১৮ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১, ১১ মহররম ১৪৪৬
`

কুড়িগ্রামে দুর্ভোগে ২ লক্ষাধিক বানভাসী মানুষ

কুড়িগ্রামে দুর্ভোগে ২ লক্ষাধিক বানভাসী মানুষ - ছবি : নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি সামান্য হ্রাস পেয়ে আবারো বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমারের পানি। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে জেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়ে ৯ উপজেলার ৫৫টি ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখের অধিক মানুষ। টানা ১০ দিন ধরে পানিবন্দী থাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি খাদ্য সঙ্কটে পড়েছেন চরাঞ্চলের বানভাসী মানুষজন।

বুধবার (১০ জুলাই) স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে সন্ধা ৬টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার, হাতিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এই তিনটি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৩ ঘণ্টায় এক সেন্টিমিটার করে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার সাত সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ নদীর মধ্যে প্রধান চারটি নদ-নদীর অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে ১০ দিন ধরে পানিবন্দী জীবন-যাপন করছেন প্রায় দুই লাখের অধিক মানুষ। অনেকের বাড়িঘরে পানি থাকায় লোকজন নৌকা ও গলা গাছের ভেলায় বসবাস করছেন। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন অনেক পরিবার। সরকারিভাবে কিছু ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেলেও বেসরকারিভাবে তেমন ত্রাণ তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। অনেকেই ত্রাণ সহায়তা পেলেও রান্না করার সরঞ্জাম না থাকায় শুকনো খাবারের ওপর নির্ভর হয়ে পড়েছেন অনেকেই। অপরদিকে চারণভূমি তলিয়ে থাকায় দেখা দিয়েছে গবাদিপশুর তীব্র খাদ্য সঙ্কট। কাঁচা ঘাস ও খড় না থাকায় গবাদিপশু নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে তাদের।

সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের চর ভগবতীপুরের বাসিন্দা মমেনা জানান, গরু নিয়ে খুব কষ্টে আছি। আমরা এক বেলা খেয়ে থাকতে পারলেও পশু তো আর পারে না। মানুষের পাশাপাশি তাদেরও খুব কষ্ট হচ্ছে।

উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের বালাডোবার চরের আদরী বেগম জানান, ১০-১২ দিন ধরে বানের পানিতে ভাসতেছি। এখানে নলকূপ তলিয়ে আছে। রান্না করতে পারছি না। শুকনো খাবারো নাই। খুব কষ্টে নৌকায় ও ঘরের উচু মাচানে বসবাস করছি। পানি কমার আশায় আছি কিন্তু পানি আবার বাড়তেছে। খুব দুঃচিন্তায় আছি।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর-এ মুর্শেদ জানান, বন্যা দুর্গত এলাকায় ৮৩টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। ২০ হাজার খাবার স্যালাইন, ২০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও পাঁচ হাজার ম্যাট্রো ট্যাবলেট বিতরণের জন্য দেয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার নদ-নদীর পানি সামান্য হ্রাস পেয়ে আবারো বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। বন্যা পুর্বাভাসের তথ্যানুযায়ী ভারতের উজানে ভারি বৃষ্টিপাত ফলে ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারের পানি সমতলে বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: আব্দুল হাই সরকার জানান, জেলার বন্যা কবলিতদের জন্য বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৫৪২ মেট্রিক টন চাল, ৩২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ও ২৩ হাজার ১২০ প্যাকেট শুকনো খাবার নয় উপজেলায় বিতরণ চলমান।


আরো সংবাদ



premium cement