৩০ অক্টোবর ২০২০

রংপুরে শতাব্দীর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড

রংপুরে শতাব্দীর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড - নয়া দিগন্ত

রংপুরে এক দিনে সর্বোচ্চ ৪৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ১০০ বছরের ইতিহাসে রংপুরে এত বৃষ্টিপাত হয়নি বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান।

তিনি জানান, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুরে ৪৬৬ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরমধ্যে শুধু রোববার সকাল ৬ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১৬৬ মিলিটিটার। আর শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৩৩ মিলিমিটার।

তিনি বলেন সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসে ১৫ দিন বৃষ্টি হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ২০ দিনেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে গড়ে একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টি ধরা হয় ২৬৬ মিলিমিটার। কিন্তু তা অতিক্রম করে ৪৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হলো একদিনে। আরও ২ দিন এই বৃষ্টিপাত থাকতে পারে। তবে সেটি হবে হালকা।

এদিকে বৃষ্টির পানিতে রংপুর মহানগরীর ২৬৩ কিলোমিটার এলাকার ৭০ ভাগ এলাকায় নজীরবিহীন জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন অন্তত ২ লাখ মানুষ। তাদের প্রাত্যহিক জীবনে নেমে এসেছে স্মরণকালের দুর্ভোগ। বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি ছিল আরো চরমে।

নগরীর শ্যামা সুন্দরী ও কেডি কানেল ভরাট থাকা এবং পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি বের হতে পারছে না। সন্ধায় নগরীর মুল সড়কের অনেক জায়গায় ছিল হাটু পানি।

তবে মেয়র বলছেন, আমরা আসার পর ১২০ কিলোমিটার ড্রেনের কাজ করেছি। করোনার কারণে আরও ৮০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মানের কাজে হাত দিতে পারেনি ঠিকাদার। এই অসুবিধা সাময়িক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অতি বর্ষণের কারণে নগরীর নতুন পুড়াতন ৩৩ টি ওয়ার্ডেই জলবাদ্ধতা তৈরি হয়েছে। নগরীর ৭০ ভাগ এলাকায় কোথাও কোমড় কোথাও হাটু পানি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বাড়িঘরে পানি উঠায় মানুষ আছেন চরম দুর্ভোগে। দিনমজুরদের দেখা দিয়েছে কাজের অভাব। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির আমনের আবাদ। শুধু তাই নয়, শনিবার রাত ১১ টার পর থেকে পুরো নগরী বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রোববার সন্ধায় ৭০ ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ চালু করতে পেরেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বৃষ্টির পানিতে নগরীর ইঞ্জিনিয়ারপাড়া, মুন্সিপাড়া, কামারপাড়া, আদর্শপাড়া, মুলাটোল, বৈরাগি পাড়া, কামাল কাছনা, তাজহাট, কেরানীপাড়া স্টেশন, সর্দারপাড়া, পার্কের মোড়, মর্ডান মোড়, বালাটারি, খলিফা পাড়া, বাবু খা, কলেজ পাড়া, খামার পাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, জুম্মাপাড়া, হনুমানতলা, গুড়াতিপাড়া, নূরপুর, মহাদেবপুর, আলমনগর, তাজহাট, মাহিগঞ্জ, ডিমলা, বোতলা, খাসবাগ, বাবুখাঁ, গণেশপুর, টার্মিনাল, বানিয়াপাড়া, পাঠানপাড়া, বড়বাড়ি, নিসবেতগঞ্জ, নজিরেরহাট, খলিফাপাড়া, বউ বাজার, পার্বতীপুর, টেক্সটাইল মোড়, ভগিবালাপাড়া, হাজিপাড়া, কেরানিরহাট, সিওবাজার, হাজিরহাট, উত্তম, হাজিপাড়া, মেডিক্যাল পুর্বগেট, পরশুরাম, শিরিনপার্ক, কদমতলি, পান্ডারদিঘী, জলকর, আমাশু কুকরুল, সিগারেট কোম্পানী, সাতমাথা, চিকলী বিল, নাচনিয়া, মেকুড়া, সরদারটারী, মাহিন্দ্রা, জোড়ইদ্রা, ডিমলা, রঘু, নগর মীরগঞ্জ, তামপাট, তালুক তামপাট, নব্দিগঞ্জ, কলাবাড়ি, খাসবাগ, দর্শনা, মডার্ন, ঘাঘটপাড়া, ধর্মদাস, শেখপাড়া, কলেজপাড়া, আশরতপুর, ভুরারঘাটসহ নগরীর অন্তত ১০৫ টি পাড়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দি পড়েছে ৫০ হাজার পরিবার। তলিয়ে গেছে আমন, পাটসহ শাকসবজির তে।

