২৯ মার্চ ২০২০

আজ পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ

আজ রোববার, হিজরি ২৬ রজব রাত পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ। মহানবী হযরত (স.) তাঁর জীবদ্দশায় রাতে মহান আল্লাহর নির্দেশে তাঁরই বিশেষ ব্যবস্থাপনায় উর্ধাকাশে গমন করেন। মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করেন। প্রত্যক্ষ করেন সপ্ত আকাশ, বেহেস্ত, দোজখসহ আল্লাহর সৃষ্টি রহস্য। সাক্ষাত ও কুশল বিনিময় করেন সপ্তআকাশে অবস্থানকারি তাঁর আগের নবী-রাসূলগণের সাথে। জীবরাইল (আ.) কে দেখেন তার নিজ অবয়বে। আল্লাহর কাছ থেকে নিয়ে আসেন উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান।

রাসূল (স.) এর মিরাজ তথা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ ইসলামের ইতিহাসের এক বিস্ময়কর ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তাই রাতটি মুসলমানদের কাছে খুবই মর্যাদপূর্ণ। মুসলমানরা এ রাতে নফল নামায, ইবাদত, জিকিরসহ বিশেষ ইবাদাত করে থাকেন।

পবিত্র কোরআনে এই ঘটনার বর্ণনা এভাবে এসেছে-‘পবিত্র ও মহিমান্বিত সেই আল্লাহ যিনি তাঁর (এক) বান্দাকে রাতের বেলায় মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসায় নিয়ে গেলেন, যার পারিপাশ্বর্কিতাকে আমি (আগেই) বরকতপূর্ণ করে রেখেছিলাম, যেন আমি তাকে আমার নির্দেশনাবলী দেখাতে পারি, মূলতঃ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা তো স্বয়ং তিনিই।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ১)।

মিরাজের সঠিক তারিখ নিয়ে কিছুটা মতবিরোধ থাকলেও হিযরতের কয়েক বছর আগে ঘটে এ ঘটনা। অধিকাংশ মত অনুযায়ী ২৭ রজব এশার নামাজের পরই ঘটে মিরাজের ঘটনা। তখন হযরত মোহাম্মদ (সা:) হযরত উম্মে হানির (রা.) ঘরে শায়িত ছিলেন। হযরত জিবরাইল (আ.) এসে তাকে মিরাজের কথা জানান। তিনি প্রথমে বোরাক নামের একটি বাহনে মক্কা মোকাররমা থেকে থেকে বর্তমানে জেরুসালেমে অবস্থিত মসজিদে আকসায় যান। সেখানে দু’রাকাত নামাজ শেষে তিনি উর্ধকাশে গমন শুরু করেন। সেখানে প্রতিটি আসমানে অবস্থানরত প্রধান ফেরেস্তাদের সাথে তাঁর দেখা হয়। পরে বায়তুল মামুর নামক স্থানে ফেরেস্তাদের নিয়ে দু’রাকাত নামাজ পড়েন। সিদরাতুল মুনতাহা নামক স্থানে পৌঁছে তাঁকে বহনকারি বোরাক থেমে যায়। জিবরাঈল (আ.) এর উপরে যাওয়ার ব্যাপারে তার অপরাগতা প্রকাশ করেন। এরপর রফরফ নামের আরেকটি কুদরাতি বাহন এসে রাসূল (স.)কে উপরের দিকে আরশে মোয়াল্লায় পৌঁছে দেয়। সেখনেই আল্লাহর সাথে সান্নিধ্য (দিদার) ঘটে রাসূল (স.) এর। নবুয়াতি দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয় নিদের্শনা লাভ এবং আল্লাহর সৃষ্টি কৌশল অবলোকন করার পর ফযরের আগেই তিনি আবার ফিরে আসেন।

রাসূল (স.) এর মিরাজ স্বশরীরে না আত্মিক হয়েছিল এ নিয়ে বিজ্ঞানী ও আলেমদের মধ্যে কিছুটা মতান্তর আছে। অধিকাংশ আলেম ও ইসলামী গবেষকদের মতে, মিরাজ ছিল একটি বাস্তব ঘটনা। আল্লাহ তায়ালা বিশেষ ব্যবস্থায় এ কাজটি করিয়েছেন স্বশরীরেই। যদি আত্মিক বা স্বপ্নেই এ ঘটনা ঘটতো তাহলে এ নিয়ে এতো আলোচনা বা একে স্বীকার-অস্বীকারের প্রশ্ন আসতো না। কারণ তখন এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর কাফের মুশরিকরা ঠাট্টা বিদ্রুপ করেছিল। স্বপ্নে কেউ আকাশে ভাসার মতো ঘটনার উপলব্ধি যে কারো হতে পারে। সেটা নিয়ে হৈ চৈ হয় না। তাছাড়া পবিত্র কোরআনের সূরা বনি ইসরাইল ও সূরা নজমে রাসূল (স.) এর মিরাজের কথা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে।


আরো সংবাদ