০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি

লাশ মিললো সেই নতুন বরের, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯

তদন্ত কমিটির মেয়াদ বাড়ল আরো ৩ কর্মদিবস
উদ্ধার হয়েছে নতুন বর হিমালয়ের লাশ। - ছবি : সংগৃহীত

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে আজ বুধবার উদ্ধার অভিযানের চতুর্থ দিনের শেষ সময়ে আরো একটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে নৌকাডুবির ঘটনায় মুতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৯ জনে।

সবশেষ উদ্ধার হওয়া লাশটি হিমালয়ের (২৫)। তিনি একই উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের খালপাড়া গ্রামের বীরেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে। তিনি দেড় মাস আগে বিয়ে করেছিলেন।

উদ্ধার অভিযানে দায়িত্বে থাকা পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর কুমার রায় হিমালয়ের লাশ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করে জানান, বুধবার একজনসহ আউলিয়া ঘাটে নৌকাডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হলো। এখন পর্যন্ত আরো নিখোঁজ থাকল তিনজন।

এদিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় আরো তিন দিন বৃদ্ধি করেছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো: জহুরুল ইসলাম।

হিমালয়ের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় মাস আগে বন্যার সাথে বিয়ে হয় হিমালয়ের। গত রোববার হিমালয়-বন্যা দু’জনে মহালয়ার ধর্মসভায় যোগ দেয়ার জন্য বোদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন। করতোয়ার আউলিয়ার ঘাটে নদী পার হওয়ার জন্য দু’জনই চড়েন নৌকাতে। নৌকাডুবির ঘটনায় বন্যা বেঁচে ফিরে এলেও অন্যদের সাথে হারিয়ে ফেলেন স্বামী হিমালয়কে। বন্যাকে নিয়ে হিমালয়ের পরিবার দুর্ঘটনার দিন থেকেই হন্যে হয়ে বেড়িয়েছে নদীর তীরে তীরে। নৌ ট্রাজেডির চার দিনের মাথায় আজ বুধবার বিকেলে দুর্ঘটনাস্থলের কাছ থেকেই উদ্ধার করা হয় হিমালয়ের নিথর দেহ।

নৌ ট্র্যাজেডির চতুর্থ দিনের মতো আজ বুধবার সূর্যোদয়ের আগে থেকেই উদ্ধার অভিযানে নামে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয় উদ্ধারকারীরা। সেই সাথে তীরে জড়ো হতে থাকে নিখোঁজদের স্বজনসহ উৎসুক জনতা। তবে গত তিন দিনের চেয়ে বুধবার মানুষের চাপ কিছুটা কম ছিল করতোয়া পাড়ে। সারাদিন কোনো লাশ উদ্ধার না হওয়ায় সবাই যখন ফিরে যাচ্ছিন ঠিক তখনই উদ্ধার করা হলো হিমালয়ের নিথর দেহ।

এদিকে করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে নৌকাডুবির ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো: জহুরুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবারের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত কমিটির আহ্বায়কসহ অন্য সদস্যরা একই সময়ে উক্ত দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা প্রদান ও নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা প্রদানে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকায় তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের স্বার্থে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরো তিন কার্যদিবস বৃদ্ধির জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে আবেদন করলে তিনি সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।


আরো সংবাদ


premium cement