০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯, ৫ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

সুন্দরগঞ্জে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং

সুন্দরগঞ্জে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং - ছবি : প্রতীকী

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে প্রায় ১৪ ঘণ্টা। বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের আসা যাওয়ার কারণে প্রতিনিয়তই বাল্ব, ফ্যান, সুইচ, ক্যাপাসিটারসহ বিদ্যুতের বিভিন্ন উপকরণ পুড়ে যাচ্ছে। এর ফলে মারাত্মক বিপাকে পড়েছে সেচ-মোটর মালিকেরা।

চৈতন্য বাজারের অটোভ্যানচালক মিজানুর রহমান জানান, অনেক শখ করে চার্জার আটোভ্যান কিনেছি; কিন্তু গত এক মাস ধরে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক লোডশেডিংয়ের কারণে চার্জ দিতে না পারায় আধাবেলাও ভ্যান চালাতে পারছি না। তার ওপর বিভিন্ন জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। সবমিলিয়ে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

শোভাগঞ্জ গ্রামের সেচ-মোটরচালক মোজাম্মেল হক জানান, বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা যাওয়ার কারণে মোটর চালানো বিপদ হয়ে পরেছে। কারণ প্রতিদিন ক্যাপাসিটার পুড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সেচ-মোটর চালানো সম্ভব হবে না।

সুন্দরগঞ্জ বাজারের ওয়েল্ডিং কারখানার মালিক সাজু মিয়া জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। ১২ ঘণ্টার মধ্যে ৮ ঘণ্টা বিদ্যু থাকে না। অনেক কাজের অর্ডার নেয়া আছে, কিন্তু বিদ্যুতের কারণে কোনো কাজ করতে পারছি না।

সুমাইয়া কম্পিউটটার ও ফটোস্টাট দোকানের মালিক শফিকুল ইসলাম জানান, বিদ্যুতের কারণে কম্পিউটার এবং ফটোস্ট্যাট মেশিন চালানো যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মচারীর বেতন দিতে পারছি না। সংসার পরিচালনা অত্যন্ত কষ্টকর ব্যাপার হয়ে পড়েছে।

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সুন্দরগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম আব্দুল বারী জানান, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা এক লাখ ২৪ হাজার। সে মোতাবেক প্রতিদিনের বিদ্যুৎ চাহিদা ২১ মেগাওয়াট। সেখানে দিনে পাঁচ মেগাওয়াট ও রাতে আট মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এজন্য দিন-রাত মিলে প্রায় ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোহাম্মদ আল-মারুফ জানান, এটি আসলে জাতীয় সমস্যা। এখানে কারো কিছু করার নেই। এরপরেও সরকার সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করে যাচ্ছে।


আরো সংবাদ


premium cement