২৫ নভেম্বর ২০২০

রংপুরে এএসআইয়ের নেতৃত্বে গণধর্ষণ : আরো ২ জন গ্রেফতার


রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএসআই রায়হানুল ইসলামের নেতৃত্বে নগরীর হারাগাছ থানার ক্যাদারের পুল এলাকায় একটি বাড়িতে নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই।

এ নিয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হলো। তবে এখনো এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ লাইনে ক্লোজড থাকা আটক এএসআই রায়হানুলকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানান যায়নি।

চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির তদন্তভার পাওয়া পিবিআইয়ের রংপুর জেলা পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানান, এ ঘটনায় আমরা আরো দু’জনকে গ্রেফতার করেছি। এ নিয়ে মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হলো। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে আদালতে নেয়া হবে। তবে নতুন গ্রেফতার হওয়ার দু’জনের মধ্যে পুলিশ লাইনে ক্লোজড থাকা এএসআই রায়হানুল আছে কিনা সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

তবে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জানান, অভিযুক্ত এএসআইকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে পুলিশে লাইনে ক্লোজড করে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে। তারা চাওয়া মাত্রই আমরা রায়হানুলকে তাদের কাছে হস্তান্তর করবো।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল আলীম মাহমুদ জানিয়েছেন, যেহেতু ঘটনাটিতে মেট্রো ডিবি পুলিশের একজন এএসআই এজহারভূক্ত আসামি। সে কারণে নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু তদন্তের জন্যই হারাগাছ থানা থেকে মামলাটি তদন্তের ভার পুলিশ মহা পরিদর্শকের নির্দেশনায় আমরা পিবিআইকে দিয়েছি। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেতে চাই।

মামলা ও পারিবারিক সূত্র জানায়, রংপুর মহানগরীর হারাগাছ থানার ময়নাকুঠি কচুটারি এলাকার নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএস আই রায়হানুল ইসলাম। পরিচয়ের সময় রায়হান তার ডাক নাম রাজু বলে জানায় ওই ছাত্রীকে। সম্পর্কের সূত্র ধরে রোববার সকালে ওই ছাত্রীকে রায়হান ডেকে নেয় ক্যাদারের পুল এলাকার শহিদুল্লাহ মিয়ার ভাড়াটিয়া সুমাইয়ার পারভীন ওরফে মেঘলা ওরফে আলেয়ার বাড়িতে। সেখানে ওই ছাত্রীকে তিনিসহ আরো কয়েকজন পরিচিত যুবককে দিয়ে ধর্ষণ করান। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী অসুস্থ অবস্থায় সেখান থেকে বের হয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানায়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ ওই ছাত্রীসহ ভাড়াটিয়া আলেয়া বেগমকে আটক করে করে থানায় নিয়ে যায়। খবর দেয়া হয় পরিবারকে।

ছাত্রীর বাবা একই দিন পুলিশ সদস্য রাজুসহ দু’জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত দু’জনসহ অন্যান্য অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের নামে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। রাত পৌনে ১২টায় পুলিশ অসুস্থ ছাত্রীকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় সুমাইয়া পারভীন মেঘলা (২২) ও অপর সহযোগী সম্পা বেগমকে ওই দিন গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলাটি পিবিআইয়ে হস্তান্তর হওয়ায় সোমবার সন্ধ্যায় ওই দুই গ্রেফতার নারীকে পিবিআইয়ে হস্তান্তর করে পুলিশ।

এছাড়াও সোমবার ঘটনার দুই নম্বর আসামি মেট্রো ডিবি পুলিশের এসএসআই রায়হানুল ইসলাম রাজুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার পর আটক করে পুলিশ লাইনে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এরপর সোমবার রাতে পিবিআই অভিযান চালিয়ে আরো দু’জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। যেকোনো মুহূর্তে তাদের আদালতে তোলা হতে পারে।


আরো সংবাদ