২৩ এপ্রিল ২০২১
`

ভালোবাসা-যৌনতার ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় : ২ কলেজছাত্রীসহ গ্রেফতার ১১

ভালোবাসা-যৌনতার ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় : ২ কলেজছাত্রীসহ গ্রেফতার ১১। - ছবি : নয়া দিগন্ত

প্রথমে প্রেম-ভালোবাসা, তারপর উদ্দাম যৌনতা। পরে আটকে রেখে ভিডিও করে ইন্টারনেটে প্রচার ও মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ছয় নারীসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। এরমধ্যে দুজন কলেজছাত্রী ও একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের স্ত্রীও রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত নগরীর নুরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় ১৩টি মোবাইল, তিনটি এটিএম কার্ড এবং নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে রংপুর কোতোয়ালি থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রশিদ।

তিনি বলেন, ‘নগরীতে বাইরে থেকে আসা বিভিন্ন সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার লোকজনকে গ্রেফতারকৃত করপোরেট সেক্স প্রতারক সিন্ডিকেটের নারী সদস্যরা প্রথমে সোস্যাল মিডিয়া এবং ফোনের মাধ্যমে প্রেম-ভালোবাসার ফাঁদে ফেলতো। পরে তাদের নগরীর নিজস্ব এবং ভাড়া করা বাসায় নিয়ে যৌনতায় মেতে উঠতো। এভাবে কিছুদিন চলার পর ফাঁদে পড়া পুরুষদেরকে চক্রটির পুরুষ সদস্যরা মিলে জিম্মি করে ভিডিও করতো। পরে সেই ভিডিও ভাইরাল করা এবং মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া হতো।’

ওসি জানান, ‘এই ভালোবাসার ফাঁদে পড়া নীলফামারীর জলঢাকার এক ব্যবসায়ীর মামলার ভিত্তিতে আমরা মূলহোতা নগরীর ধাপের গাইবান্ধা বিআরটিসি বাস কাউন্টারের পেছনের ভাড়া বাসা থেকে বীনা রানী ওরফে মুক্তা ওরফে সুমিকে গ্রেফতার করি। ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বীনা রানী চক্র আড়াই লাখ এবং তার বন্ধুর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। বীনা নগরীর নুরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় চারটি বাসা ভাড়া নিয়ে ছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশা ও বয়সী নারীদের দিয়ে এই করপোরেট সেক্স ও প্রতারণার বাণিজ্য করতেন। তার নামে মানব পাচারের অভিযোগে দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রের একটি বড় অংশের সন্ধান মেলে।’

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার ভোর রাত পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রেম-যৌনতার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়া করপোরেট সেক্স সিন্ডিকেটের হোতা সোহাগী ওরফে রাজিয়া (৩২), কলেজছাত্রী জোনাকী ওরফে তিশা (২১) ও জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে জান্নাতি (২০), শাহনাজ (৩৫), লীজা মনি (২২), জাহাঙ্গীর আলম কচি (৩৪), আহসান হাবিব (২৫), বিষ্ণু রায় আকাশ (১৯), সেকেন্দার রাজা (৩৫), শ্যামল ওরফে নুর ইসলামকে (৫৫) গ্রেফতার করি।’

ওসি আরো বলেন, ‘গ্রেফতারদের মধ্যে একজন পুলিশের স্ত্রীও রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার ফাঁদে ব্যবহার করা ১৩টি মোবাইল, জিম্মি করে হাতিয়ে নেয়া তিনটি ব্যাংক এটিএম কার্ড এবং নগদ ২২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।’

অভিযানে অংশ নেয়া কোতয়ালী থানার এসআই মজনু জানান, ‘এই সংঘবদ্ধ চক্রটি এরই মধ্যে নগরীর ঘোড়াপীর মাজার এলাকায় গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত এক কর্মকর্তাকে ভালোবাসার ফাঁদে ফাঁসিয়ে জোরপূর্বক এটিএম কার্ড ও পিন নিয়ে ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং তার পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা এবং নগদ ৫ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয়। এ ধরণের আরো অনেকেই প্রতারিত হয়েছেন সিন্ডিকেটটির কাছে।’

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন জানান, ‘রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন নিজস্ব এবং ভাড়া বাড়িতে একটি সংঘবদ্ধ নারী-পুরুষ চক্র করপোরেট সেক্সের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ নানা ধরনের অপরাধের সাথে যুক্ত। এসব নারী, পুরুষ, ছাত্রী ছাড়াও বিভিন্ন পেশার সাথে যুক্ত। এ ধরণের কিছু নিজস্ব এবং ভাড়াবাসা চিহ্নিত করে সেখানে নজরদারি বাড়ানো হযেছে।’

এদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।



আরো সংবাদ