২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১, ১৪ শাওয়াল ১৪৪৫
`

বিয়ে-প্রতারণা মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন সাবেক এমপি আরজু

পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আজিজুল হক আরজু ওরফে ফারুক। - ছবি : সংগৃহীত

বিয়ে, প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার দায় হতে পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আজিজুল হক আরজু ওরফে ফারুককে অব্যাহতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (২৯ মার্চ) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর বিচারক বেগম সামছুন্নাহারের আদালতে মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। মামলার দায় হতে আরজু অব্যাহতি পেলে কোনো আপত্তি থাকবে না বলে আদালতকে জানান মামলার বাদি। শুনানি শেষে আদালত মামলার দায় হতে তাকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

নিজের নাম-পরিচয় পরিবর্তন করে তালাকপ্রাপ্ত নারীকে বিয়ে ও প্রতারণার ঘটনায় এ মামলা করা হয়। ওই নারী গত বছরের ২২ এপ্রিল এক আইনজীবীর মাধ্যমে মামলাটি করেন। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর বিচারক বেগম সামছুন্নাহারের আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত ১৩ মার্চ ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর বিচারক বেগম সামছুন্নাহার আপস মীমাংসার শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০০ সালের ডিসেম্বরে বাদির প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি করার সময় বাসায় প্রায় নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছিলেন। তখন তার স্বজনরা তাকে আবারো বিয়ে দেয়ার জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে ২০০১ সালের শেষ দিকে বাদির চাচার মাধ্যমে আসামির (খন্দকার আজিজুল হক আরজু ওরফে ফারুক) সাথে তার পরিচয় হয়। পরে আসামি নিয়মিত বাদির সাথে যোগাযোগ রেখে তাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে সফল হন। আসামি তাকে জানান, তার প্রথমপক্ষের স্ত্রী মারা গেছেন। এতে আরো বলা হয়, সামাজিক নির্ভরতা ও একাকিত্বের অবসানসহ নতুন সংসার শুরু করার মাধ্যমে বাদি আসামিকে মনেপ্রাণে ভালোবেসে ফেলেন এবং বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হন। ২০০৩ সালের ১০ ডিসেম্বর আসামির সাথে তার বিয়ে হয়। ২০০৮ সালের ১৬ জানুয়ারি তাদের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। সন্তান গর্ভে আসার পর আসামি বিভিন্ন ছলচাতুরির মাধ্যমে বাচ্চা নষ্ট করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাদির দৃঢ়তার জন্য তা করতে পারেননি। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর আসামির আচার-আচরণে পরিবর্তন আসে। বাসায় আসা কমিয়ে দেন। বাদির নামে একটি ফ্ল্যাট কিনে দেয়ার কথা বললে বাদির বাবার ১০ লাখ টাকা এবং জমানো আট লাখ টাকা ও ১৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে আসামিকে টাকা দিলেও কোনো ফ্ল্যাট কিনে দেননি এবং কোনো টাকাও ফেরত দেননি।

একপর্যায়ে আসামি বাদির বাসায় আসা বন্ধ করে দেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার প্রথমপক্ষের স্ত্রী জীবিত। সে ঘরে কন্যাসন্তান আছে। আরো জানতে পারেন, আসামি এরআগে বাদির কাছে নিজের নাম ফারুক হোসেন হিসেবে প্রচার করলেও প্রকৃতপক্ষে তার নাম খন্দকার আজিজুল হক আরজু। মিথ্যা তথ্য ও পরিচয় দিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্যই বাদিকে বিয়ের নামে প্রতারণা করেছেন আসামি। এরপর আসামি কয়েকবার নিজে ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে বাদিকে হত্যার উদ্দেশে আক্রমণ করেন। একপর্যায়ে আসামি বাদির সাথে বিয়ে, গর্ভপাত ও ঔরসজাত কন্যার পিতৃপরিচয় সরাসরি অস্বীকার করেন।

এ ঘটনায় ওই নারী গত বছরের ২২ এপ্রিল শিক্ষানবিশ এক আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে মামলা করেন। ট্রাইব্যুনাল বাদির জবানবন্দি নিয়ে পিবিআইকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের আদেশ দেন। অভিযোগ তদন্তের পর ঢাকা মহানগর উত্তর পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম গত ৫ জানুয়ারি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

মামলার তদন্তে বাদির কন্যা সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় কন্যাসন্তান বাদির গর্ভজাত এবং আসামি জন্মদাতা পিতা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সূত্র : বাসস


আরো সংবাদ



premium cement