২০ জানুয়ারি ২০২১
`

গেটের সামনে প্রাচীর, অবরুদ্ধ বৃদ্ধার পরিবার

গেটের সামনে প্রাচীর, অবরুদ্ধ বৃদ্ধার পরিবার -

নিজ বাড়িতে আটকা পড়ে মানবেতার জীবন যাপন করছে অসহায় ৬০ উর্ধ্ব জবেদা বিবির পরিবার। গত দুই মাস ধরে তারা নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের কাটলা বাজারে বাড়ির মূল ফটকের সামনে প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করায় অবরুদ্ধ হয়ে জীবন যাপন করছে ওই পরিবার। এখন ওই পরিবারের সদস্যদের ওয়াল টপকে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

প্রতিকারের আশায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র কাছে অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা না হওয়ায় তাদের এখনো যাতায়াতকালে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিবেশীর অমানবিক আচরণ কোনোভাবে মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। এ ঘটনাকে চরম অমানবিক বলে মনে করেন তারা।

সরজমিনে উপজেলার কাটলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ৬০ উর্ধ্ব জবেদা বিবির বাড়ির প্রধান গেটের সামনে বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে কাটলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস। চলাচলের রাস্তা কিছুটা থাকলেও প্রতিবেশী শাহানাজ পারভীন ইটের প্রাচীর নির্মাণ করায় এখন পুরোপুরি আটকে গেছে বৃদ্ধা জবেদা বিবির বাড়ির গেট। যার ফলে নির্মানাধীন ভূমি অফিসের তিন থেকে চার ফিট উচ্চতার বাউন্ডারি ওয়াল টোপকে বাড়িতে প্রবেশ করতে হচ্ছে ৬০ উর্ধ্ব জবেদা বিবি ও তার পরিবারের সদস্যদের।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান খাইরুল আলম রাজুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৃদ্ধার বাড়ির সামনে প্রাচীর নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করার বিষয়টি অমানবিক। প্রাচীর নির্মাণকারী শাহানাজ পারভীন বীর মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে। এ কারণে সমাধান হতে বিলম্ব হচ্ছে তবে উভয়ের সাথে আলোচনা চলছে বিষয়টি মিমাংসা করে বৃদ্ধার চলাচলের জন্য রাস্তা বের করে দেয়া হবে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসাহক আলী মন্ডল বলেন, মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হবে না তা হতে পারে না। আইন সবার জন্য সমান। বৃদ্ধার পরিবারের সাথে যে অচরণ করা হয়েছে তা অন্যায় ও অমানবিক। শাহানাজ পারভীন যে কাজটি করছে
তা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য লজ্জাজনক। তিনি প্রশাসনের কাছে বৃদ্ধার পরিবারের চলাচলের জন্য রাস্তা বের করে দেবার জোর দাবি জানান।

বৃদ্ধা জবেদা বিবি জানান, এতোদিন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করলেও বাড়ির প্রধান দরজার সামনে ভূমি অফিস এবং প্রতিবেশী শাহানাজ বেগম ইটের প্রাচীর নির্মাণ করায় এখন তিন থেকে চার ফিট উচ্চতার বাউন্ডারি ওয়াল টোপকে বাড়িতে প্রবেশ করতে হয়। এভাবে চলাচল করতে গিয়ে আমাকে কয়েকবার দুর্ঘটনার শিকারও হতে হয়েছে।

বৃদ্ধার ছেলে নাসির উদ্দিন জানান, নির্মানাধীণ ভূমি অফিসের পিছনের দিকে সরকারিভাবে চলাচলের রাস্তা দেয়া হলেও প্রতিবেশী শাহানাজ পারভীন তার লোকবল নিয়ে ওই জায়গায় বাড়ির সামনে ইটের প্রাচীর তুলে তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। অথচ জায়গাটি শাহানাজ পারভীনের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজুলর রহমানের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে কেনা হয়েছে। সেখানে শাহানাজ পারভীনেরও স্বাক্ষর আছে। আমি সুষ্ঠ বিচারের আসায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওর নিকট অভিযোগ দিয়েছি।

স্থানীয়রা জানান, ভূমি অফিস নির্মাণের সময় জনসাধারণের চলাচলের জন্য অফিসের পিছন দিকে সরকারিভাবে রাস্তা ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্ত শাহানাজ বেগম ওই বৃদ্ধার বাড়ির সামনে প্রাচীর নির্মাণ করে পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এখন পরিবারটি বাড়ি থেকে বের হতেও পারছে না আবার বাড়িতে ঢুকতেও পারছে না। ফলে তারা মানবেতার জীবন যাপন করছে। তারা অনতিবিলম্বে বৃদ্ধার ও তার পরিবারের চলাচলের রাস্তার ব্যবস্থা করে দেবার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।

জানা গেছে, সম্প্রতি শাহানাজ বেগমের লোকজন নির্মাণাধীন ভূমি অফিসের পিছনে সরকারি রাস্তা দখল করে আরো একটি ইটের ওয়াল নির্মাণের সময় বিরামপুর থানা পুলিশ এসে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে ওয়াল নির্মাণ করলে একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে থানায় মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে শাহানাজ পারভীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জায়গা আমি কাউকে ব্যবহার করতে দিব না।



আরো সংবাদ