০৬ ডিসেম্বর ২০২০

অপচয়কে পছন্দ করেন না আল্লাহ

অপচয়কে পছন্দ করেন না আল্লাহ - আবুল হাসান সাঈদ - ফাইল ছবি

ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম। অতি বাড়াবাড়ি, অতি ছাড়াছাড়ি উভয়টিকেই ইসলাম অপছন্দ করে। ইসলাম প্রতিটি মানুষের প্রতিটি মৌলিক অধিকারগুলোকে যথাযথভাবে পূরণ করার যেমন নির্দেশনা দেয়, ঠিক তেমনি প্রয়োজনের অধিক ব্যবহারের প্রতি কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যদিও অধুনা বিশে^ চলছে অপচয়, অপব্যয় বা প্রয়োজনের চেয়ে অধিক ব্যবহার করার মহোৎসব। কেউ কেউ তো অঢেল সম্পদের ঠেলা সামলাতে না পেরে প্রমোদলীলায় মত্ত হয়ে নেশার নীল জগতে অবগাহন কিংবা ক্যাসিনোতে জুয়া খেলে স¤পদের অপচয় করছে অনায়াসে। কুরআন দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছে, ‘তোমরা অপচয় করো না, নিশ্চয় অপচয়কারী শয়তানের ভাই’ (সূরা বনি ইসরাইল-২৭)।

বিশ^নবী সা: বলছেন, ‘প্রবাহমান নদীর ধারে বসেও এক ফোঁটা পানি অপচয়ের অধিকার কারো নেই।’ প্রয়োজনের চেয়ে অধিক জিনিসকে অপচয় শামিল করে তিনি বলেন, ‘কারো ঘরে একটি বিছানা তার জন্য, অন্যটি তার স্ত্রীর জন্য, তৃতীয়টি মেহমানের জন্য, চতুর্থটি শয়তানের জন্য।’ (মুসলিম) বিশ^নবী সা: আরো বলেন, ‘আল্লøাহ তায়ালা তোমাদের জন্য তিনটি জিনিস অপছন্দ করেনÑ অতিরিক্ত কথা বলা, সম্পদের অপচয় করা, বেশি বেশি কামনা করা।’ (বুখারি-১৩৮২) ইসলাম প্রয়োজনের চেয়ে অধিক অপচয় না করে প্রতিবেশী ক্ষুধার্তকে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা বলছেন, ‘তোমরা সবাই আল্লাহ তায়ালার গোলামি করো। তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না। পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করো। নিকটাত্মীয়, এতিম ও মিসকিনদের সাথে ভালো আচরণ করো এবং আত্মীয়-অনাত্মীয়, প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, মুসাফির ও তোমাদের অধীনে যেসব দাস-দাসী থাকে তাদের প্রতি সদয় হও।’ (সূরা আন-নিসা-৩৬) মোহাম্মদ সা: বলছেন, ‘সে ব্যক্তি ঈমানদার নয়, যে পেটপুরে আহার করে আর তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।’ তিনি আরো বলেন, ‘যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়, সে কিছুতেই ঈমানদার নয়।’

প্রিয় পাঠক, লক্ষ করুনÑ আপনার-আমার চারপাশে খাবার, পানীয়, বিদ্যুৎ, পরিধেয় বস্ত্র, অলঙ্কারাদি ইত্যাদিসহ জীবনের সব ক্ষেত্রে আমরা যেন অপচয় করে চলছি। অথচ কি নিদারুণ পরিহাসের বিষয়, এখনো প্রায় পৃথিবীর অর্ধেক লোক অনাহারে, অর্ধাহারে জীবনযাপন করছে। যাদের ক্ষুধার করুণ রোনাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে যাচ্ছে। যদি আমরা এই অপচয় বা অপব্যয় রোধ করতে পারি, তাহলে হয়তো ভুখানাঙ্গা আদম সন্তানদের করুণ আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠত না এবং কাক্সিক্ষত শান্তির সহজলভ্যতা সুনিশ্চিত হতো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সব ক্ষেত্রে অপচয় রোধ করে মিতব্যয়ী হওয়ার তৌফিক দান করেন। আমিন।

লেখক : মুফাচ্ছিরে কুরআন ও ইসলামী গবেষক


আরো সংবাদ

'হিন্দুরা গাদ্দার', যুবরাজের বাবার বক্তব্যে উত্তাল ভারত (৮৮১৩)মানুষের মতো দেখলেও তাকে যে কারণে জঙ্গলে ফল-ঘাস খেয়ে থাকতে হয় (৮৬৭১)আদালতেই গ্রেফতার বিয়ে করতে আসা মুসলিম যুবক, মেয়েটির করুণ চিৎকারে হতবাক কোর্ট চত্বর (৭৬৩৬)ইরানের পরমাণু কর্মসূচির রিপোর্ট ফাঁসের নিন্দা রাশিয়ার (৭১৩০)আমারও একটি ধর্ম আছে (৭০৬৭)ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে বিবৃতিতে যা বলছেন দেশবরেণ্য আলেমগণ (৫৭৬৯)চীন মালয়েশিয়ার চেয়ে খরচ বেশি বাংলাদেশে (৫০২৭)ফ্রান্স শিগগিরই ম্যাক্রোঁ থেকে মুক্তি পাবে : এরদোগান (৪৮৪৯)নতুন পরমাণু কেন্দ্রে জ্বালানী ঢোকানোর কাজ শুরু করেছে পাকিস্তান (৪৭০৮)ভাস্কর্য বিতর্কের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী হ্যান্ডেল করছেন : কাদের (৪৪৯২)