২৫ অক্টোবর ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৮, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

পিতৃপরিচয়হীন সন্তান জন্ম দেয়া সাহসিকতা না-কি বেহায়াপনা?

মাওলানা আব্দুর রহীম আল-মাদানী - ছবি : সংগৃহীত

‘পিতৃপরিচয়হীন অবৈধ সন্তান জন্ম দেয়ার নাম কি সাহসিকতা, না-কি নির্লজ্জতা, বেহায়াপনা ও উচ্ছৃঙ্খলতা?’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী নুসরাত জাহান সম্প্রতি এক সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। কিন্তু ওই সন্তানের বাবা কে- তা প্রকাশ করেননি তিনি। এটিকে ‘সাহসিকতা’ হিসেবে উল্লেখ করে কিছু গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা আব্দুর রহীম আল-মাদানী।

এ প্রসঙ্গে শুক্রবার জানতে চাইলে নয়া দিগন্তকে মাওলানা আব্দুর রহীম আল-মাদানী বলেন, পিতৃপরিচয়হীন সন্তান জন্ম দেয়াকে যদি আপনি সাহসিকতা বলেন- তা হলে হত্যা-ধর্ষণের মতো অপরাধগুলোকেও তো সাহসিকতা কেউ কেউ বলতে পারে! এসব সমাজবিরোধী, আইনবিরোধী ও ধর্মবিরোধী অপকর্মকে কোনোভাবেই সাহসিকতা বলা যায় না। এসব প্রমোট করা হলে সমাজে ও রাষ্ট্রে শুধু অপরাধ প্রবণতাই বাড়বে।

ইসলামের বিরোধিতা করতে গিয়ে একটি সমাজ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া, মানুষের পারিবারিক বন্ধন নষ্ট করে দেয়া, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলাকে অবজ্ঞা করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না বলেও মন্তব্য তার।

তিনি আরো বলেন, এরা আমাদের সমাজকে কোন পথে ঠেলে দিচ্ছে? আমাদের ভবিষ্যৎ কী? এ সমস্ত অপকর্মের চূড়ান্ত পরিণতি কী? একবারও কি আমরা ভেবে দেখেছি?

বিবাহিত বৈধ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণের গন্ধ খোঁজা হচ্ছে উল্লেখ করে আব্দুর রহীম আল-মাদানী বলেন, ‘আর অবৈধ সন্তান জন্ম দেয়াকে সাহসিকতা বলে প্রমোট করা হচ্ছে। আধুনিক চেতনার নামে কোন পাশবিকতার দিকে আমাদের প্রজন্মকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে? তথাকথিত এই চেতনার বিরুদ্ধে গোটা জাতিকে রুখে দাঁড়াতে হবে। ইসলামিক চিন্তা-চেতনায় সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে।

আফগানিস্তানে তালেবান শাসন প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুসলমানদের বিজয়ে মুসলাম খুশি হওয়ার কথা। যারা খুশি হতে পারেনি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন আছে। তালেবান কাবুল নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর ইসলামের সাম্যবাদ ও ভ্রাতৃত্বে সেই মহান আদর্শই দেখিয়েছে, যা মক্কা বিজয়ের পর মহানবী স: করেছিলেন। সবাইকে সাধারণ ক্ষমা করে দেয়া। তিনি বলেন, তালেবান প্রকৃতপক্ষে আফগানিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা। ৯/১১-এর পর তাদেরকে দেশছাড়া, বাড়িছাড়া করেছিল দখলদার ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিন পর তালেবান নিজেদের জীবন, সম্পদ ও সবকিছুর বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের যে প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে তা সত্য নয়। আমরা চাই, তালেবান কোনআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করুক।

সভ্যতার দাবিদার যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে এই ইসলামী বক্তা বলেন, এটা কোন ধরনের সভ্যতা?

পরীমণিদের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা ইসলামের বহু বিবাহের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারাই গোপনে গোপনে বহুগামিতায় লিপ্ত। এরাই সমাজে পরীমণিদের সৃষ্টি করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার প্রসঙ্গে মাওলানা আব্দুর রহীম আল-মাদানী বলেন, নিজেকে প্রকাশের জন্য নয়। আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করি- ইসলামের প্রচার ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য। ভক্ত-অনুসারীদের প্রতি তার আহ্বান, আপনারা অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও খারাপ বিষয়ের প্রচারে যুক্ত না হয়ে ভালোকাজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করুন। এতে সমাজে শান্তি ফিরে আসবে।



আরো সংবাদ


বাংলাদেশ দখলের হুমকি দিয়ে লাভ কার (৫৬২৬১)অভাবের তাড়নায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করলেন বিজিবি সদস্য! (১৭৫২২)ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্দোর রেফারি ড. পেটেল (১৫৭৭১)গেইলের প্রয়োজন ৯৭ রান, সাকিবের ১ উইকেট (৯১৫৯)প্রতিরক্ষার মতোই যোগাযোগ অন্যের হাতে রাখতে পারি না : এরদোগান (৬৬৫৫)মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক সৈন্য সমাবেশ, গণহত্যার আশঙ্কা জাতিসঙ্ঘের (৬৬০৪)ভারতের বিরুদ্ধে দলে যাদের রেখেছে পাকিস্তান (৬৩২১)সিরিয়ায় ইসরাইলি বিমান হামলায় বাধা দিবে না রাশিয়া (৬২২৬)আজ থেকে সুপার লিগ : সুপার টুয়েলভের কখন কোন দলের খেলা (৫৮৭৪)পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট (৫৭৭৯)