০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ৭ জিলহজ ১৪৪৩
`

রংপুরে চাঞ্চল্যকর খুনের শিকার শরিফের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায়

রংপুরে চাঞ্চল্যকর খুনের শিকার শরিফের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায়। - ছবি : সংগৃহীত

রংপুরের গঙ্গাচড়ার লক্ষিটারী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়িহাটে চাঞ্চল্যকর খুনের শিকার কৃষক শরিফ মিয়ার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন তারা এ অভিযোগ জানান।

কাশিয়াবাড়িহাটে প্রকাশ্যে বল্লম দিয়ে কুপিয়ে শরিফের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত রফিকুল ইসলামসহ অন্যদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার মাসহ পরিবারের লোকজন।

এ সময় তারা অভিযোগ করে বলেন, আসামি রফিকুলের হুমকি ধামকিতে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবারের প্রত্যেক সদস্য।

সংবাদ সম্মেলনে শরিফের বৃদ্ধা মা সোবেদা বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে আশরাফুল ইসলাম। এ সময় অপর ছেলে একরামুল ইসলাম, মৃত শরিফের স্ত্রী রেজিনা বেগম, নাতি লিটন খান, মিলন খান ও শিউলি বেগম, কন্যা নারজিনা বেগম, পুত্রবধূ হাওয়া বেগম, আম্বিয়া বেগমসহ পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, জমির বিরোধ নিয়ে ২৪ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষিটারী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়িহাটে শরিফ মিয়াকে (৫২) চায়ের দোকানে বল্লম দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকারী চরইশরকুল গ্রামের নেছাব উদ্দিনের ছেলে চিহ্নিত মাদক কারবারি রফিকুল ইসলামসহ (৪৫) ৩৪ থেকে ৩৫ জনের একটি দল। এ ঘটনায় নিহতের ভাই এমদাদুল হক গঙ্গাচড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করলে পুলিশ ১৯ সেপ্টম্বর ২০১৬ তারিখে আদালতে রফিকুল ইসলামসহ ১৮ জনের নামে অভিযোগ জমা হয়। আদালতের বিচারক সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং জেরা শেষে আগামী ২৯ মে ২০২২ তারিখে মামলাটির আর্গুমেন্টের তারিখ ধার্য করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চার্জশিটভুক্ত ১ নম্বর অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম একজন মাদক কারবারি ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তার নামে লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ থানায় ২৯ জুন ২০১২ তারিখে ২৯ বোতল ফেন্সিডিল ও পাঁচ কেজি গাজা উদ্ধারের মামলা হয়। ওই মামলায় লালমনিরহাটের স্পেশাল ট্রাইবুনাল জজ-৪ এর বিচারক গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে দু’বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। ওই মামলায় জামিন না নিয়ে আমার ছেলের হত্যাকারী রফিকুল প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এছাড়াও তার নামে ৩০ এপ্রিল ২০০৩ তারিখে গঙ্গাচড়ার জয়রামওঝা এলাকার আমজাদ হোসেনের স্ত্রী নারজিনা বেগমকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। নারজিনার পরিবারের অভিযোগ ছিল মামলার পর ওই গৃহবধূ নারজিনাকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করে রফিকুল। এছাড়াও রফিকুল ভুরারঘাট এলাকায় চাঞ্চল্যকর ৮৪ টুকরা করে এক ব্যক্তিকে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

সংবাদ সম্মেলনে মা সবেদা বেগম বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে নানাভাবে রফিকুল আমাকে ও আমার অন্য সন্তান এবং মামলার সাক্ষীদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছেন। এর-মধ্যে রফিকুল আমার পঞ্চম ছেলে একরামুল হককে রাস্তায় পেয়ে হুমকি দেন। রফিকুল বলেন, মামলায় রায় যদি তার বিপক্ষে যায় তাহলে তাকেও ভাইয়ের মতো মেরে ফেলা হবে। ঘটনাটি জানিয়ে আমার ছেলে একরামুল হক গত ২৪ মে ২০২২ তারিখে গঙ্গাচড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে আসার সময়ও হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বৃদ্ধা মা আরো বলেন, শুধু তাই নয়, মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে মামলার বাদি আমার তৃতীয় ছেলে এমদাদুল হককে হুমকি-ধামকি ও আর্থিক প্রলোভনে নিজের কবজায় রাখার চেষ্টা করছেন। এছাড়াও মামলার সাক্ষী আমার চতুর্থ ছেলে আশরাফুল, পঞ্চম একরামুল, ষষ্ঠ ছেলে এনামুলসহ চার বোন ও অন্য সাক্ষীদের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। এখন পর্যন্ত তার হুমকি-ধামকি অব্যাহত আছে। এছাড়াও রফিকুল এলাকায় প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছেন আমার কিছুই হবে না। মামলা থেকে খালাস পেয়ে এসে আমাদের পরিবারের সবাইকে আমার দ্বিতীয় ছেলে শরিফ মিয়ার মতো বল্লম ও তীর দিয়ে মেরে ফেলবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মামলার আর্গুমেন্ট ও রায়ের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই আসামি রফিকুল আমাদের জীবন দুর্বিসহ করে তুলছেন। আমার ছেলে শরিফের স্ত্রী সন্তানসহ আমাদের পরিবারের সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরেও যে ব্যক্তি জামিন না নিয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে পারে এবং মাদক কারবারি চালিয়ে যেতে পারে। তাতে আমরা মনে করি তিনি প্রভাবশালী। যার ফলে আমরা আরো বেশি উদ্বিগ্ন।

সংবাদ সম্মেলনে মা সোবেদা বেগম প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপার ও গঙ্গাচড়া থানার ওসির কছে হত্যাকাণ্ডের শিকার ছেলে শরিফের স্ত্রী সন্তানসহ, অন্য সন্তান ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে বলেন, ক্ষমতা কিংবা অর্থের জোরে কোনোভাবেই যেন রফিকুল আমার ছেলের হত্যা মামলাকে প্রভাবিত করতে না পারে। আমরা যেন ন্যায় বিচার পাই। রফিকুলসহ জড়িতদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হয়।


আরো সংবাদ


premium cement