১৩ জুন ২০২১
`

‘বিবাহ-ভাতা’ : মারকাযুদ দিরাসাহ আল ইসলামিয়্যাহ-ঢাকায় শিক্ষকদের ব্যতিক্রমী সম্মানী

মুফতি নাবিল ওয়ালিদের বিবাহ উপলক্ষে তার হাতে নগদ অর্থের মাধ্যমে ‘বিবাহ-ভাতা’ তুলে দেয়া হয় - ছবি : নয়া দিগন্ত

অপ্রতুল বেতন, আবাসন সঙ্কট, পরিবার বিরহ, সীমাহীন কাজের চাপ- এরকম হাজারো অসুবিধা এবং এর বাইরে আরো অগণিত ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েও ইসলামের খেদমত করে চলেছেন দেশের অসংখ্য কওমী মাদরাসা শিক্ষক। কওমী মাদরাসাগুলোর অর্থনৈতিক খাতটা প্রায় সবসময়ই প্রয়োজনের তুলনায় অস্বচ্ছল থাকে। এজন্য অনেকক্ষেত্রে মাদরাসা পরিচালকরা যথেষ্ট আন্তরিক হওয়া সত্ত্বেও যথার্থভাবে শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াতে পারেন না।

এই পরিস্থিতির পরও পরিচালকদের কেউ তুলনামূলক ‘ছোট’ কাজ করেও বড় কাজের প্রশংসা কুড়ান। হয়ে ওঠেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সম্প্রতি এমন-ই ক্ষুদ্র তবে অসামান্য এক কাজ করেছেন রাজধানীর মিরপুরস্থ মারকাযুদ দিরাসাহ আল ইসলামিয়্যাহ-ঢাকা-এর পরিচালক মুফতি মামুন আব্দুল্লাহ কাসেমী। তিনি ‘বিবাহ-ভাতা’ নামে তার পরিচালিত মাদরাসায় কর্মরত নববিবাহিত শিক্ষকদের জন্য ব্যতিক্রমী এক ‘সম্মানী’-এর প্রচলন শুরু করেছেন।

গত শনিবার মাদরাসার শিক্ষক মুফতি নাবিল ওয়ালিদের বিবাহ উপলক্ষে তার হাতে নগদ অর্থের মাধ্যমে ‘বিবাহ-ভাতা’ তুলে দেয়া হয়-এর মাধ্যমে মারকাযুদ দিরাসাহ আল ইসলামিয়্যাহ-ঢাকায় নতুন ও ব্যতিক্রমী এ সম্মাননা ভাতার প্রচলন শুরু হলো। গত মার্চে এ প্রতিষ্ঠানে ‘চিকিৎসা ভাতা’ নামেও শিক্ষকদের প্রাথমিক চিকিৎসা বাবদ একটি বিশেষ সম্মানি চালু করে- এতেও মাদরাসাটি সর্বমহলে বেশ প্রশংসিত হয়।

ব্যতিক্রমী এ সম্মানী প্রসঙ্গে মুফতি মামুন আব্দুল্লাহ কাসেমি বলেন, এখন থেকে নিয়মিত-ই মাদরাসার নববিবাহিত যেকোনো শিক্ষককে ‘বিবাহ-ভাতা’ দেওয়া হবে। অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি আরো জানান, আমার তো ইচ্ছা ও স্বপ্ন আরো বিস্তৃত ও অনেক বড় তবে নতুন প্রতিষ্ঠান ও নানা প্রতিকূলতায় সবকিছু বাস্তবায়ন করতে পারি না। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও সম্মননা দেওয়াকে আমি নিজের লাভ-ই মনে করি। কেননা, তারা স্বচ্ছন্দ থাকলে নিশ্চিন্তে শিক্ষাদান করতে পারেন-এতে শিক্ষার্থীরা বিশেষ উপকৃত হয়, যা আমাদেরর প্রতিষ্ঠানের জন্য কল্যাণকর। নয়া দিগন্তের মাধ্যমে সবার প্রতি আহবান জানিয়ে মুফতি মামুন আব্দুল্লাহ কাসেমি বলেন, দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই যেন আমাদের মারকাযুদ দিরাসাহ আল ইসলামিয়্যাহ-ঢাকাকে মহান আল্লাহ কবুল করেন এবং দিনদিন মাদরাসার সবক্ষেত্রে তিনি উন্নতি দান করেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ সাধ্যের সবটুকু দিয়ে শিক্ষকদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো।

প্রসঙ্গত, মারকাযুদ দিরাসাহ আল ইসলামিয়্যাহ-ঢাকা এর নববিবাহিত শিক্ষক মুফতি নাবিল ওয়ালিদ দেশের মধ্যাঞ্চলীয় জেলা টাঙ্গাইলের সন্তান। বর্তমানে থাকেন রাজধানীর আশকোনায়। উত্তরার জামিয়া আরাবিয়া বাইতুস সালাম (বাইতুস সালাম মাদরাসা), জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা, জামিয়া ইসলামিয়া তেজগাঁও এবং মারকাযুদ দিরাসাহ আল ইসলামিয়্যাহ-ঢাকায় পড়াশোনা করেছেন। হিফজ সম্পন্ন করেছেন হাফেজ কারী ইদ্রিসের পরিচালিত মাদরাসাতুস সুফফাহয়। বর্তমানে তিনি দুই বছর যাবত মারকাযুদ দিরাসাহ আল ইসলামিয়্যাহ-ঢাকায় মাদানি নেসাবের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 



আরো সংবাদ