখেন। পরে যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম শায়খ তুরসুন ফায়জি রহ:-এর সান্নিধ্যে থেকে দ্বীনি শিক্ষা অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তার থেকে ইলমের সনদ হাসিল করেন।

কর্মজীবন : তার কর্মজীবন অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। ইস্তাম্বুলের ইসমাঈল আগা মসজিদের ইমাম ও শিক্ষকরূপে তার কর্মজীবন শুরু। তার কাছ থেকে দ্বীনি ইলম শিখতে এখানে ছুটে আসেন অসংখ্য ছাত্র। তাছাড়া দাওয়াতি কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন বেশ সরব।

বাতিলের বিরুদ্ধে সোচ্চার : ‘আমর বিল মারুফ-নাহি আনিল মুনকার’ অর্থাৎ সৎ কাজের আদেশ-অসৎ কাজের নিষেধ-আজীবন তিনি এটি কর্মে দেখিয়ে গেছেন। কামালবাদের চরম উত্থানকালে যখন হাজার হাজার আলেমকে হত্যা করা হয়েছে। শত শত মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংস করা হয়েছে। এমন কঠিন সময়েও তিনি দাড়ি রাখা, পর্দা পালনের প্রতি দাওয়াত দিতেন। ফলে তিনি তার অনুসারীদের ওপর ব্যাপক অত্যাচার নেমে আসে। এমনকি তাকে হ্ত্যার ষড়যন্ত্রও করা হয়। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি বেঁচে যান।

মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্বারোপ : দাওয়াতি কাজে তিনি বিভিন্ন শহর-বন্দরে সফর করতেন। তিনি মনে করতেন- সবচেয়ে বড় দাওয়াত হলো- মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা। তাই যেখানেই যেতেন বেশি বেশি মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাতেন।

আধ্যাত্মিকতা : প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষ করে সে সময়কার বিশিষ্ট বুজুর্গ শায়খ আলী হায়দার আফেন্দি রহ:-এর সাথে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তার থেকে আধ্যাত্মিক দীক্ষা ও তারবিয়াতের মাধ্যমেই মূলত শায়খ মাহমুদ আফেন্দির জীবনের মোড় পরিবর্তন হয় এবং আস্তে আস্তে হয়ে নকশবন্দীয়া তরীকার এক মহান ব্যক্তিত্ব। উলুমুল হাদিস, ও উলুমুল ফেকাহ শাস্ত্রের ওপর উচ্চতর ডিগ্রিধারী ছিলেন তিনি। দেওবন্দী চিন্তা-চেতনা ও মানহাযের ওপর জীবন পরিচালনা করতেন। দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা কাসিম নানুতবি রহ:-কে চৌদ্দ শ’ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ বলে অভিহিত করেছেন।

রচনা : তিনি অনেকগুলো ইসলামী কিতাবাদি রচনা করেছেন। সেগুলোর মধ্যে ‘রুহুল ফুরকান’ নামে তুর্কী ভাষায় কুরআন কারিমের আঠারো খণ্ডের তাফসীর গ্রন্থ সবচেয়ে বেশি পাঠকপ্রিয়।

বিবাহ : ১৬ বছর বয়সে যখন পড়াশোনা শেষ করলেন, তখন স্বীয় ওস্তাদ শায়খ তুরসুন ফায়যী রহ: আপন কন্যাকে মাহমুদ আফেন্দির সাথে বিবাহ দেন।

পুরস্কার : তুরস্কে দ্বীনি শিক্ষা প্রচার-প্রসারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ শায়খ আফেন্দিকে ‘ইমাম কাসিম নানুতবি এওয়ার্ড’ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। ২০১৩ সালে তুরস্কে অনুষ্ঠিত আলেম-ওলামাদের এক সম্মেলনে দারুল উলুম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসিন শায়খ সাইয়েদ আরশাদ মাদানী বলেন, শায়খ মাহমুদ আফেন্দি হলেন তুরস্কের কাসিম নানুতবি।

ইন্তেকাল : মহান এই মনীষী অসংখ্য ভক্তকে কাঁদিয়ে ২০২২ সালের ২৩ জুন (বৃহস্পতিবার) মহান প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে পরলোক গমন করেন। আল্লাহ তাকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করেন। আমীন।

সূত্র : তুরস্কে তুর্কিস্তানের সন্ধানে, আলজাজিরা, তুর্কিপ্রেস ও অন্যান্য


আরো সংবাদ


premium cement