২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯, ১ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

সোনাহাট স্থলবন্দর : ইমিগ্রেশন ভোগান্তি কমাবে, বাড়াবে রাজস্ব


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু না হওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পথ ঘুরে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করতে হচ্ছে। এতে উভয় দেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

ভারতের সেভেন সিস্টার খ্যাত রাজ্যগুলোর সাথে পণ্য আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম জোরদার করতে ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দেশের ১৮তম স্থলবন্দর হিসেবে সোনাহাট স্থলবন্দরের যাত্রা শুরু হয়। এই বন্দরের বার্ষিক রাজস্ব আয়ের পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি টাকা। ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হওয়ায় বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানির পরিমাণ বাড়ছে না।

ইমিগ্রেশন চালু হলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা মাত্র কয়েক মিনিটেই উভয় দেশে আসা-যাওয়া করে নির্বিঘ্নে ব্যবসায়িক কার্য সম্পাদন করতে পারবেন। এতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে এবং সরকার স্থলবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে।

সোনাহাট ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক ও ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী লাভলু বলেন, ‘ইমিগ্রেশন চালু হলে এই স্থলবন্দর দিয়ে ব্যবসায়ীরা সহজেই সেভেন সিস্টার খ্যাত ভারতের সাতটি রাজ্য ও ভুটান যেতে পারবেন তেমনি দেশের ভ্রমণ পিপাসুরা সহজেই ভারত, ভুটান ও নেপাল যেতে পারবেন।’

সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সভাপতি আবু তাহের ফরাজি বলেন, ‘ভারত থেকে ১০টি পণ্য আমদানি ও বাংলাদেশী সকল পণ্য রফতানির অনুমতি রয়েছে। বন্দর চালুর পর থেকে পাথর ও কয়লা আমদানি করা হচ্ছে। উদ্ভিদজাত পণ্য আমদানির সুযোগ থাকলেও তা আমদানি করা যাচ্ছে না। অপরদিকে হাতেগোনা কয়েকটি পণ্য রফতানি হচ্ছে। ইমিগ্রেশন চালু করা হলে সব সমস্যার সমাধান হবে।’

সোনাহাট স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামান বলেন, ‘ইমিগ্রেশন না থাকায় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সাথে ঠিকমতো ব্যবসায়িক আলোচনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ইমিগ্রেশন চালু হলে মাত্র কয়েক মিনিটেই বন্দরের ব্যবসায়ীর বাংলাদেশ-ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াত করতে পারবেন। এতে আমদানি-রফতানির পরিমাণ বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সেইসাথে সরকারে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া ভারতে চিকিৎসা নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সুবিধা হবে।’


আরো সংবাদ


premium cement