০১ জুন ২০২০

হজেও প্রভাব পড়তে পারে করোনাভাইরাসের

হজেও প্রভাব পড়তে পারে করোনাভাইরাসের - সংগৃহীত

চলতি বছরের হজেও করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সৌদি সরকার গত সপ্তাহে হঠাৎ করে বাইরের লোকদের জন্য ওমরাহ ভিসা বন্ধ করে দেয়। গতকাল বুধবার দেশটি নিজের দেশের লোকদেরও ওমরাহ পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতির উন্নতি না হলে হজের ব্যাপারে সৌদি সরকার কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয় তা নিয়েও কথা হচ্ছে। এ কারণে হজের মূল নিবন্ধন করার ক্ষেত্রে অনেকে এজেন্সি মালিকদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইছেন। হজযাত্রী নিবন্ধনের শুরুতে ধীরগতির এটিও অন্যতম কারণ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। গত রোববার থেকে শুরু হওয়ার পর চার দিনে সরকারি ও বেসরকারি মোট ৭৪৮ জন নিবন্ধন করেছেন। আগামী ৩০ জুলাই (৯ জিলহজ) চাঁদ দেখাসাপেক্ষে পবিত্র হজ পালিত হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, এ ব্যাপারে আমরা এখনোই কোনো মন্তব্য করতে পারব না। এমন মন্তব্য করাটাও ঠিক হবে না। পুরো বিষয়টি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। হজের সময় কী রকম পরিস্থিতি দাঁড়াবে কেউই বলতে পারে না। অবশ্য হজযাত্রীর নিবন্ধনের শ্লথগতির জন্য সময়মতো পাসপোর্ট ডেলিভারি না পাওয়া এবং হাতে আরো বেশ কয়েক দিন সময় থাকাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে হাবের যুগ্ম মহাসচিব ও আটাবের অর্থসম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান করোনাভাইরাসের কারণে কিছু কিছু হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় নিজেদের আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করছেন বলে জানান। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাস যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে পরিস্থিতির সহসা উন্নতি না হলে সৌদি সরকার তাদের দেশের নাগরিক এবং হজযাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো পদক্ষেপই নিতে পারেÑ সেটা সময়ই বলে দেবে।
হাবের আরেক নেতা মুফতি মো: মোহসিন জানান, তার কাছে দুয়েকজন হজযাত্রী করোনাভাইরাসের কারণে হজে কোনো সমস্যা হতে পারে কি না জানতে চেয়েছেন। এটি আতঙ্কের চেয়েও অনিশ্চয়তার আশঙ্কা থেকে হতে পারে বলে তিনি জানান।

করোনাভাইরাসের কারণে সৌদি সরকার গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ওমরাহ ও ভিজিট ভিসায় সৌদি আরব গমন বন্ধ করে দেয়। এতে বাংলাদেশেরও প্রায় ১০ হাজার ওমরাহযাত্রী ভিসা করেও যেতে পারেননি। পরে সৌদি সরকার ওমরাহযাত্রীদের ভিসা ফি ও সার্ভিস চার্জ ফেরত দেয়ার ঘোষণা দেয়। বিমান সংস্থাগুলোও টাকা ফেরত অথবা পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ের ভ্রমণের সুযোগ দেয়ার কথা জানায়। ওমরাহ যাত্রা বন্ধের পরই গত ১ মার্চ থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয় হজের মূল নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রীর নিবন্ধনের সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গত চার দিনে মোট নিবন্ধিত হজযাত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ৭৪৮ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩০৩ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৪৫ জন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৭ হাজার ১৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার জনের কোটা রয়েছে। গতকাল সৌদি সরকার তার দেশের নাগরিকদের জন্যও ওমরাহ পালনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়েছে।

হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, বাংলাদেশে পাসপোর্ট সঙ্কট হজের নিবন্ধন কম হওয়ার প্রধান কারণ। পাসপোর্ট দ্রুত ডেলিভারির জন্য কাজ চলছে। তবে এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে হাব সভাপতি করোনাভাইরাসের প্রভাব আগামী হজের ওপর পড়ার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেননি।
এ দিকে সৌদি আরবের পত্রপত্রিকার খবর অনুযায়ী চীনের পর ইরানে এই মরণ ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবসহ অন্য দেশগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

মঙ্গলবার ইরানফেরত এক সৌদি নাগরিকের শরীরেও করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর সৌদি সরকার গালফ করপোরেশন কাউন্সিলভুক্ত দেশের নাগরিকদেরও তার দেশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। দুই সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করে আক্রান্ত নয়, নিশ্চিত হওয়ার পরই কাউকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়ার কথা জানায়। মঙ্গলবার থেকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ, দাম্মামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ওমরাহ করার জন্য মক্কায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের খবরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হজের সময় ২০ থেকে ৩০ লাখ লোকের সমাগম ঘটে। ইরানসহ করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া দেশগুলো থেকেও বিপুলসংখ্যক হজযাত্রী যাওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ভাইরাস পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে না এলে হজের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি সরকার হজযাত্রীর সংখ্যা কমিয়ে আনাসহ যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরাও এমন পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে তারা বলছেন, বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত কেউ শনাক্ত না হওয়ার দিকটি ইতিবাচক। তারপরও প্রথমে বাইরের লোকদের জন্য এবং সর্বশেষ সৌদি আরবের লোকদের জন্য ওমরাহ বন্ধ হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই এ বছরের হজে গমন ইচ্ছুকদের মনেও ভাইরাসের বিষয়টি আসবেই।


আরো সংবাদ





justin tv maltepe evden eve nakliyat knight online indir hatay web tasarım ko cuce Friv buy Instagram likes www.catunited.com buy Instagram likes cheap Adiyaman tutunu