১২ আগস্ট ২০২০

অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে দিনাজপুরের বিরল স্থলবন্দর

অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে দিনাজপুরের বিরল স্থলবন্দর - ছবি : নয়া দিগন্ত
24tkt

অবশেষে চালু হতে চলেছে দিনাজপুরের বিরল স্থলবন্দর। পশ্চিমবঙ্গের রাধিকাপুর হয়ে ভারত, নেপাল এবং ভূটানের সাথে ৪ দেশের মধ্যে সরাসরি পণ্য আমদানি রফতানির পাশাপাশি যাত্রীও পরিবহন করা যাবে রেলপথ ও সড়ক পথে। এতে সরকারি রাজস্ব আদায় এবং ভাড়া বাবদ রেলওয়ের আয় বৃদ্ধি ছাড়াও সময় ও পণ্য পরিবহনে ব্যয় কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সোমবার বিরল স্থলবন্দরের স্থান পরির্দশনে এসে বন্দরটি দ্রুত চালুর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি করেছেন রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

ব্রিটিশ ও পরবর্তী সময়ে দিনাজপুরের বিরল সীমান্ত দিয়ে ভারতের রাধিকাপুর রেলওয়ে স্টেশন হয়ে পণ্য এবং যাত্রী পরিবহন করা হত প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে। ২০০৫ সালে ভারতীয় এলাকায় রেলপথ ব্রডগ্রেজে রূপান্তর করা হলে বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। লাভজনক ওই রেলপথে আবারো ৪ দেশিও ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপের আওতায় ২৫ বছরের জন্য বিরল স্থলবন্দর লিমিটেডের নামে একটি বেসরকারি অপারেটরের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২০০৬ সালে। এজন্য অবকাঠামো তৈরিতে সাড়ে ১৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে ওই সময়ে। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু করা যায়নি বন্দরের কার্যক্রম। তবে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মিটার গেজ রেলপথ ডুয়েল গেজে রূপান্তরের পাশাপাশি আধুনিকায়ন করা হয়েছে রেলপথসহ বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন।

জটিলতা কাটিয়ে অচিরেই পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দর চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরুর আগে বাংলাদেশি অংশে ৪ লেনের বাড়তি রেলপথ তৈরির প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই বাছাই শেষে দ্রুতই কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এমপি। বিরল স্থলবন্দর চালু হলে ওই এলাকার অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে ৪ দেশের ব্যবসা বাণিজ্য।

স্থলবন্দরের স্থান পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিরল পৌরসভার মেয়র সবুজার সিদ্দিক সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইমাম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো: মাহমুদুল আলম, ৪২ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো: রেজাউল করিম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বিরল স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন, পরিচালক ইকবাল চৌধুরী, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এ্যাডভোকেট মো: রবিউল ইসলাম রবি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রমাকান্ত রায়, ভান্ডারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মামুনুর রশিদ মামুন, শহরগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মুরাদ প্রমুখ।


আরো সংবাদ