শুধু তাই নয়, মহানগরীর স্টেশন রোড, কলেজ রোড, জিএল রায় রোড, সেন্ট্রাল রোড, কাচারী বাজার, নিউ সেনপাড়া, সালেক পাম্প, জাহাজ কোম্পানী, মোড় পায়রা চত্বর, কোতয়ালী থানার সামন, জীবন বীমা মোড়, মেয়রের বাড়ির সামনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সড়গুলোতে পানি উঠে গেছে।

মানিক ঘোষ নামের এক দোকানী জানান, ১৯৬১ সালের আগে একবার বন্যা হয়েছিল। তখন কোতয়ালী থানা ডুবে গিয়েছিল। এরপর নগরীতে এত পানি আসলো শুধু এবার।

লাবু নামের এক ব্যবসায়ি জানান, ১৯৮৮ সালের বন্যায়ও নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়ে পানি উঠে নি। কিন্তু এবার সেখানে হাটু পানি।

গনেশপুর এলাকার বাসিন্দা ও একটি স্কুলের সহকারী শিক্ষক আনজুয়ারা বেবি জানান, ড্রেনগুলো ভালো না করার কারনেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ড্রেনের পানি ঠিক মতো নামছে না। উল্টো উজানে আসছে। এই অবস্থা দ্রুত সমাধান করা না গেলে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে ভুগবে নগরবাসি।

রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানিয়েছেন, সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর কিছু কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। কিন্তু ২-১ দিনের মধ্যেই সে পানি নেমে যায়। মূলত গত ২৪ ঘণ্টায় ভারিবর্ষণ হয়েছে এবং ঘাঘটের পানির লেয়ার উপরে উঠে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় নগরীর কিছু কিছু জায়গায় পানি উঠেছে। আমরা আসার পর প্রায় ১২০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করেছি। আরও ৮০ কিলোমিটার ড্রেনের কাজের ওর্ডার দেয়া আছে। করোনার কারণে ঠিকাদাররা কাজ শুরু করতে পারেন নি। এসব ড্রেন নির্মাণ করা হলে নগরীর প্রাথমিক ড্রেনেজ সিস্টেম উন্নত হবে। তখন আর কোন জলবদ্ধতা থাকবে না। সাময়িক অসুবিধার জন্য তিনি নগরবাসির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।


আরো সংবাদ

সুবিধাজনক অবস্থায় আজারবাইজান, বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ঘরে ফিরল ক্রিকেট, জিম্বাবুয়েকে ২৬ রানে হারালো পাকিস্তান ‘ফ্রান্সকে বয়কট করা ঈমানি দায়িত্ব’ মহানবী (সা:)-কে অবমাননার প্রতিবাদে বগুড়ায় তৌহিদি জনতার ঢল ফ্রান্স-ভারতসহ ইসলামের দুশমনদের পণ্য বর্জন করুন : মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচেই জয় পেল পাকিস্তান আবদুল জলিলের ইন্তেকালে জামায়াতের শোক ফ্রান্সে ইসলামের অবমাননার প্রতিবাদে ঢাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ ৫০ ফুট লম্বা অজগর নিয়ে তোলপাড়, জানুন আসল রহস্য(ভিডিও) বঙ্গোপসাগরে ভারতের মিসাইলের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ তুরস্কে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৪

সকল

নারীদের হিজাব, পুরুষের টাকনুর ওপর পোশাক পরে অফিসে আসার নির্দেশ (৪০৩৯৪)অফিসে ধর্মীয় পোশাক, নোটিশ প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ (১৮১৬০)ফরাসিদের শাস্তি দেয়ার অধিকার মুসলমানদের রয়েছে : মাহাথির (১১০৪১)সরব হচ্ছেন হাজী সেলিমের ভিকটিমরা (৯৯১১)আর্মেনিয়ার দুটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করলো আজারবাইজান (৯২২৮)র‌্যাবের শীর্ষ কমান্ডারদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরদের আহ্বান (৭৮৩০)ঢাকায় আসছেন এরদোয়ান (৭৭৫৯)রংপুরের জুয়েলকে যে অভিযোগে হত্যা করা হয়েছে তা মানতে রাজি নয় স্বজনরা (৭৬৬৮)জি কে শামীমকে জামিনে সহায়তার অভিযোগে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে দুদকে তলব (৬৭৫৫)অফিসে ধর্মীয় পোশাক, যে যুক্তি দিলেন জনস্বাস্থ্যের পরিচালক (৫৪৫৯)